প্রশাসনের হস্তক্ষেপ, দাড়িভিটে বসল প্রশাসক

শেয়ার করুন সকলের সাথে...

ইসলামপুরের দাড়িভিট হাই স্কুলের শিক্ষক নিয়োগকে কেন্দ্র করে ২০ সেপ্টেম্বর গোলমাল হয়। গুলিতে দুজন মারা যান। তারপর থেকে এখনও পর্যন্ত বন্ধ স্কুল। ওই ঘটনার পরপরই ডিআই রবীন্দ্রনাথ মণ্ডলকে সাসপেন্ড করা হয়। ঘটনায় ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক অভিজিৎ কুণ্ডু এবং সহকারী প্রধান শিক্ষক নুরুল হুদাকে সাসপেন্ড করা হল। স্কুল শিক্ষা দপ্তর সূত্রে খবর, শুক্রবারই এই দুই শিক্ষককে সাসপেন্ড করার চিঠি ইস্যু করেছে মধ্য শিক্ষা পর্ষদ। এঁদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত শুরু হবে। পড়ুয়াদের নিয়ে ‘‌রাজনীতি’‌ না করে ১০ নভেম্বর স্কুল খোলার নির্দেশ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি।
বৃহস্পতিবার প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী প্রধান শিক্ষককে তাঁদের বক্তব্য শোনার জন্য দপ্তরে ডেকে পাঠানো হয়। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‌ওঁদের বক্তব্যে মোটেই সন্তুষ্ট হতে পারিনি। তাই দুজনকেই সাসপেন্ড করা হয়েছে। শোকজও করা হয়েছে। যতক্ষণ না তদন্তে প্রমাণিত হচ্ছে তাঁরা নির্দোষ, ততদিন পর্যন্ত সাসপেন্ড থাকবেন।’‌ দাড়িভিট হাই স্কুলের পরিচালন সমিতি তিন বছর আগে গঠিত হয়। মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পরও একই সমিতি কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‌তিন বছর হওয়ার পরও বদলের কোনও প্রস্তাব দপ্তরে আসেনি। তাই পরবর্তী পরিচালন সমিতি গঠিত না হওয়া পর্যন্ত মহকুমা শাসককে স্কুলের প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে।’‌

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘‌ঘটনার পর থেকেই প্রধান শিক্ষককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।’‌ উল্লেখ, ওই গোলমালের পর শিক্ষকরা স্কুল খুলতে গেলেও অভিভাবকদের একাংশের বিক্ষোভের জেরে স্কুল বন্ধই থেকে গেছে। এদিকে স্কুল থেকে যারা মাধ্যমিক দেবে তাদের টেস্ট শুরু হওয়ার কথা নভেম্বরে। ফলে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্কুল খোলার উদ্যোগ শুরু হয়েছে। ঘটনার পর মঙ্গলবারই প্রথম স্কুলে আসেন প্রধান শিক্ষক অভিজিৎ কুণ্ডু। ওইদিন স্কুলের মাঠে এখনকার ডিআই সুজিতকুমার মাইতির ডাকা সভায় তাঁকে দেখে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয়রা। তিনি অবশ্য সব ঘটনার দায় তৎকালীন ডিআইয়ের ওপর চাপান। যা মানতে নারাজ গ্রামবাসীরা। তাঁদের বক্তব্য, স্কুলে উর্দু বিষয়ের শিক্ষকের প্রয়োজন না থাকা সত্ত্বেও এবং বিষয়টি নিয়ে আলোচনার পরও কেন নিয়োগ করা হল।

 

স্কুলের পরিচালন সমিতি মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরও কাজ চালিয়ে যাওয়ায়, ভেঙে দেওয়া হয়েছে। ইসলামপুরের মহকুমা শাসক মণীশ মিশ্রকে স্কুলের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‌এতদিন স্কুল বন্ধ থাকায় পঠনপাঠনও বন্ধ। আখেরে ছাত্রছাত্রীদেরই ক্ষতি হচ্ছে। সময় চলে যাচ্ছে। সামনে পরীক্ষা। অভিভাবকদের বলব, কিছু বলার থাকলে আলোচনা করুন। কিন্তু স্কুল বন্ধ রেখে আন্দোলন নয়। ১০ নভেম্বর স্কুল খুলতে বলেছি। এ ব্যাপারে জেলাশাসক, প্রশাসন, স্থানীয় বিধায়ক, দলের পর্যবেক্ষক শুভেন্দু অধিকারী, ডিআই প্রত্যেকের সঙ্গে কথা বলেছি।’‌ ওই স্কুলের অন্য শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বেতন বন্ধ নিয়ে বলেন, ‘‌বিষয়টি জানি না। খোঁজ নেব। ডিআই–‌কে ডিজ্ঞেস করব। তবে স্কুল বন্ধ রাখা হবে, এদিকে বেতনও হবে, এই বিষয়টিও ভাবা দরকার। তবে পড়ুয়াদের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনীতি হোক চাই না। কোনও বিতর্কও চাই না। স্কুল খুলতেই হবে। যে কোনও রক্তপাতই দুঃখের। সরকার মেনে নেয়নি। নেবেও না। দোষীদের শাস্তি হবে।’‌ ঘটনার পরপরই প্রধান শিক্ষক এবং সহকারী প্রধান শিক্ষকের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন শিক্ষামন্ত্রী।

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...

খবর এক নজরে…

No comments found

Sponsored~