খবর ২৪ ঘন্টা

ফ্যাসিস্ট বলে মোদী সরকারের সমালোচনা, ধৃত যুবতীর জামিন

শেয়ার করুন সকলের সাথে...

চলন্ত বিমানে দাঁড়িয়ে মোদী সরকারের সমালোচনা। তার পরে গ্রেফতারি। চলন্ত বিমানে ‘ ফ্যাসিস্ট ‘ বলে স্লোগান দিয়েছিলেন সোফিয়া নামে এক মহিলা যাত্রী। সোফিয়া নামের পঁচিশ বছরের ওই মহিলা বর্তমানে গবেষণা করেন কানাডায়। তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। ওই বিমানে যাত্রী হিসাবে ছিলেন তামিলনাড়ুর বিজেপি সভাপতি তামিলিসাই সৌন্দরারাজনও। যুবতীর ব্যবহারে বিরক্ত হয়ে বিমানটি তুতিকোরিন বিমানবন্দরে অবতরণের পরে ওই যুবতীর নামে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করার প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই যুবতীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। সোফিয়া বসেছিলেন সৌন্দরারাজনের ঠিক পেছনেই। প্রাথমিকভাবে সব শান্তই ছিল। আচমকা তিনি নিজের সিট থেকে উঠে দাঁড়িয়ে মোদী সরকারের ও বিজেপির বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। তাঁর ফ্যাসিস্ট বলে শ্লোগানে শোরগোল পড়ে যায় বিমানের ভিতর। বিমানটি অবতরণের পরেই বিজেপি সভাপতির সঙ্গে তুমুল তর্কাতর্কিতে জড়িয়ে পড়েন ওই মহিলা। ওই নেত্রী তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করার পর সোফিয়াকে গ্রেফতার করা হয়। লেখিকা ও গণিতজ্ঞ সোফিয়া এর আগে তুতিকোরিনের স্টারলাইট প্ল্যান্টের বিরুদ্ধে এবং চেন্নাই-সালেমের আট লেনের এক্সপ্রেসওয়ের বিরুদ্ধেও প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন। ওই ঘটনা ঘটার খানিকক্ষণ আগে ওই যুবতী একটি টুইট করে লেখেন, “আমি এই মুহূর্তে বিমানে রয়েছি সৌন্দরারাজনের সঙ্গে। ভীষণ ইচ্ছে করছে, একবার বলতে যে, ‘মোদী-বিজেপি-আরএসএসের ফ্যাসিস্ট সরকার শেষ করে দিচ্ছে আমাদের’, এটা বললে কি আমাকে বিমান থেকে নামিয়ে দেওয়া হবে?”

বিজেপি নেত্রী অভিযোগ করেন, ওই মহিলা কোনও সাধারণ মানুষ নন। তাঁর কথায়, ওই মহিলার বিরুদ্ধে ভালভাবে তদন্ত করে তাঁর সম্পর্কে খুঁটিনাটি জানা দরকার। বিজেপি নেত্রীর সন্দেহ, অন্য কোনও রাজনৈতিক সংগঠনের হাত রয়েছে এই ঘটনার নেপথ্যে। বিরোধী দলগুলি মহিলার গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে সরব হয়েছে। তাদের দাবি, সৌন্দরারাজন এত হইচই না করে ব্যাপারটিকে মাথা ঠাণ্ডা করেই সামলে নিতে পারতেন। দেশের যুবসমাজ মোদি সরকারকে আর পছন্দ করছে না। এই ঘটনাই তার বড় প্রমাণ বলে মনে করেন বিরোধীরা।‌‌ এই ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসার পর গোটা দেশ তথা বিজেপির বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি সরকারের বিরুদ্ধে প্রবলভাবে সরব হয়। সরব হয় সোশ্যাল মিডিয়াও। আজ সেই যুবতীকেই জামিন দিয়ে দেওয়া হল। এই ঘটনায় ওই যুবতীর পাশে দাঁড়িয়েছেন ডিএমকে প্রধান এমকে স্ট্যালিন। তাঁর কথায়, তিনি নিজেও ওই যুবতীর কথারই পুনরাবৃত্তি করতে চান। তিনি বলেন, “কেউ বিরুদ্ধ স্লোগান দিলেই যদি মোদী সরকার জেলে ভরে দেওয়ার কথা ভাবে, তাহলে তো লক্ষ লক্ষ লোকের সঙ্গে তা করতে হবে! কত লোককে জেলে ভরবে মোদী সরকার?”

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...