করমচা কড়চাঃ জেনে নিন এই “প্রক্সি” ফলের পরিচর্যা ও পরিবেশ……

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 95
    Shares

ওয়েব ডেস্কঃ  অনেক ক্ষেত্রেই করমচা ব্যবহার করা হয় চেরির বদলে। আমরা কম দামে যে চেরি বাজার থেকে কিনি তা এই করমচাকে প্রসেস করে তৈরি করে। তবু করমচাকে আসুন একটু আলাদা করে জেনে নিই। করমচা, টক স্বাদের ছোট আকৃতির মুখরোচক একটি ফল। কাঁটায় ভরা এ গাছটি গ্রাম থেকে এখন শহরেও চাষ করা হয়। কারও কারও বাড়ির ছাদ কিংবা বারান্দায়ও দেখা মেলে করমচার। গাছ, পাতা ও ফলে নান্দনিকতার ছোঁয়া থাকায় অনেকে সৌন্দর্যবর্ধনের জন্যও এ গাছ রোপণ করে থাকেন। করমচার বৈজ্ঞানিক নাম ক্যারিসা ক্যারোন্ডাম। কনটোরটি বিভাগে অ্যাপোসাইনেসি শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত করমচা ফলের আদি নিবাস ক্যারোনডাস প্রজাতি ভারতবর্ষ, গ্রান্ডিফোরা প্রজাতির দক্ষিণ আফ্রিকা এবং এডুইলিস প্রজাতির মিসরে। তবে ভারতবর্ষে এসব প্রজাতির করমচা দীর্ঘদিন ধরে চাষ হচ্ছে। বাংলাদেশের প্রায় সব জায়গায় সমতল ভূমিতে করমচা চাষ করা যায়। অ্যাপোসাইনেসি শ্রেণীতে ১৫৫ বর্ণের প্রায় এক হাজার গোত্রের করমচা গাছ দেখা যায়। 

করমচা গাছ বেশ ঝোপতলা ধরনের শক্ত জাতের কাঁটাওয়ালা গুল্ম। বড় সাদা ও ফিকে গোলাপি রঙের সুমিষ্ট গন্ধযুক্ত করমচা ফুল দেখতে কিছুটা কুন্ধ ফুলের মতো। এর ফলের রঙ কাঁচায় গাঢ় সবুজ, পাকায় লাল হয়। কোনো কোনো জাতের ফলের গায়ে খয়েরি দাগ থাকে। চেরি ফলের মতো দেখতে করমচা ফল বেশ শাঁসালো, ভেতরে ছোট ছোট চার-পাঁচটি বীজ থাকে। গাছ ও ফলে দুধের মতো আঠালো রস রয়েছে। ফেব্রুয়ারি মাসে গাছে ফুল আসে এবং ফল ধর এপ্রিল-মে মাসে। এছাড়া বর্ষায় ফল পাকে। অনেক সময় আবার অনিয়মিতভাবে কমবেশি প্রায় সারা বছরই করমচা ফলে। 

Image result for করমচা গাছের পরিচর্যার পরিবেশ

 যথার্থ পরিবেশ ঃ

করমচা গাছ গরম, আর্দ্র কিংবা শুষ্ক পরিবেশে ভালো জন্মে। এ ছাড়া বেলে-দোআঁশ বা হালকা মাটিতে করমচা জন্মাতে ভালোবাসে। অম্লমাটি অপেক্ষা কিছুটা ক্ষারভাবাপন্ন মাটি বেশি পছন্দ করে। করমচা চাষে জমি উঁচু হলেই ভালো তবে নিচু জমিতেও চাষ করা চলে যদি জল নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ভালো থাকে। গাছ লাগানোর ১৫-২০ দিন আগে থেকে গর্ত তৈরি করতে হবে। বাগানে চাষ করতে হলে গর্ত তৈরির আগে ৩০ সে:মি: গভীর করে জমি চাষ করে নিতে হবে। গর্তের মাঝখানে চারা বসিয়ে জল সেচ দিতে হবে। চারার গোড়ার মাটি শক্তভাবে চেপে দিতে হবে যাতে গাছ পড়ে না যায়। বর্ষাকালে চারা রোপণ করা ভালো। এতে বেশি যত্নের প্রয়োজন হয় না। শীতকাল বাদে অন্য সময়েও চারা রোপণ করা যায়। সার প্রয়োগ ক্ষেত্রে প্রতি বছর বর্ষার আগে করমচা গাছের গোড়ার মাটির সাথে ১০ কেজি কম্পোস্ট সার ২৫ গ্রাম সুফলা মিশিয়ে দিলে উপকার হয়। বড় গাছে সার প্রয়োগের প্রচলন কম হলেও ভালো ফলন পেতে গোবর সারের সাথে ৫০ গ্রাম সুফলা দিতে হবে। 

Image result for করমচা গাছের পরিচর্যার পরিবেশ

করমচা গাছের পরিচর্যা ঃ

করমচা গাছের পরিচর্যার বেলায় ফল শেষ হয়ে যাওয়ার পর ঘন ডালপালা ছেঁটে কিছু হালকা করে দেয়া দরকার। গোড়ায় মাটি ধরিয়ে বর্ষার আগে একটু উঁচু করে দিতে হবে। যাতে বৃষ্টির জল না দাঁড়ায়। মাঝে মধ্যে গোড়ায় মাটি আগাছামুক্ত করে হালকা করে কুপিয়ে দিতে হবে। করমচা খুব শক্ত ধরনের গাছ এবং দেহে আঠালো রস থাকায় রোগ ও পোকায় সহজে আক্রমণ করতে পারে না। তবে ফল ছিদ্রকারী পোকা ফলের ছোট অবস্থায় ভেতরে ঢুকে শাঁস খেয়ে ফেলে।

 

Related image

 করমচায়ের পুষ্টি ও ঔষধি গুণের কথা ঃ

 করমচা ফলে রয়েছে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন ও খনিজ। এ ফলের অনেক গুণ। করমচা ফলের মধ্যে রয়েছে ১৮.২ ভাগ জলীয় রস, ২.৩ ভাগ প্রোটিন, ২.৮ ভাগ খনিজ, ৯.৬ ভাগ স্নেহ পদার্থ, ৬৭.১ ভাগ শর্করা। এ ছাড়া খনিজের মধ্যে ক্যালসিয়াম ০.১৬ ভাগ, ফসফরাস ০.৬ ভাগ এবং লৌহ ৩৯.১ ভাগ। প্রতি ১০০ গ্রাম করমচা থেকে পাওয়া যায় ৩৬৪ ক্যালরি তাপ এবং ১০০ গ্রাম তাজা ফলে রয়েছে ২০০.৯৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

 

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 95
    Shares

খবর এক নজরে…

No comments found

Sponsored~