আজ “বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস”: এই বিশেষ দিনে “খবর২৪ঘন্টা”-র বিশেষ প্রতিবেদন

World-Population-Day-2016-Slogan-Quotes-Wishes-Sayings-SMS-Images-Posters-Whatsapp-Status-FB-DP
শেয়ার করুন সকলের সাথে...

web Desk:   বিশ্বের নিজস্ব নিয়মে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এক্ষেত্রে অনেকেই মনে করেন মানুষ নিয়ম তৈরি করেছে আবার কারওর মতে সবটাই প্রকৃতির কারণে ঘটে। আসলে আধুনিক জটিল সময়ে বিশ্ব জনসংখ্যা উত্তরোত্তর বেড়েই চলেছে। একদিকে স্বাস্থ্য পরিষেবার উন্নতি ঘটেছে অপর দিকে শিক্ষা, জ্ঞান, মেধাও ঊর্দ্ধমুখী। মানুষ এখন অনেক বেশি গড় আয়ুর। বাঁচতে শিখেছে মানুষ নামক শ্রেষ্ঠ প্রাণী।

“দেশ বলতে কেবল তো মাটির দেশ নয়, সে যে মানব-চরিত্রের দেশ” – রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

বিশ্বের সামগ্রিক পরিচয় কেবলমাত্র তার ভূতাত্ত্বিক বিশ্লেষণে নয় তার সাথে মানবগোষ্ঠীর নৃতাত্ত্বিক পরিচয়ও প্রয়োজন। নানা ভূতাত্ত্বিক উপকরণের সমাহারে বিশ্ব গঠিত, তবু নৃতাত্ত্বিক উপকরণের পূর্ণ পরিচয়, জাতির সামগ্রিক পরিচয় যে আদম সুমারির (সেনসাস) মাধ্যমে হয়ে থাকে, সেখানেই চরম বাস্তবটা দেখা গেছে। পৃথিবীর জনসংখ্যা প্রায় সাড়ে সাতশো কোটি। আসলে জনসংখ্যার মধ্য দিয়ে দেশের অতীত ও বর্তমানের বিজ্ঞানসম্মত সামগ্রিক তথ্য পাওয়া যায়। দেশের সামগ্রিক পরিচয়ের দর্পণ হল জনসংখ্যা। লোক সংখ্যা ও তার বৃদ্ধির হার, নারী-পুরুষের অনুপাত, জন্মহার-মৃত্যুহার – এসব লোকগণনার অঙ্গ। যদিও এটুকুই সব নয়, তার সাথে রয়েছে কোনও দেশের সামাজিক বিন্যাস, অর্থনৈতিক চিত্র এবং সাংস্কৃতিক রূপবৈচিত্রের বিশদ বিবরণও লোকগণনার গুরুত্বপূর্ণ দিক। সামগ্রিক ভাবেই জনসংখ্যার বিষয়টি দেখতে হবে।

Image result for world population day

কেন বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস?

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস উদযাপনের কথা ভাবতেই স্মৃতিতে ভেসে আসে বিশ্বের জনসংখ্যা বর্তমানে সাড়ে সাতশো কোটিরও বেশি১৯৮৭ সালের ১১ জুলাই যুগোশ্লোভাকিয়ায় যে শিশুটি সর্বশেষ জন্মগ্রহণ করে সেই হচ্ছে পৃথিবীর ৫০০ কোটিতম মানব সন্তান।

বিশ্বের জনসংখ্যা ৫০০ কোটিতে উন্নীত হওয়ার শুভ দিনটিকে স্মরণ করে বিশ্বব্যাপী পালিত হয়ে আসছে ১১ জুলাই। বিশ্ব জনসংখ্যা গণনা করা হচ্ছে ২০৫০ সালে প্রায় ১০০০ কোটিতে পৌঁছাবে। তার ভিতরে ৬০ শতাংশ জনগণ বসবাস করবে শহর-নগর-বন্দরে।

গোড়ার কথা….

