ভারতের ভয়ঙ্কর ভৌতিক ছয়টি স্থান

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 1.3K
    Shares

ভারতবর্ষ  তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য  ও  বিভিন্ন সংস্কৃতির জন্য পরিচিত । আর এখানে লুকিয়ে  আছে অনেক  তথ্য ও  রহস্য । তেমনি মৃত্যুর পরে আত্মার উপস্থিতি নিয়ে চলে পরস্পর বিরোধী তরজা। প্রেতাত্মা বা ভুতের গল্প যেমন “ভয় ভয় ভালবাসার” বিষয়। তেমনি তাঁদের কিছু ঠিকানার সুলুক সন্ধান দিলাম এই পাতায়, সাথে বাস্তব অভিজ্ঞতা র কিছু গল্প।

১  ভানগড় ফোর্টঃ

ভানগড় ফোর্ট রাজস্থানের আলোয়ার জেলায় আবস্থিত । ভারতের ভৌতিক জায়গার মধ্যে এটি নিঃসন্দেহে এক নম্বর এ ।

এই জায়গা নিয়ে একটি কাহিনী আছে । ষোড়স শতাব্দিতে ভানগড় একটি স্বতন্ত্র রাজ্য হিসাবে পরিচিত ছিল ।  এক তান্ত্রিকের নজর পড়ে  এই রাজ্যের  রাজকন্যার উপর । ঐ তান্ত্রিক রাজকুমারিকে বশিকরন এর চেষ্টা করেন । কিন্তু তার তন্ত্র ও ক্রিয়ার ফল হয়ে উল্টো, ওই ক্রিয়ার বিপরিত ফলে তাঁর নিজেরই মৃত্যু ঘটে । মৃত্যুকালে তান্ত্রিক ভানগড় রাজ্যকে  অভিশাপ দেয় আর তার ঠিক এক মাস পর আজাবগড় ভানগড় রাজ্যকে আক্রমন করে । রাজা-রাজকুমারি সহ সকলের মৃত্যু হয় । জন-মানসহীন ভানগড় দাড়িয়ে থাকে তার অভিশপ্ত ইতিহাস নিয়ে । কথিত আছে আজও ঐ জায়গায় ভাঙ্গর বাসীর কথা বলার আওয়াজ শোনা  যায় । স্থানীয় অধিবাসীদের কথায় এখানে রাতের বেলায়   মানুষের চিৎকার ,তরোয়ালের ঝংকার ,চুরির  শব্দ শোনা যায় । বলা হয় এখানে রাতে যদি কেউ যায় সে আর ফিরে আসে না । Archeological Society of India এক সতর্কবার্তা দিয়ে এলাকায় বোর্ড লাগিয়ে  সূর্যাস্তের  পর ভানগড় ফোর্ট এর আশেপাশে স্থানীয় দের এবং পর্যটক দের যেতে নিষেধ করেছে।

 

২  দ্বারকা- সেক্টরঃ৯ঃ

রাজধানী  দিল্লিতে অবস্থিত দ্বারকা- সেক্টরঃ৯  এলাকা। রাতে এখানেই একটি বট গাছের অদুরে দেখা মেলে এক অশরীরী মহিলার । স্থানীয় পথচলতি মানুষেরা প্রায়ই রাতে একটি  সাদা শাড়ি পড়া মহিলাকে হাটতে  দেখে থাকে। তাই রাতে খুব কম গাড়ি  ঐ রাস্তা দিয়ে চলাচল করে । শোনা যায়, বেশ কিছু বছর আগে এক মহিলা তার দুই সন্তান নিয়ে এই রাস্তা দিয়ে হেটে  যাচ্ছিলেন ।  একটি গাড়ি এসে তাঁদের ধাক্কা মারে ।  তার দুটি সন্তান গুরুতর আহত হয়। অসহায় মহিলা সাহায্যের জন্য সমস্ত গাড়িকে হাত দেখান, কিন্তু কেউ গাড়ি থামিয়ে  তাদের সাহায্য করেনি। ঘটনাস্থলে তার দুই  সন্তানই মারা যায় । এর কিছু দিন পর শোকে মহিলার ও মৃত্যু ঘটে । এই রাস্তা  নিয়ে একটি সত্য ঘটনাও আছে । একদিন রাতে  একটি কল সেন্টারের গাড়ি ঐ রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল , কিছুক্ষণ পর গাড়িটি আপনাআপনি থেমে যায় । ঐ রাস্তায় বট গাছের  ব্যাপারে সবাই জানার ফলে কেউই  গাড়ি থেকে নামেননি । একটু পরে ড্রাইভার স্টার্ট দিতেই গাড়ি টি স্বাভাবিক ভাবেই চলতে লাগলো । যথারীতি সবাইকে নিজের নিজের গন্ত্যব্য স্থলে নামিয়ে শেষ স্টপেজে এসে ড্রাইভার দেখল শেষ মহিলা যাত্রী অজ্ঞান হয়ে পড়ে আছেন  । জ্ঞান ফিরতে তিনি বললেন “যখন গাড়িটি ওই জায়গা থেকে আবার চলতে  শুরু করে তখন সাদা শাড়ী পরা এক মহিলা গাড়ির  পিছনে দৌড়াতে থাকে  গাড়ি থামাবার জন্য । তার চোখের মধ্যে ছিল এক অদ্ভুত তেজ । মেয়েটি  ভয় পেয়ে অজ্ঞান হয়ে যায় । কথিত আছে আজও ঐ মহিলা সাহায্যের জন্য সব গাড়ির পিছনে পিছনে দৌড়ায় ।

