খবর ২৪ ঘন্টা

শেষ বিদায়~ আধুনিক ভারতের আপামর জনগণের প্রিয় প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারি বাজপেয়ী 

শেয়ার করুন সকলের সাথে...

তিনি আধুনিক ভারতের রূপকার৷ দাপটের সঙ্গে ভারতকে বিশ্ব মানচিত্রে জায়গা দিয়েছেন৷ তাঁর প্রয়াণের সঙ্গেই শেষ হল এক বর্ণময় রাজনৈতিক চরিত্রের৷ যিনি ভারতের প্রথম অংকগ্রেসি প্রধানমন্ত্রী যিনি পূর্ণসময়ের জন্য ক্ষমতায় থাকতে পেরেছিলেন৷ একই সঙ্গে তিনি বেনজির ভাবে ১৯৯৬ সালে মাত্র ১৩ দিনের জন্য প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন৷ তবে এর পরও তিনি দু’বার প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন৷ একবার তেরো মাস৷ শেষবার পূর্ণ সময়ের জন্য ছিলেন৷
১৯৯৬ সালে বিজেপি নেতা অটল বিহারী বাজপেয়ী প্রধানমন্ত্রিত্ব পান মাত্র ১৩ দিনের জন্য । এরপর, ১৯৯৮ সালের ১৯ মার্চ থেকে ২০০৪ সালের ২২ মে পর্যন্ত সময়কালে দেশের প্রধানমন্ত্রীর আসনে অধিষ্ঠিত হন অটল বিহারী বাজপেয়ী।
পাকিস্তানের সঙ্গে বাজপেয়ী সরকারের বিদেশনীতি , এযাবৎকালে ভারতের সবচেয়ে ভালো কূটনীতির উদাহরণ। ১৯৯৯ সালের লাহোর ডিক্লারেশন, ভারত-পাক সম্পর্ককে যেমন নতুন দিশা দেখায়, তেমন বিশ্বের আঙিনায় শান্তিকামী ভারতের এক নতুন ছবি তুলে ধরতে সক্ষম হন অটলবিহারী বাজপেয়ী। এই চুক্তির ফলে দুদেশের সম্পর্ক মজবুত হয় ,শান্তি প্রতিষ্ঠার দিকে এগোতে থাকে নওয়াজ শরিফের শাসনাধীন তৎকালীন পাকিস্তান।
এছাড়াও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটা সময়ে ভারতের সম্পর্ক তলানিতে পৌঁছতে শুরু করে। পরিস্থিতির হাল ধরেন অটলবিহারী। শুরু হয় দু’দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য। ২০০০ সালে ভারতে সফরে আসেন তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিন্টন। এর আগে , ১৯৭৮ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার শেষবার এসেছিলেন ভারত সফরে। এদিকে, ক্লিন্টনের ভারত সফরের পর থেকে দুদেশের সম্পর্ক নতুন দিগন্ত পায়।
প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন রাজস্থানের পোখরানে পরমাণু বিস্ফোরণ ঘটানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন৷ শুরু হয়েছিল উপমহাদেশে অস্থিরতা৷ পরে তার পাল্টা পরমাণু বিস্ফোরণ ঘটায় পাকিস্তান৷ প্রধানমন্ত্রীত্বের পদে থাকাকালীন দিল্লি-ইসলামাবাদ সম্পর্কের উন্নতির দুই দেশের মধ্যে বাস চালানো শুরু করিয়েছিলেন বাজপেয়ী৷
১৯৯৯ সালের কার্গিল যুদ্ধ হয় দুই দেশের মধ্যে৷ সেই সংঘর্ষে নিজের সীমারেখা থেকে পাক সেনা ও জঙ্গিদের তাড়িয়ে দেয় ভারতীয় সেনা৷ কিন্তু অনুপ্রবেশের আগাম সংবাদ না পাওয়ায় সরকারের তীব্র সমালোচনার মুখেও পড়েছিল তৎকালীন এনডিএ সরকার৷
২০০১ সালে ২৬ জানুয়ারির সকালে কেঁপে উঠেছিল গুজারাতে ভূজ সহ বিস্তীর্ণ এলাকা। রিখটার স্কেলে ৭.৭ কম্পনের মাত্রা সেদিন শেষ করে দিয়েছিল ২০ হাজার মানুষের প্রাণ। পরিস্থিতিতি সামলাতে ঝাপিয়ে পড়ে বাজপেয়ী সরকার। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঝুঁকি কাঁধে নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল থেকে ১.৫ ডলার বিলিয়নের ঋণ নেয় তৎকালীন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার৷
১৯৯৯ সালের মে থেকে জুলাই মাস। ভারতের সাম্প্রতিক ইতিহাস দেখেছে সীমান্তের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ। পাকিস্তানের মদতে, কাশ্মীর সীমান্ত দিয়ে ঢুকে পড়তে শুরু করে পাক জঙ্গিরা। ভারতের মাটিতে প্রবেশ করতে থাকে পাকিস্তানি সেনাও। চুপ করে থাকেনি ভারত। যাবতীয় আন্তর্জাতিক ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে কড়া জবাব দেয় অটলবিহারীর ভারত।
১৯৯৯ সালে তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসে জাতীয় সড়ক উন্নয়ন প্রকল্প ও প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনা বাজপেয়ীর সবচেয়ে বড় উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ৷ যা ভারতের সড়ক যোগাযোগে কার্যত বিপ্লব ঘটিয়েছে৷ সেই ‘বিপ্লবী’ই চলে গেলেন৷
Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...