ধনতেরসে কী করবেন, আর কী করবেন না? জেনে নিন

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 54
    Shares

গোটা দেশ মেতে উঠেছে ধনতেরাস বা ধনবর্ষা উৎসবে৷ কথিত রয়েছে এই দিনে ভগবান ধন্বন্তরি আবির্ভূত হন৷ ভগবান ধন্বন্তরি চিকিৎসার দেবতা ছিলেন৷ ভগবান ধন্বন্তরি আবির্ভূত হওয়ার সময় তার হাতে ছিল অমৃতের ভান্ড অর্থাৎ অমৃতের কলস৷ যেহেতু ভগবান ধন্বন্তরি কলস নিয়ে আবির্ভূত হন, তাই এই দিনে বাসন সহ বিভিন্ন রত্ন, সোনা রুপো এবং ধাতব দ্রব্য কেনার প্রথা প্রচলিত হয়৷
ধনতেরাস কথার মানে হলো ধনত্রয়দশি বা ধন্বন্তরি ত্রয়োদশী৷ কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে এই উৎসব পালন করা হয়৷ তাই দীপাবলীর আগের দিন এই ধনতেরসে বহু মূল্যবান রত্ন ও সোনা রুপো এবং বিভিন্ন ধাতু বাসনাদি কেনার নিয়ম চালু রয়েছে৷ এছাড়াও হিন্দু শাস্ত্র মতে ধনতেরাস নিয়ে অনেক কাহিনী আছে৷ জেনে নিন তারই একটি৷ একসময় দুর্বাসা মুনির অভিশাপে স্বর্গরাজ্যে দেবতারা লক্ষ্মীহীন হয়ে পড়েন৷ প্রজাপতি ব্রহ্মার নির্দেশে দেবতা ও রাক্ষসের সংঘবদ্ধভাবে সমুদ্রমন্থনের পর, কার্তিক মাসের কৃষ্ণপক্ষের ত্রয়োদশী তিথিতে দেবতারা লক্ষ্মী দেবীকে ফিরে পান৷ তাই হারিয়ে যাওয়া ধন সম্পদ বা লক্ষ্মী দেবীকে ফিরে পাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে এই ধনতেরাসের উপাসনা৷ লক্ষ্মীর আরাধনার মাধ্যমে সূচনা হয় দীপাবলি বা কালীপুজো মা জগৎজননী আরাধনা৷
এই ধনতেরাস নিয়ে আরও একটি কাহিনী চালু রয়েছে৷ বলা হয়, একদা রাজা হিমের পুত্রের মৃত্যু হয় তার বিয়ের চতুর্থ দিনে৷ নববধূ প্রচুর পরিমাণে মহা মূল্যবান রত্ন সোনা রুপা এবং বিভিন্ন ধাতু সামগ্রী বাসনপত্র এবং প্রদীপ দিয়ে ঘর দরজা সাজিয়ে রাখেন৷ প্রদীপের আলোয় চকচকে ধাতুর উজ্জলতায় চোখ ধাঁধিয়ে যায় যমরাজের৷ যমরাজ প্রসন্ন হয়ে অন্য পথ অনুসরণ করেন৷ তখন যমের হাত থেকে বেঁচে যান হিমের পুত্র৷ এরপর থেকেই ধনতেরাসের দিনে শুরু হয় মহা মূল্যবান রত্ন সহ মূল্যবান ধাতু সোনারূপো বিভিন্ন বাসনাদি কেনার রীতিনীতি৷ এবং যমরাজকে প্রদীপ জ্বালিয়ে তার আরাধনা করলে মনে করা হয় পারিবারিক কোন সদস্যর অকাল মৃত্যুর সম্ভাবনা থাকলে কমে যায়৷
ধনতেরাসের এই শুভ লগ্নে ধনী-গরীব নির্বিশেষে প্রত্যেকে কিছু না কিছু কিনে থাকনে৷ বিশেষ করে কোনও ধাতু৷


সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করেন :
১. যে কোনও সমস্যা মিটে যায়: নানাবিধ সমস্যার কারণে কি জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে? তাহলে এবছর ধনতেরাস পুজোর আয়োজন করতে ভুলবেন না যেন! কারণ শাস্ত্র মতে এদিন, এমন বিশেষ পুজো করলে মা লক্ষ্মী এবং গণেশ দেব এতটাই প্রসন্ন হন যে জীবন পথে চলতে চলতে সামনে আসা যে কোনও সমস্যা মিটে যেতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে দেব-দেবীদের আশীর্বাদে হারিয়ে যাওয়া মানসিক শান্তিও যেমন ফিরে আসে, তেমনি স্ট্রেস এবং মানসিক অবসাদের প্রকোপ কমতেও সময় লাগে না।

২. রোগ-ব্যাধি সব দূরে পালায়: এমন বিশ্বাস রয়েছে যে ধনতেরাসের দিন বিশেষ পুজোর আয়োজন করার পাশাপাশি সোনা-রুপোর জিনিস অথবা বাসনপত্র কিনলে সারা বাড়িতে পজেটিভ শক্তির মাত্রা এতটা বেড়ে যায় যে তার প্রভাবে শরীর চাঙ্গা হয়ে উঠতে সময় লাগে না। সেই সঙ্গে যমরাজ এবং মা লক্ষ্মীর আশীর্বাদে ছোট-বড় রোগ-ব্যাধিও সব দূরে পালায়। ফলে আয়ু বাড়ে চোখে পরার মতো।
৩. বাচ্চাদের কোনও ক্ষতি হয় না: ধনতেরাসের দিন মা লক্ষ্মী এবং যমরাজের নামে পুজো দিলে পরিবারের ছোট সদস্যদের কোনও ধরনের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা যেমন কমে, তেমনি নানাবিধ রোগ-ব্যাধিতে বারে বারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনাও যায় কমে।
এবার জেনে নিন ধনতেরাস পুজোর নিয়ম
এদিন বিশেষ পুজো শুরু করার আগে প্রথমে গণেশ ঠাকুরের ছবি বা মূর্তি ভাল করে মুছে নিয়ে তাঁকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে৷ তারপর গণেশ দেবের সারা শরীরে সিঁদুর এবং চন্দন লাগিয়ে পাঠ করতে গণেশ মন্ত্র। গণেশ পুজোর পর শুরু করতে হবে লক্ষ্মী পুজো। ফুল, চন্দন এবং প্রসাদ নিবেদন করে করতে হবে দেবীর পুজো এবং অবশ্যই পাঠ করতে হবে মহালক্ষ্মী মন্ত্র। সবশেষে সারা বাড়িতে ১৩টি প্রদীপ জ্বালিয়ে নাম নিতে হবে যমরাজের। এই নিয়মগুলি মেনে পুজো করলে মা লক্ষ্মী তো প্রসন্ন হবেনই, সেই সঙ্গে গণপতি এবং যমরাজের আশীর্বাদে দেখবেন জীবনটাই বদলে যাবে।

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 54
    Shares

খবর এক নজরে…

No comments found

Sponsored~