“দুলকিচালে” প্রশাসন, গ্রীষ্মের গোড়াতেই ভয়াবহ রূপ নিতে পারে ডেঙ্গু

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 123
    Shares

 নিজস্ব প্রতিনিধিঃ কলকাতা~ শীতকালে বৃষ্টি হয়নি। কালবৈশাখীর কোন লক্ষণ নেই এখন পশ্চিম বাংলার বুকে। আর তাতেই কিছুটা শীতঘুমে ছিল  প্রশাসন। এবার সেই নিশ্চিন্তে থাকাটাই বোধ হয় “ব্যাকফায়া়র” করল। ২০১৮ এর শুরুতে মাত্র ৩ মাসে পড়তে না পড়তেই ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে পড়া মানুষের সংখ্যা ৩১।

Image result for dengue kolkata

স্বাস্থ্য ভবনের তৈরি রিপোর্টে দেখা যাচ্ছে দেখা যাচ্ছে, ২০১৮-র ১ জানুয়ারি থেকে ১৫ মার্চ পর্যন্ত উত্তর ২৪ পরগনা জেলায় ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ৩১। সবচেয়ে বেশি বিধাননগর পুর এলাকায় আক্রান্ত ১২ জন। চারদিকে এত আলোর পিছনের অন্ধকারটা যেন এভাবেই প্রকট হয়ে উঠছে। “প্রদীপের নীচে অন্ধকারটা” ধীরে ধীরে প্রকট হয়ে উঠছে।

গত বছরের ভয়াবহ পরিস্থিতি যাতে এবার না হয়, সে জন্য বছরের গোড়া থেকেই মশা নিয়ন্ত্রণে ঝাঁপিয়ে পড়ার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাতে কাজ হয়নি, স্বাস্থ্য ভবনের পরিসংখ্যানই স্পষ্ট করে দিল। সোমবার বারাসতে পুরসভা, পঞ্চায়েতের প্রতিনিধিদের নিয়ে বৈঠক ডেকে স্বাস্থ্য কর্তাদের উপস্থিতিতে ডেঙ্গির পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়। আক্রান্তদের মধ্যে দু’বছরের শিশুও রয়েছে যা স্বাভাবিক ভাবেই চিন্তা বাড়িয়েছে প্রশাসনের।

Image result for dengue saltlake

বিধাননগর পুরসভার যে সব এলাকায় ডেঙ্গি ছড়িয়েছে, তারমধ্যে রয়েছে রাজারহাট-গোপালপুরের  গৌরাঙ্গনগর ও সিদ্ধার্থনগর কলোনি। সল্টলেকের অরুণাচল ভবন, সেচ ভবন এবং সেন্ট্রাল পার্ক সংলগ্ন এলাকাতেও ডেঙ্গি ছড়িয়েছে বলে স্বাস্থ্য ভবনের রিপোর্টে বলা হয়েছে। প্রশাসনের “গা-ছাড়া” হাবভাব চিন্তা বাড়িয়েছে স্হানীয় মানুষের।

স্বাস্থ্য ভবনের তথ্য নিয়ে  প্রশ্ন তুলেছে বিধাননগর পুরসভা। এক পুর কর্তার বক্তব্য, ‘‘স্বাস্থ্য ভবন এই তথ্য কী ভাবে পেল, বুঝতে পারছি না।’’ বিধাননগর পুরনিগমের মেয়র পারিষদ (স্বাস্থ্য) প্রণয় রায় বলেন, ‘‘স্বাস্থ্য ভবনের ই-মেল পেয়েছি। তালিকায় নাম থাকা এক জনের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, তাঁর রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গি ধরা পড়েনি। বাকিদের সঙ্গেও কথা বলব।

Image result for dengue kolkata

জেলা স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তা জানান, সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালের রিপোর্টের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য ভবন এই তথ্যপঞ্জি তৈরি করেছে। কিছু ক্ষেত্রে ঠিকানা নিয়ে সমস্যা থাকলেও, সংখ্যায় ভুল নেই।

বিধাননগর ছাড়া আর যে পুর এলাকায় ডেঙ্গি ছড়িয়েছে তার মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ দমদম, উত্তর দমদম এবং বরাহনগর পুর এলাকা। গ্রামীণ এলাকার দেগঙ্গা, বাগদা, যুগবেড়িয়া এবং ব্যারাকপুর দু’নম্বর ব্লকে ডেঙ্গি রোগীর সন্ধান মিলেছে।

Image result for dengue kolkata

উত্তর দমদমে আক্রান্তদের বাড়ি সাবিত্রী পল্লি এবং ফতুল্লাপুরে। পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের এক আধিকারিক জানান, দু’সপ্তাহ আগে ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডের এক বাসিন্দার জ্বর হয়েছিল। রক্তপরীক্ষার পরে ডেঙ্গি ধরা পড়েছে।  উত্তর দমদমের ১৪ এবং ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যভবনের প্রতিনিধিরা। পুরসভা সূত্রের খবর, ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে নির্মীয়মাণ বাড়িতে ডেঙ্গির বাহক এডিস ইজিপ্টাই মশার লার্ভা মিলেছে। ৩৪ নম্বর ওয়ার্ডে মজে যাওয়া পুকুরে মিলেছে ওই মশার লার্ভা।

মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ কি অমান্য করেছে পুরসভাগুলি?  উত্তর দমদম পুরসভার চেয়ারম্যান পারিষদ (স্বাস্থ্য) মহুয়া শীল বলেন, ‘‘ঘরে ঘরে সমীক্ষার কাজে আরও নজরদারি প্রয়োজন।’’

Image result for dengue kolkata

এত ডেঙ্গি রোগী শনাক্ত হওয়ার পরেও জেলা স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্তার মন্তব্য, ‘‘মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত আক্রান্তের যে সংখ্যা মিলেছে তা সারা জেলার নিরিখে খুব বেশি নয়। এখনই উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।’’ স্বাস্থ্য দফতরের এক শীর্ষ কর্তা বলেন, ‘‘গত বছরের মতো এ বারেও ডেঙ্গি নিয়ে প্রকৃত তথ্য অস্বীকার করার চেষ্টা চলছে।’’

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 123
    Shares

Sponsored~

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.