 

৩  কুল্ধারা গ্রামঃ

জয়সলমীর (রাজস্থান) এর খুব কাছেই  কুল্ধারা গ্রাম। ৩০০ বছর ধরে এই স্থান জনবসতিহীন হয়ে পড়ে আছে ।  বলা হয় এই গ্রাম সেই থেকে আজও অশুভ শক্তির কবলে । যদিও এই গ্রাম এখন একটি ভ্রমনের জায়গা তাও, কোনও কোনও পর্যটক এর কথায়ে জনবসতিহীন গ্রামে আজও  পালিওয়াল ব্রাহ্মণদের আওয়াজ, বাজারের লোকজনদের কথা, নুপুর ও  চুরির শব্দ শোনা যায় । এককালে এই গ্রাম খুব সম্ভ্রান্ত পালিওয়াল  ব্রাহ্মণদের ছিল ।  সালাম সিং নামের এক রাজকর্মচারী র  কুদৃষ্টি পরে গ্রামেরই এক সুন্দরী মেয়ের উপর । মেয়েটিকে  পাওয়ার জন্য সে মেয়েটির বাড়িতে ফরমান পাঠায়। গ্রামের সকল ব্রাহ্মণমিলে একজোট হয়ে এর প্রতিবাদে সেই গ্রাম ই পরিত্যাগ করেন। সেইরাতেই প্রায় হাজার অধিবাসীর কুল্ধারা গ্রাম সম্পূর্ণ খালি হয়ে যায়ে, পড়ে থাকে খালি ঘরবাড়ি, বাজার-দোকান, মন্দির গুলি আর এক অভিশাপ।

শোনা যায় সেই ব্রাহ্মনরা শাপ দিয়ে যায় কুল্ধারাকে, যে “এই গ্রামে আর কেউ কোন দিন বাস করতে পারবে না” । দিল্লির একটি দল আত্মা ও পরলৌকিক গবেষণা র জন্য ২০১৩ সালে এই গ্রামে রাত কাটায় । তারা বলে যে তারা অনুভব করে যেন কেউ তাদের কাধে হাত রাখছে বা পাশ দিয়ে হেটে যাচ্ছে । প্রশাসন ঐ গ্রামের সীমানা পাঁচিল দিয়ে ঘিরে একটি গেট লাগিয়ে দিয়েছে রাতে অনুপ্রবেশ আটকানোর জন্য, ওই   দল-এর গাড়ি টি তার বাইরেই রাখা ছিল, সকালে দেখা যায় গাড়িতে ছোট ছোট বাচ্চাদের হাতের ছাপ।

৪  দাউ হিল অফ কার্শিয়াংঃ

ভারতের ভৌতিক স্থানের মধ্যে এটি অন্যতম । কার্সিয়াং তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্য প্রসিদ্ধ । কার্সিয়াং থেকে কিছু দূরে দাউ হিল নামে একটি জায়গায়  ভিক্টোরিয়া বয়েস স্কুল নিয়ে ভৌতিক অনেক কাহিনী শুনতে পাওয়া যায় । স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায় এই জায়গার আশে পাশে বাচ্চাদের খেলার ও কথা বলার শব্দ শুনতে পাওয়া যায়  । এই স্কুলের পাশেই গভীর জঙ্গল, সেখানে   স্কন্ধকাটা একটি বাচ্চাকে  অনেকেই দেখেছে । কখনো রাস্তায় কখন স্কুলের ভেতর তাঁকে হাটতে দেখা গেছে  । হাটতে হাটতে জঙ্গলে সে মিলিয়ে যায় । কেউ একবার এই মাথা কাটা বাচ্চাকে দেখে  ফেলে সে সব যায়গায় তাকে দেখতেই থাকে । এই ভয়ে অনেকে আত্মহত্যা করেছেন ।   স্কুল ও জঙ্গলের রাস্তা দিয়ে চলার সময় আপনার ও মনে হবে কেউ যেন আপনার পিছন পিছন আসছে ।