প্রথমবারের মতো বিশ্ব জনসংখ্যা সম্মেলন যখন ইটালির রোম-এ অনুষ্ঠিত হয় ১৯৫৪ সালে, তখন বিশ্বব্যাপী জনসংখ্যা বিষয়ক তথ্য বিনিময় ছিল আলোচনার বিষয়বস্তু। এমনকি ১৯৬৫ সালে বেলগ্রেডে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বিশ্ব জনসংখ্যা সম্মেলনেও মূলক জনসংখ্যা সম্পর্খিত বৈজ্ঞানিক গবেষণার উপর আলোচনাকে প্রাধান্য দিয়েছিল এবং জনসংখ্যা হ্রাস অথবা মা ও শিশু স্বাস্থ্যের প্রতি অধিকতর গুরুত্ব আরোপ করে নীতি-নির্ধারণ করতে হবে, এই জাতীয় ভাবনা প্রাধান্য পায়নি। যদিও জনসংখ্যা কিভাবে হ্রাস পায় এ নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয় ১৩৭টি দেশের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে রোমানিয়ায় রাজধানী রুখারেষ্ট-এ ১৯৭৪ সালের ১৯-৩০ অগাস্ট অনুষ্ঠিত হয় তৃতীয় বিশ্বের জনসংখ্যা সম্মেলনে। স্থির করা হয়, শিক্ষাই অন্যতম জন্মনিরোধক হয়ে উঠবে। জনগণ শিক্ষিত হলে, মায়েরা কর্মজীবী হলে জনসংখ্যা হ্রাস পাবে। ১৯৮৪ সালে মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রাধান্য দেওয়া হয় মা ও শিশু স্বাস্থ্যের প্রতি। তবে ৫-১৩ অগাস্ট ১৯৯৪ সালে বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। অংশগ্রহণকারী ১৮০টি দেশের প্রতিনিধিরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে যে জনসংখ্যার সাথে উন্নয়নকে সম্পৃক্ত করতে হবে, লক্ষ্য হবে জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও আর্থসামাজিক অগ্রগতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া। পরিবার পরিকল্পনা শব্দের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয় প্রজনন, স্বাস্থ্য, যেখানে পুরুষ ও মহিলা স্বাস্থ্যসেবার প্রাপ্তির সমান সুযোগ ও অধিকার পাবে। ফলশ্রুতিতে শিশু ও মাতৃ মৃত্যুর হার হ্রাস পাবে, জনগণ সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হবে ও উন্নত পরিবার গড়ে উঠবে, যা হচ্ছে দেশ ও জাতির প্রত্যাশা।

 

Related image

তাই আজ প্রয়োজন…

পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি সম্পর্কে সর্বজনীন বার্তার প্রসার, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হ্রাস, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় সচেতনতা বৃদ্ধি, পোলিও নির্মূল, শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস, ডায়রিয়া, কলেরা, ম্যালেরিয়া নিবারণ, ওরাল ডিহাইড্রেশন থেরাপি উদ্ভাবন ও ব্যাপক প্রবর্তন, ভিটামিন এ ক্যাপসুল বিতরণ, ধূমপান বিরোধী আন্দোলনে সাফল্য, বিশুদ্ধ জল পানের সচেতনতা ইত্যাদি। কিন্তু যতই দিন যাচ্ছে পৃথিবীবাসীর ভূখন্ডে মানুষের ধারণ ক্ষমতা হ্রাস পাচ্ছে। প্রতিবর্গ কিলোমিটারে এখনও ১০০০-এর অধিক জনগণের বসবাস ও প্রতি বছর কমপক্ষে ২০ লক্ষ শিশু জন্মগ্রহণ করছে যা খাদ্য, আশ্রয়, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা দান, কর্মসংস্থান, শহরমুখী দ্রুত অভিবাসনসহ জটিল পরিস্থিতির সৃষ্টি করছে এবং প্রত্যাশিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের পথে প্রতিবন্ধকতার সূচনা করছে প্রতি পদে পদে। এভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও মানুষের চাহিদার গতিপ্রকৃতি বৃদ্ধি পেতে থাকলে এবং পরিবেশ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ব্যাপকতা অব্যাহত গতিতে চললে, যে কোনও প্রকার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা কঠিন। স্বাস্থ্যবীমা বা বিকল্প অর্থায়ন সীমিত বলে মধ্যবিত্ত সমাজ স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে নিতান্ত অপারগ। তাই সর্বত্র দাবী উঠেছে পরিবার কল্যাণ খাতে অধিক বিনিয়োগ করতে হবে সরকারকে, পরিকাঠামোতে পূর্ণাঙ্গ সদ্ব্যবহার সুনিশ্চিত করতে হবে। এছাড়াও অসংখ্য বেসরকারি সেবাদানের পরিকাঠামোর জন্য সরকারকে প্রয়োজনে ভর্তুকি দিতে হবে। পরিবার পরিকল্পনার উপরকরণ সরবরাহের জন্য দাতা সংস্থার মুখাপেক্ষী হয়ে থাকার অবসান করতে হবে। প্রয়োজনে সরকারি-বেসরকারি মাধ্যমে পিল, কনডম শিল্প আরও জোরদার করতে হবে এবং সরকারকে উৎপাদিত পণ্য ক্রয় করার নিশ্চয়তা দিতে হবে। তাই সরকারের দায়িত্ব জনসংখ্যা নীতি প্রণয়নের আলোচনা করতে হবে।

