‘মহিলাদের সমস্যা বাড়াবে পরকীয়া রায়’

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 92
    Shares

বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি সহ পাঁচ বিচারপতির সাংবিধানিক বেঞ্চ স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয় যে পরকীয়া কোনও অপরাধ নয়। স্ত্রী–পুরুষ দু’‌জনেরই সমান অধিকার রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জানিয়েছিলেন যে পরকীয়া অপরাধ নয় তবে বিবাহবিচ্ছেদ করা যেতেই পারে। কোনও সংসার এই সম্পর্কের জন্য নষ্ট হোক তা বৈধতা আদালত দেয়নি। ১৫৮ বছরের পুরনো ব্রিটিশ আইন ৪৯৭ ধারায় অনুযায়ী এতদিন ‌পরকীয়াকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে গণ্য করা হত। পরকীয়া আইনে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাঁকে পাঁচ বছর পর্যন্ত জেল, জরিমানা কিংবা দুটো শাস্তিই একসঙ্গে ভোগ করতে হত। সেই ধারা বাতিল করে সুপ্রিম কোর্ট তার রায় শোনায়। তবে অনেকেই এই রায় মেনে নিতে পারছেন না৷
অনেকের মতে সুপ্রিম কোর্টের এই রায় মহিলা–বিরুদ্ধ এবং এই রায়ের অর্থ হল অবৈধ সম্পর্ককে বৈধতা দিয়ে দেওয়া। সুপ্রিম কোর্টের ঐতিহাসিক এই রায়কে মানতে নারাজ দিল্লি মহিলা কমিশনের প্রধান স্বাতী মালিওয়াল। তিনি বলেন, ‘‌পরকীয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে একেবারেই একমত নই। এই রায় মহিলা–বিরুদ্ধ। দেশের মানুষ বিয়ে করে পরকীয়া করার বৈধতা পেয়ে গেল। এ কেমন বিষয় হল?‌ এতে বিয়ের পবিত্রতা কোথায় বজায় থাকল?‌’‌তিনি জানিয়েছেন, ব্যভিচারকে অপরাধ মনে না করে দেশের মহিলাদের ব্যাথাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
সমাজকর্মী বৃন্দা আদিজে পরকীয়ার বিপক্ষে গিয়েই তাঁর মত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‌এই রায় কি বহুবিবাহকেও বৈধতা দিচ্ছে? ‌কারণ আমরা জানি পুরুষরা দ্বিতীয়, তৃতীয় বিয়ে করে এবং তারপর তাঁর প্রথম স্ত্রীকে ছেড়ে দেয়। আমার প্রশ্ন যদি পরকীয়া অপরাধ না হয় তবে কোনও পুরুষ যদি তাঁর স্ত্রীকে ছেড়ে অন্য কারোর সঙ্গে থাকেন তবে সেটাও অপরাধ নয়?‌ মহিলারা এরপর কোথায় গিয়ে বিচার চাইবেন? ‌এটা ভাববার বিষয়।’‌
Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 92
    Shares

খবর এক নজরে…

No comments found

Sponsored~