ভয়াবহ হচ্ছে তিতলি, মৃত্যু অন্তত ১২ জনের

শেয়ার করুন সকলের সাথে...

ঝড় ও বন্যার জোড়া দুর্যোগে বেসামাল ওডিশা। গজপতি জেলায় এই সাইক্লোনের ফলে অন্তত বারোজন মানুষের মৃত্যু হয়েছে এখনও পর্যন্ত। নিখোঁজ হয়েছেন চারজন মানুষ। বিশেষ ত্রাণ কমিশনার বি পি শেঠি জানান, গত সন্ধ্যায় প্রবল বৃষ্টির জেরে কয়েকজন গ্রামবাসী গুহাতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেই গুহায় ঝড় বৃষ্টিতে ভেঙে পড়ে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, “গজপতি জেলার রায়গড় ব্লকের বরাঘরা গ্রামে ভূমিধ্বসের কারণে প্রায় বারোজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। আমরা মৃতদেহগুলো শনাক্তকরণের চেষ্টা করছি”। এখনও চারজন মানুষ নিখোঁজ। বিশেষ ত্রাণ কমিশনারের উব্দেগ ওই চারজন ধ্বংসস্তূপের তলায় অসহায়ভাবে চাপা পড়ে আছে কি না।

পরিস্থিতির মোকাবিলায় শুক্রবার উচ্চ পর্যায়ের জরুরি বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক। অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওডিশার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। রেললাইন ডুবে যাওয়ায় ইস্ট কোস্টাল রেলওয়ে বাতিল করেছে ১৬টি ট্রেন। বেশ কিছু ট্রেনের সময়সূচি বদল করা হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণের তিন জেলা গঞ্জাম, গজপতি ও রায়গড়া। সঙ্গে টানা বৃষ্টির জেরে রুশিকুল্যা ও বংশধরা–সহ তিন জেলায় সব নদীর জল বাড়ছে। প্লাবিত বহু এলাকা। বৃষ্টি ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৬০ লক্ষ মানুষ। উদ্ধারের কাজে নামানো হয়েছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীকে।
গঞ্জাম জেলার পালাসা দিয়েই ১৫০ কিলোমিটার বেগে স্থলভাগে ঢুকেছে তিতলি। এর ওপর গত চব্বিশ ঘণ্টায় ২০০ মিলিমিটার তো বটেই, কোথাও কোথাও বৃষ্টি হয়েছে ৩০০ মিলিমিটার। বিচ্ছিন্ন গঞ্জাম জেলার ১২৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা। সেখানে ত্রাণ সামগ্রী পাঠানোর কাজে নামানো হয়েছে নৌবাহিনীর দুটি হেলিকপ্টার। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বালেশ্বর, ভদ্রক, ঢেঙ্কানল–সহ ওডিশার কিছু অংশ ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি শনিবার পর্যন্ত চলবে। গজপতি জেলার কালেক্টর ইতিমধ্যেই এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ যে সব জায়গায় যাওয়া যাচ্ছে না। যেখানে ধস নেমেছে সেখানে একাধিক গাছ উপড়ে পড়েছে। রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সেখানে পৌঁছতে পারছেন না উদ্ধারকারীরা। মনে করা হচ্ছে ওই ধসের মধ্যেই চাপা পড়ে রয়েছেন নিখোঁজ চার জন। ইতিমধ্যেই গোপালপুরে পৌঁছেছে এনডিআরএফের উদ্ধারকারীরা।
ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত তিন এলাকা গঞ্জাম, গজপতি এবং রায়গড়ের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছেন। প্রায় ১,২৭,২৬২ জনকে ত্রাণ শিবিরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। নৌবাহিনীর হেলিকপ্টার মারফৎ দুর্গত এলাকার বাসিন্দাদের কাছে খাবার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। তিতলির প্রভাবে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গজপতির ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টরের থেকে রিপোর্ট পাওয়ার পরেই নিহত ও আহতদের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে। সংশ্লিষ্ট কালেক্টর জানান, যে জায়গায় এই ভূমিধ্বসটি ঘটেছে তা একেবারে একটি প্রত্যন্ত অঞ্চলের ভিতর অবস্থিত। ঝড়ের প্রকোপে বড় বড় গাছ পড়ে রাস্তা আটকে যাওয়ায় সেখানে পৌঁছানোও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘটনাস্থলের উদ্দেশে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর একটি দল ইতিমধ্যেই রওনা দিয়েছে।

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...

খবর এক নজরে…

No comments found

Sponsored~