অভিমুখ পাল্টেছে , বুক জানছেনা ~ অম্লান রায় চৌধূরী

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 21
    Shares

‘অভিমুখ পাল্টেছে , বুক জানছেনা’

অম্লান রায় চৌধূরী
‘অভিমুখ পাল্টেছে, বুক জানছেনা’ — কি অদ্ভুত তাইনা, একটা দল নির্ভর করে দুটো চারটে
মানুষের উপর, কি জানি বলে এটাকে গনতান্ত্রিক কেন্দ্রিকতা না কি যেন, অত অবশ্য আমি
বুঝিনা, যেমন বোঝেনা অসীম দা, যে কিনা আজো গুলি খাওয়া জখমি পা নিয়ে সাইকেল চালিয়ে
গনশক্তি বিলি করে – বাঁধা ধরা বাড়ীতে – বেলায় এসে চায়ের দোকানে বসে – যদিও ছেলেই চালায়
– তাহলেও থাকে ওখানে । রাতে তর্জা শোনে বুদ্ধিজীবি নেতাদের টিভির পর্দায় । হাসেনা, গুম
মেরে বসে থাকে, মনে পড়লেও পুরোনো কথা দমিয়ে রাখে, বুঝলেও বোঝানোর চেষ্টা করেনা ।
আদর্শের কেনা বেচার সাক্ষী থেকেও নিজেকে অটুট রেখেছে– এখন আর সেই দম নেই । নতুন দমওয়ালা
ঘোড়ারাও সহিস পেলো না যারা চানাও দেবে আবার চাবুকও মারবে । ওই সখ্যতার, স্বাদ না
পাওয়ারা– বুঝলই না আদর্শ টা ঠিক কি, মডেল কাকে বলে, কেমন ভাবে, কখন কোথায় কিভাবে
পাল্টায় স্বতস্ফুর্ত ভাবে – জানাই হলোনা ।
অসীম দা ভাবে এরা কারা, তাড়া খাওয়ার সময় তো এদের দেখিনি । সারা রাত কচুরী পানায় ডুবে
থেকে উঠেও সরলা বৌদি এক কাপ চা দিয়েছিলো, যে বৌদি আজও পাগল ছেলের মৃত্যুশোকে ।
অসীম দা এটা বোঝে, যে পাল্টানোটা যদি স্বতস্ফুর্ত হয়– পাল্টানো থাকেনা– স্বাভাবিক লাগে–
যদিও নতুন অবয়ব– মিলতে বা মিশতে সময় নেয়না । কিন্তু এখন পাল্টানর ধরন টা যেন বড়ই
পরিকল্পিত লাগে– কেন জানেনা, মনে হয় হয়ত বা সবার সায় নেই, কিংবা রাজনৈতিক অসুদ্ধিতার
কোনো অজানা চাবিকাঠি– খুব কঠিন লাগে অসীমদার। না হলে দ্বীজেন দার জীবনে স্থিতু হওয়া
হলো– দলের দয়ায় বৌয়ের চাকরী হলো, নিজেকে দলে উৎস্বর্গ করার শর্ত হিসাবে । ছেলের চাকরী
– নতুন কারখানায় সংগঠন তৈরী করবে এই অঙ্গীকারে, বাড়ী ও বাড়ীর সামনে দোকান ঘরটাও সংগঠনের
কাজে লাগবে – এমনই এক ধারনায়। হঠাৎ আজ সে কিনা উদাসীন– তাত্ত্বিক কথার বাঁধন শেখা এক
সমালোচক– এ ভাবে কিছু হবেনা – এমন একটা ভাব, আয়েশের ভারে আরাম কেদারা যেন বেশী টানে,
অন্য দলের গুনগান না করলেও মেলামেশায় থাকে– স্থিততাটাকে বজায় রাখতে হবে তো ।
অসীমদার যেন মনে হয়– এটাই হওয়ার ছিলো । আরাম আয়েশ, ভোগ, স্থিতি, সবগুলোকে সব অবস্থায়
দমন রাখা যায় কিনা– জানা নেই । এরই মাঝে কিছু নয়া সংশোধন যজ্ঞের পুরোহিতের আসনের
চাহিদা বাড়া– মান্যতা পাওয়া– ঘুরে ফিরে– প্রকাশ্যে ট্রটস্কি– স্ট্যালিন দ্বন্ধের ভাষাকে
বেসাতি করা — আসলে চাই সুখ, স্থিতু, ভোগ– সব শেষ । এক একটা কাল – দেখে যেতে চাওয়া
নিজের আগামীর স্থিতু অবস্থা– আর এক অপকালের জন্মকে স্বাগত জানান। সবই কেমন যেন
স্বাভাবিক মনে হয় অসীম দার কাছে ।
এই ভাবার মানুষ গুলো, আজ বড় ক্লান্ত, আহত, শ্রান্ত, বিদ্ধ্বস্ত — অসীম দা’ রা আজো
বেঁচে আছে , জানেনা আগামী কি দেখাবে তাদের কে।

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 21
    Shares

Sponsored~

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.