অবস্থার আরও অবনতি ~ লাইফ সাপোর্টে অটল বিহারী বাজপেয়ী

AB VAJPAYEE *** Local Caption *** AB VAJPAYEE
শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 34
    Shares

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারি বাজপেয়ী-র শারীরিক অবস্থা খুবই আশঙ্কা জনক, গত চব্বিশ ঘন্টায় তাঁর শরীরের অবস্থা আরও খারাপের দিকেই গেছে। তিন বার প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ভারতকে নেতৃত্ব প্রদান করেছেন তিনি, তাঁর এমন বহু ভাষণ আছে যা আজও সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সকলের কাছেই জনপ্রিয়। যতই তাঁর শরীরের অবনতির খবর বাইরে এসেছে, তত দ্রুত সাধারণ মানুষ থেকে দিল্লির শীর্ষ নেতারা পৌঁছে গিয়েছেন এইমসে। শুধু তাই নয়। তাঁর আরোগ্যকামনা করে সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক পোস্ট করেছেন দলমত নির্বিশেষে দেশের বিভিন্ন নেতারা। ৯৩ বছর বয়সী এই বর্ষীয়ান বিজেপি নেতা তথা ভারতের দশম প্রধানমন্ত্রী গত ১১ জুন থেকে কিডনিতে সংক্রমণ, বুকে ব্যথা এবং মুত্রাশয়ে সমস্যার কারণে এইমসে ভর্তি রয়েছেন। গতকাল রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অটলবিহারী বাজপেয়ীকে দেখতে এইমসে যান। সেখানে তিনি পঞ্চাশ মিনিটের বেশি সময় ধরে ছিলেন।
দীর্ঘ ন’সপ্তাহ ধরে হাসপাতালে থাকাকালীন অটলবিহারী বাজপেয়ীকে দেখতে এসেছিলেন দেশের আরও বহু শীর্ষ নেতা।
ভারতীয় জন সংঘ থেকে ১৯৮০ সালে ভারতীয় জনতা পার্টি অর্থাৎ বিজেপি তৈরি হয়। অটল বিহারি বাজপেয়ী প্রথম বিজেপি সর্বভারতীয় সভাপতি নির্বাচিত হন। অটল বিহারির স্বচ্ছ ছবির ছত্রছায়ার নীচে বিজেপি অল্প সময়ে খুব বিস্তার লাভ করেছিল। আরএসএস-এর বিচার ধারা, অযোধ্যার রাম মন্দির এবং কাশ্মিরের ৩৭০ ধারার মতো ইস্যু নিয়ে আন্দোলন করার জন্যে পার্টির ওপর সাম্প্রদায়িকতার শিলমোহর লাগিয়ে দেয় রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহল। কিন্তু অটল বিহারির ব্যক্তিত্বের সামনে সব ম্লান হয়ে যায়। অটল বিহারির সভাপতিত্বে ১৯৮০ সালে মুম্বাইয়ে প্রথম অধিবেশন হয়। সেখান থেকেই বিজেপি কংগ্রেস বিরোধী রূপরেখা তৈরি করে ফেলেন। ১৯৮৪ সালে অটল বিহারি তার সঙ্গীদের ভোটে লড়ার ব্যবস্থা করে দেন। কিন্তু সেই নির্বাচনের আগেই ইন্দিরা গান্ধীকে হত্যা করা হয়। ফলে রাজীব গান্ধী বিশাল ব্যবধানে জয় লাভ করেন। প্রথম বারের মতো বিজেপি খাতা খুলতে পারে। মাত্র দুটি আসনের বিনিময়ে। ১৯৮৯ সালে নির্বাচনে জনতা দলের সাথে জোট বেধে লড়েন। বিজেপি পায় ৮৯ টি আসন। স্বপ্নের দৌড় অটলের হাত ধরে চলতে থাকে। ১৯৯৬ সালে প্রথম বারের মতো রাষ্ট্রপতি বিজেপিকে ডাকেন এবং সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করতে বলেন। সরকার তৈরি হয়৷ কিন্তু ১৩ দিনের মাথায় সরকার পড়ে যায়৷ ১৯৯৮ সালেও বিজেপির সরকার হয় কিন্তু সেই সরকারও বেশি দিন টেঁকেনি। এক বছরের মাথাতে পদত্যাগ করতে হয়। ১৯৯৯ সালে এনডিএ তৈরি হয়। এনডিএ গঠনের পিছনে অটল বিহারির অবদান অনস্বীকার্য। প্রথম বারের মতো অ-কংগ্রেসী সরকার ভারতে গঠিত হয়। সেই সময় অটলের নেতৃত্বে ভারতবর্ষ অভুতপূর্ব সাফল্য অর্জন করে। সারা ভারতের গ্রামের রাস্তাকে শহরের রাস্তার সাথে জুড়ে দেওয়া হয়। এই সরকারের ‘প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা’ ছিলো বড়ো সাফল্য।
শুধু বিজেপি নেতারাই নন, দেশের এই প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর দ্রুত আরোগ্য কামনায় প্রার্থনা শুরু করেছে গোটা দেশ। কোথাও চলছে বিশেষ যজ্ঞ তো আবার কোথাও চলছে বিশেষ পুজাপাঠ-প্রার্থনা। সবারই একটাই প্রার্থনা, ভগবান যেন দ্রুত তাঁকে সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে দেন।

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 34
    Shares

খবর এক নজরে…

No comments found

Sponsored~