Image result for world population day & nigeria

সাধারণত মহিলাদের সার্বিক উন্নয়নে ও অর্থনৈতিক সংকটে সরকারকে এগিয়ে আসতেই হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতে নারীবান্ধব উদ্যোক্তাদেরকে সরকার আর্থিক পরিমন্ডলে বিচরণের নানাবিধ সুযোগ প্রদান আরও দৃঢ় করতে হবে। পরিবার পরিকল্পনার ক্ষেত্রে অধিক মাত্রায় মহিলাদের উপর বিভিন্ন পদ্ধতির ব্যবহার করায় এক প্রকার অসন্তোষ রয়েছে। মহিলাদের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন তথা কর্মজীবী মহিলাদের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং উন্নয়নের কর্মকান্ড সকল স্তরের মহিলাদের মধ্যে সুনিশ্চিত করতে পারলে সন্তান ধারণের প্রত্যাশা স্বাভাবিকভাবেই দূর হবে। এক কথায় মহিলাদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলে শিক্ষার মান উন্নত হলে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জ্ঞানের পরিধিও বাড়বে। মহিলাদের প্রতি হিংসাত্মক আচরণ প্রবণতা হ্রাস পেলে সুদিন আসবেই। সমাজবিজ্ঞানী Issac Asimov বলেছিলেন As you put more and more people in the world, the value of life not only declines, it disappears.

Image result for world population dayআমরা সহজ কথায় বলতে চাইলে বিপুল জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করতে হবে, এটাই হল সময়ের দাবী। প্রগতির পথ করতে হবে উন্মুক্ত, চলার পথ হতে হবে কন্টকমুক্ত। অধিক জনসংখ্যার প্রবল চাপে আমরা যেন পথহারা হয়ে বিভ্রান্ত না হয়ে যাই। জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করার উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে। সকলে আর্থ-সামাজিক কর্মকান্ডের মাধ্যমে বৈষম্য দূর হলেই ঐক্যবদ্ধ জাতি ও দেশ গড়ার স্বাধীনতার স্বপ্ন স্বার্থক হবেই। জনসংখ্যার সঠিক ব্যবহার করতে পারলে জাতীয় সাফল্য আসবেই। ভারতবর্ষকে সেই দিকেই রাজনীতির ঊর্দ্ধে গিয়ে চেষ্টা করতে হবে।

Image result for world population day in india

আজকের দিনে দাড়িয়ে পৃথিবীর প্রতি ৭ জনে একজন ভারতীয়। তাই আমাদের শক্তিকে নিজেদের উপলব্ধি দিয়েই কাজে লাগাতে হবে। প্রতিটি ছাত্রছাত্রীকে আরও দৃঢ়তর শিক্ষায়, জ্ঞানে নিজেদের পরিপূর্ণ করে তুলতে হবে। তাই বলতেই হয় জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের চরম এক সন্ধিক্ষণে আমরা দাঁড়িয়ে। জতি-ধর্ম-বর্ণ ভুলে স্বাধীনতার প্রাক্কালে দাঁড়িয়ে শিক্ষাই জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের প্রথম সোপান। তাই বিশ্বজনসংখ্যা দিবসে সকলের মানসিকতার আধুনিকীরণ বিশেষ প্রয়োজন। যুগের পরিবর্তনের সাথে মানুষের দরকার নব-নব কর্মোদ্যোগের।

 


শেয়ার করুন সকলের সাথে...

Sponsored~

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.