নীল সমুদ্রের উপর দিয়েই এক দ্বীপ থেকে আরেক দ্বীপে ছুটবে ট্রেন

শেয়ার করুন সকলের সাথে...

 

নয়াদিল্লি: রেলের মানচিত্রে এবার যুক্ত হতে চলেছে বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা দ্বীপপুঞ্জও। আন্দামানে সমুদ্রের উপর দিয়ে এবার ছুটবে ট্রেন। তৈরি হয়ে ২৪০ কিলোমিটার ব্রড গেজ লাইন। আর এই রেলপথেই যুক্ত হয়ে দুটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপ। সমুদ্রের উপরে ব্রিজ তৈরি করে হবে রেলপথ। উপকূলে থাকবে স্টেশন। এই প্রথম কোনও দেশ দ্বীপ যুক্ত করার জন্য রেললাইন ব্যবহার করবে।

কিছুদিনের মধ্যেই এই প্রজেক্টের অনুমোদন মিলতে চলেছে। এই রেললাইনের মাধ্যমে ইউনিয়ন টেরিটরির রাজধানী পোর্টব্লেয়ারের সঙ্গে যুক্ত করা হবে অন্যান্য দ্বীপ। রেল মন্ত্রক সূত্রের খবর, এ লাইনের জন্য খরচ পড়বে ২৪১৩ কোটি টাকা। এই রেললাইন যতটা না লাভজনক, তার থেকে বেশি কূটনৈতিক ভাবে লাভজনক হবে বলেও মনে করা হচ্ছে।

রেল মন্ত্রকের তরফে ইতোমধ্যেই গ্রিন সিগন্যাল দেওয়া হয়েছে। আধিকারিকদের মতে, পর্যটনের ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ হবে এই রেলপথ। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে প্রত্যেক বছর সাড়ে চার লক্ষ পর্যটক যায় আন্দামানে, রেললাইনটি চালু হলে এই সংখ্যা বেড়ে ৬ লক্ষ হবে। সুতরাং রেল থেকে লোকসান হলেও অন্যদিক থেকে টাকা আসবে কেন্দ্রের ঘরে। প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রেও যথেষ্ট গুরুত্ব থাকবে এই রেললাইনের। পোর্টব্লেয়ার থেকে ডিগলিপুর পর্যন্ত যাবে এই লাইন। আর এই ডিগলিপুর মায়ানমারের উপকূল থেক মাত্র ৩০০ কিলোমিটার দূরে। তিন ঘণ্টায় পৌঁছনো যাবে পোর্টব্লেয়ার থেকে ডিগলিপুর। এই রেললাইনকে প্রতিরক্ষার জন্য বিশেষভাবে তৈরি করার কথাও ভাবা হচ্ছে, ঠিক যেভাবে কাশ্মীরকে যুক্ত করা হয়েছে রেলপথে। এই বিষয়ে শেষ পর্যায়ের আলোচনা এখনও বাকি।

২০১৪ সালে এই লাইন তৈরি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরে সেই পরিকল্পনা পিছিয়ে যায়। ডিগলিপুরের ‘রস অ্যান্ড স্মিথ’ আইল্যান্ড পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। লক্ষ লক্ষ পর্যটক সেখানে যায়। উত্তাল সমুদ্রে ওই দ্বীপে যাওয়া বেশ কঠিন। ফলে এই রেলপথ স্বাভাবিকভাবেই পর্যটক, সাধারণ মানুষ কিংবা সেনাবাহিনীর জন্য খুবই সুবিধাজনক হবে।

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...

খবর ২৪ ঘন্টা

খবর এক নজরে…

No comments found

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.