মোদী সরকারকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে ব্রিগেডে ঐতিহাসিক মহাজোট… মমতার পাশে সারাদেশ

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 71
    Shares

তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জির ডাকে ১৯শে জানুয়ারীর ব্রিগেড সভা জাতীয় রাজনীতির “চাঁদের হাট” বললে অত্যুক্তি হবেনা। জনসমুদ্রে পরিণত ব্রিগেড গ্রাউন্ডে মঞ্চে আসীন জাতীয় নেতাদের তালিকা বেশ লম্বা ঃ

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবেগৌড়া, শরদযাদব, শরদ পাওয়ার , অভিষেক মনু সিংভি,  শত্রুঘ্ন সিনহা , স্ট্যালিন , অখিলেশ যাদব, চন্দ্রবাবু নাইডু , অরুণ শৌরি্ফা‌ ওমর আব্দুল্লা, ফারুক আব্দুল্লাহ, তেজ্বস্বী যাদব, হার্দিক ও জিগ্নেশ প্যাটেল সহ ২৩টি দলের নেতা একত্রিত হয়ে একের বিরুদ্ধে এক অর্থাৎ সমগ্র বিজেপি বিরোধী জোটের একজন মাত্র শক্তিশালী প্রার্থী দাঁড় করাবার প্রস্তাব রাখেন। অভিষেক মনু সিংভি এই জোটকে রামধনু সাথে তুলনা করে বলেন অচিরেই মেঘ কেটে যাবে এবং আকাশে ২২ রঙের রামধনু দেখা যাবে। শরদ যাদব নোট বন্দি এবং জিএসটির জন্য কৃষক থেকে ব্যবসায়ী বেকার যুবক সবাই আজ এক দুর্বিষহ অবস্থার শিকার। দেশের স্বাধীনতার জন্য বাঙালির অবদান সব থেকে বেশি তাই তিনি আরেক স্বাধীনতা যুদ্ধে আহবান জানান আপামর বাঙালিকে।

Image result for brigade

জম্মু-কাশ্মীরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ফারুক আব্দুল্লাহ প্রশ্ন তোলেন ইভিএম মেশিন নিয়ে, তিনি দাবি জানান ব্যালটে সমগ্র ভোট প্রক্রিয়া কে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

ডি এম কে নেতা স্ট্যালিন বলেন, পুজো-পাঠ ই হোক অথবা ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম তামিল ও বাঙালি ভাই বোনের মত পাশাপাশি থেকেছে। আজ তাই আমার দিদি মমতা ব্যানার্জির ডাকে দ্বিতীয় স্বাধীনতা সংগ্রাম অর্থাৎ বিজেপিকে গদিচ্যুত করা এবং মোদী বিহীন ভারত গড়ে তোলা র জন্য সমস্ত বিরোধীদের একজোট হতে হবেই।

বহু জন সমাজ পার্টি র সতীশ মিশ্র বলেন নির্বাচনে যাওয়ার আগে মোদি আর বিজেপি নিরীহ সাধারণ মানুষকে অনেক মিথ্যা প্রতিশ্রুতি আর স্বপ্ন দেখিয়ে ভোট আদায় করেছিলেন। তার একটিও সফল হয়নি

কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামী বলেন কেন্দ্রের অগণতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে সমস্ত বিরোধীদের একজোট করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তিনি আমাদের দেশের রোল মডেল. কুমারস্বামীও নোট বন্দি জিএসটি, কৃষক ঋণ, স্ব-শাসিত সংস্থা কে প্রভাবিত করা, মূল্যবৃদ্ধি , দুর্নীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মোদি সরকারের গদিতে থাকার অধিকার নিয়ে

তার বক্তব্যের মাঝেই মঞ্চে এসে উপস্থিত হন কংগ্রেস নেতা এবং সোনিয়া গান্ধীর দ‍্যূত মল্লিকারজুন খারগে ।

অখিলেশ যাদব বলেন আজকের দিনে বাংলার মাটিতে যে সূচনা হলো তা আগামী দিনে দেশের কোনায় কোনায় দেখতে পাওয়া যাবে। মোদির কটাক্ষের জবাবে অখিলেশ বলেন আমরা জিতে আসবো সবাই মিলে আর জনতা ঠিক করবে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন। আজ বিজেপি সরকার বকলমে ৪০টি দলের জোট নিয়ে চলছেন এমনকি সিবিআই ইডি র মতো তদন্তকারী সংস্থা কেও সেই জোটে ব্যবহার করছেন বিরোধীদের ভয় দেখানোর জন্য।

