আধার সংক্রান্ত ব্যাক্তিগত তথ্য জানার বা বাধ্যতামূলক করার অধিকার কি মোবাইল কোম্পানি বা বেসরকারি ব্যাঙ্কের আছে? – জানান আপনাদের মতামত

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 299
    Shares

Web Desk ~আধার নিয়ে চলা তরজা অব্যাহত, একের পর এক সরকারি পরিষেবা এবং ভর্তুকিতে আধার বাধ্যতামূলক করা নিয়ে চলছে বিস্তর চাপানোতর। তার মাঝেই আধার নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের মনোভাব ও বিবৃতিকে হাতিয়ার বানিয়ে বেসরকারি মোবাইল ও ব্যাঙ্কিং পরিষেবা প্রদানকারীরা নেমে পড়েছেন ঘোলা জলে মাছ ধরতে। মানুষকে ঘনঘন এসএমএসে আর ফোনে মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে আধার সংযুক্তিকরণ এর কথা।

কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, আদৌ কি কোনও বেসরকারি সংস্থাকে অধিকার দেওয়া হয়েছে আপনার-আমার  ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য থেকে শুরু করে প্যানকার্ড নম্বর, পরিবারের সদস্য সংখ্যা, সম্পত্তির হিসেব, রেটিনা ইমপ্রেসন, থাম্ব ইমপ্রেসেনের মতো তথ্য হস্তগত করার?

Image result for adhar and RTI

আধারকার্ডের বিনিময়ে জিও প্রথম মোবাইল সিম দিতে শুরু করেছিল। জিওর দাবি ছিল, এতে খুব সহজেই একজন গ্রাহকের সম্পর্কে সঠিক তথ্য পাওয়া যায়। জিওর সিমটি আক্টিভেট করতে গেলে আপনাকে দিতে হবে মেশিনে বুড়ো আঙ্গুলের ছাপ, যার ফলে আধার ডেটাবেস থেকে সুনিশ্চিত করা হবে আপনার পরিচয়। তার মানে জিওর হাতে আছে আমাদের একান্ত ব্যাক্তিগত থাম্ব ইম্প্রেশনও।  কিন্তু, এভাবে আধার নম্বর দিতে বাধ্য হওয়ায় একজনের সমস্ত গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যাচ্ছে বলে কেরল হাইকোর্টে মামলা করেন কেরল প্রদেশ কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক সুনীল টিজি।  তিনি তাঁর মামলায় অভিযোগ করেন, আধার কার্ডের পরিচালনকারী সংস্থা ইউআইডিএআই এই নিয়ে নিয়ম শিথিল করায় সাধারণ মানুষের একান্ত গোপন তথ্য সবার কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় সরকার নিজেই আধার আইন-এ গোপনীয়তা রক্ষার কথা বলে নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখাচ্ছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেন সুনীল তাঁর করা রিট পিটিসনে।  সুনীল তাঁর আবেদনে ক্যাবিনেট সেক্রেটারিকে শোকজের দাবিও তুলেছেন এবং সেইসঙ্গে আধার ও তার সংশ্লিষ্ট সমস্ত দফতরকে আদালতে জবাবদিহির দিতে হবে বলেও জানিয়েছেন। জিও-কে কীভাবে আধার নম্বর অথেনটিকেশন, থাম্ব ইম্প্রেশন ভেরিফিকেশনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সুনীল।  তাঁর অভিযোগ, সরকারের জন্য আজ জিও-র হাতে চলে গিয়েছে মানুষের সমস্ত গোপন তথ্য।

Image result for adhar and bank

যেখানে ক্রেডিট কার্ড বা ঋণ সঙ্ক্রান্ত কোনও অভিযোগে জনগণের স্বার্থ এবং সাধারণ অধিকার রক্ষার্থে সরকার সেভাবে ফলপ্রসূ পদক্ষেপ নেননি। সেখানে আধার বাধ্যতামূলক করে বেসরকারি ব্যাঙ্কগুলির হাতে জনগণের একান্ত ব্যাক্তিগত তথ্য তুলে দেওয়া নিয়েও উঠছে নানান প্রশ্ন। সম্প্রতি একটি আরটিআই এর জবাবে স্বয়ং রিজার্ভ ব্যাঙ্কও জানিয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে কোনও ব্যাঙ্ককে আধার সংযুক্তিকরণ সংক্রান্ত কোনও নির্দেশ পাঠানো হয়েনি। পুরোটাই কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে হয়েছে।

ব্যাক্তিগত তথ্য গোপনীয়তার অধিকার দেশের সংবিধান আমাদের দিয়েছেন, আধার নিয়ে কড়াকড়ি এবং তাকে বাধ্যতা মূলক করে বেসরকারি কোম্পানিদের হাতে ১২৫কোটি ভারতীয়র যাবতীয় তথ্য তুলে দেওয়া কি সংবিধান বিরোধী বলে বিবেচিত হবেনা?

 


শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 299
    Shares

Sponsored~

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.