'বজ্রআঁটুনি' সত্ত্বেও ফস্কা গেরো, রেল বাজেটে সুরক্ষিত হবে হাওড়া?

শেয়ার করুন সকলের সাথে...

 

স্ক্যানার মেশিন নিয়ে সমস্যার কথা অবশ্য রেল কর্তৃপক্ষই স্বীকার করে নিচ্ছেন। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক রবি মহাপাত্র জানিয়েছেন, স্ক্যানার মেশিনগুলি ২০০২-০৩ সালে কেনা হয়েছিল।

গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে জঙ্গিদের নিশানায় রয়েছে পূর্ব ভারতের বৃহত্তম রেলস্টেশন হাওড়া। এই মর্মে রেলমন্ত্রক একাধিকবার পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করেছে। যে কারণে হাওড়া স্টেশনের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একাধিক পদস্থ কর্তা বিভিন্ন সময়ে দাবি করেন, হাওড়া স্টেশন নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে মোড়া রয়েছে। কিন্তু আদতে কতটা নিরাপদ হাওড়া স্টেশন, খালি চোখে সাধারণ যাত্রীরা হয়তো তা বুঝতে পারেন না। হাওড়া স্টেশনে নতুন এবং পুরনো কমপ্লেক্স মিলিয়ে প্ল্যাটফর্মের সংখ্যা ২৩।

বিভিন্ন জায়গায় যেমন সিসিটিভি বসানো রয়েছে, তেমনই আরপিএফ এবং জিআরপি কর্মীরাও মাঝে মধ্যে বিশেষ অভিযান চালান। কিন্তু তার পরেও যাত্রীদের একাংশ মনে করছেন, যে বছরের কয়েকটা নির্দিষ্ট দিন ছাড়া সেভাবে হাওড়া স্টেশনের নিরাপত্তা বলয় মজবুত বলে মনে হয় না। রেল মন্ত্রকের সতর্কতা যে একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যায় না, গত কয়েক বছরে বার বার তা প্রমাণিত হয়েছে হাওড়ায়। সাম্প্রতিক অতীতে একাধিকবার হাওড়া স্টেশন থেকে উদ্ধার হয়েছে মারাত্মক বিস্ফোরক। উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকের তালিকায় রয়েছে জিলেটিন স্টিক, গ্রেনেড এবং হ্যান্ড গ্রেনেডও।

কিন্তু রেল মন্ত্রকের নির্দেশিকাকে কতটা গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে হাওড়া স্টেশনে? হাওড়া স্টেশনে প্রবেশ করার পথগুলিতে যাত্রীদের সঙ্গে থাকা মাল পরীক্ষা করার স্ক্যানার মেশিনগুলির অধিকাংশই কাজ করে না। ফলে যাত্রীদের মধ্যেও আতঙ্ক ছড়িয়েছে। আবার ওল্ড কমপ্লেক্সের ক্লোক রুমে বিভিন্ন ট্রেনের যাত্রীরা মালপত্র রাখেন। কিন্তু সেখানেও মালগুলি পরীক্ষা করে দেখার জন্য কোনও স্ক্যানার মেশিন নেই। এই যাত্রী নিরাপত্তার ক্ষেত্রে যে ঘাটতি রয়েছে, সে বিষয়ে যে পূর্ব

স্ক্যানার মেশিন নিয়ে সমস্যার কথা অবশ্য রেল কর্তৃপক্ষই স্বীকার করে নিচ্ছেন। পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক রবি মহাপাত্র জানিয়েছেন, স্ক্যানার মেশিনগুলি ২০০২-০৩ সালে কেনা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে এই মেশিনগুলির অনেক যন্ত্রাংশই পাওয়া যাচ্ছে না। সেই কারণে মেশিনগুলি চাইলেও সারানো যাচ্ছে না। সেই কারণেই নিরাপত্তাকর্মীরা ঘুরে ঘুরে যাত্রীদের মাল পরীক্ষা করে দেখেন। তাঁর আরও দাবি, স্ক্যানার মেশিনের তুলনায় ঘুরে ঘুরে যাত্রীদের মাল পরীক্ষা করে দেখাটাই বেশি কার্যকরী। শুধু তাই নয়, যে বিপুল পরিমাণ রেলযাত্রী প্রতিদিন হাওড়া এবং শিয়ালদহ স্টেশন দিয়ে যাতায়াত করেন, তাতে সব যাত্রীর মাল পরীক্ষা করে দেখা সম্ভব নয় বলেই স্বীকার করে নিয়ে পূর্ব রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক।

যাত্রীরা অবশ্য রেলের এই যুক্তি মানতে নারাজ। তাঁরা বরং বলছেন, স্বাধীনতা দিবস বা প্রজাতন্ত্র দিবসের মতো বিশেষ বিশেষ দিনে নয়, অন্যান্য দিনেও হাওড়া স্টেশন থেকে ছেড়ে যাওয়া লোকাল এবং দূরপাল্লার ট্রেনগুলিতে রেল পুলিশ যাতে বিশেষ অভিযান চালায়, তা নিশ্চিত করা হোক।

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...

খবর এক নজরে…

No comments found

Sponsored~

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.