 

৫  মুকেশ মিলঃ

মুম্বাই-এর কোলাবায়  অবস্থিত মুকেশ মিল । এখানে চালু মিল এ আগুন লেগে অনেক শ্রমিকের প্রানহানী ঘটে ।  সেই থেকে এই মুকেশ মিল পরিতক্ত। তবে বিভিন্ন ধারাবাহিক ও সিনেমার শুটিং এখানে হয় । আমিতাভ বচ্চনের “হাম”   সিনেমার  গান ”ঝুম্মা চুম্মা দে দে” এবং ওয়ান্টেড  সিনেমার  কিছু দৃশ্যের  শুটিং এখানেই  হয়েছে । যদিও এখানে কেউ  সূর্যাস্তের পর  শুটিং করে না আমিতাভ বচ্চন এই মিল এর ব্যাপারে লিখেছেন এটি ভীষণ  ভয়াবহ লোকেশন । অনেক পরিচালক ও অভিনেতারা এখানে শুটিং করতে চান না । মৃত শ্রমিকদের আত্মা আজও এখানে বিরাজমান। হিন্দি ধারাবাহিকের অভিনেত্রী কামিয়া পাঞ্জাবী ওনার একটি অভিজ্ঞতায় বলেছেন , ওনার  এক সহ অভিনেত্রী সন্ধেয়বেলা শুটিং চলাকালীন আচমকা  রেগে গিয়ে পুরুষের গলায়  চীৎকার করে পুরো ইউনিটকে  পৈশাচিক আওয়াজে  বলেন  চলে যাও ইহা সে, মেনে কাহা থা না্‌?  ইয়ে হামারি যাগা হে …” তা দেখে ইউনিট এর সবাই ভয়ে  আতঙ্কিত । তারা সঙ্গে সঙ্গে ঐ  জায়গা থেকে চলে   আসে । তারপর থেকে সন্ধায় এখানে  আর কোনদিন শুটিং হয় না ।

 

৬  সানিবার ওডা ফোর্টঃ

পুনে শহরের সানিবার ওডা ফোর্ট খুব ভয়ঙ্কর ও রহস্যময় এক  দুর্গ । পূর্ণিমা রাতে এই দুর্গে এমন  কিছু  ঘটনা ঘটে  যা সত্যিই অত্যন্ত ভয়াবহ । কথায় আছে পূর্ণিমা রাতে এখানে এক যুবকের  চিৎকারের আওয়াজ শোনা যায় । ১৭৩২ সালে বাজিরাও এই দুর্গের  নির্মাণ করেন  । ১৬, ১১০ টাকা খরচা  হয় এই দুর্গের  নির্মাণে । বাজিরাও ও তার ছেলে বালাজি রাও-এর মৃত্যুর পর বাজিরাও এর ছোট নাতি নারায়ান  রাও ১৬ বছর বয়সে পেশবারের সিংহাসনে বসেন ।  কিন্তু রাজ্যের কার্যভার  নারায়ান রাও এর কাকা রাঘুনাথ রাও সামলাতেন । ১৭৭৩ সালের ১৬ অগাস্ট ষড়যন্ত্র করে নারায়ান রাওকে হত্যা করা হয় ।  যখন নারায়ন রাওকে মারতে হত্যাকারিরা আসে তখন সে চিৎকার করে বলতে থাকে  “ কাকা মালা বাচাওবা “, মানে  “কাকা আমাকে বাচাও” । কিন্তু সেই রাতে কেউ তাকে বাচাতে  আসে নি এবং তাকে  নির্মম ভাবে হত্যা করা হয় । ঐতিহাসিকদের মতে নারায়ন রাও এর কাকাই তার হত্যা করায় । আজও পূর্ণিমা রাতে নারায়ন রাও এর চিৎকারের আওয়াজ শুনতে পাওয়া যায় ।

 

 

 

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 1.3K
    Shares

খবর এক নজরে…

No comments found

Sponsored~

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.