Image result for brigade rally

দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল বলেন দেশকে ধর্মের ভিত্তিতে, জাতপাতের ভিত্তিতে, বড়লোক-গরিবের ভিত্তিতে নরেন্দ্র মোদি আর অমিত শাহ মিলে গত পাঁচ বছরে ভেঙে টুকরো টুকরো করে দিয়েছে। যা পাকিস্তান এত বছর চেষ্টা করেও পারেনি। হিটলারের সাথে তুলনা টেনে তিনি বলেন মোদি আর অমিত শা মিলে যদি ২০১৯ এ আবার ফিরে আসে তাহলে দেশের সংবিধান পাল্টে দিয়ে গণতন্ত্রের ভোটা ভুটি বন্ধ করে দেবেন। 2019 সে নির্বাচন প্রধানমন্ত্রী বাছাড় নির্বাচন নয়, মোদি-শা এর থেকে দেশবাসীকে বাঁচানোর নির্বাচন।
চন্দ্রবাবু নাইডু বলেন, ডিজিটাল ইন্ডিয়া, স্বচ্ছ ভারত, মেক ইন ইন্ডিয়া, গুড গভর্নেন্স এই সব নাম দিয়ে কোন কাজই হয়নি। বেশিভাগই ফেল করেছে। দেশের প্রধানমন্ত্রী পাবলিসিটি প্রাইম মিনিস্টার হয়ে গেছে কোনোদিন পারফর্মিং প্রাইম মিনিস্টার হতে পারেনি।  তিনি এই জোটের জন্য ব্যক্তিগতভাবে মমতা ব্যানার্জিকে ধন্যবাদ জানান

Image result for brigade

শরদ পাওয়ার বলেন দেশে সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে স্ব-শাসিত সংস্থা সবকিছুর উপর জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে জনবিরোধী নীতি। প্রবীণ এই নেতা বলেন এই মঞ্চে আমরা কেউ নেতা বা প্রধানমন্ত্রী হতে আসিনি এসেছি জনগণের স্বার্থে জনগণের ভালোর জন্য কিছু করতে এসেছি এই চূড়ান্ত দুর্দশা থেকে জনগণকে মুক্তি দিতে

কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে রাফাল বিমান দুর্নীতি নিয়ে সোজাসুজি আক্রমণ করেন নরেন্দ্র মোদিকে। কৃষক বেকার সাধারণ নাগরিকের সুরক্ষা না দিয়ে কর্পোরেট হাউসকে অনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দেওয়া নিয়ে তুলোধোনা করেন কেন্দ্রে বিজেপি সরকারকে। তিনি বলেন জনগণের স্বাধীনতা এবং অধিকারকে খর্ব করার সরকারকে আর রাখা চলবে না, তার জন্য সবাইকে একজোট হয়ে সামনের নির্বাচনে লড়াই করার আহ্বান জানান তিনি
কংগ্রেস নেতাকে এই মঞ্চে পাঠানোর জন্য ব্যক্তিগতভাবে সোনিয়া গান্ধীকে এবং রাহুল গান্ধীকে মঞ্চ থেকেই ধন্যবাদ জানান মমতা।


লালু পুত্র তেজস্বী যাদব তার বক্তব্যে বলেন দেশের এখন তরোয়ালের দরকার নেই টুকরো টুকরো হয়ে যাওয়া কাপড়ের মত দেশকে জুড়তে লাগবে ছুঁচ। বিজেপি মোদি এই দেশকে যতটুকু করেছেন ততগুলি আঞ্চলিক দলের প্রয়োজন দেশকে একসূত্রে গাঁথার জন্য। তিনি ব্যক্তিগতভাবে বাংলায় বসবাসকারী সমস্ত বিহারী কে আহ্বান জানিয়েছেন বিজেপির বিরুদ্ধে যেই প্রার্থী দাঁড়াবে তাকে সমর্থন এবং ভোট প্রদান করার।

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 71
    Shares

খবর ২৪ ঘন্টা

খবর এক নজরে…

No comments found