দেশের নির্বাচনে রাজনৈতিক দল গুলিকে সাহায্য করবে ফেসবুক! বাড়ছে চিন্তা

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 1.2K
    Shares

ওয়েব ডেস্ক~ হ্যাঁ৷ ঠিকই পড়েছেন৷ মার্কিন কংগ্রেসের সামনে দাঁড়িয়ে মঙ্গলবার ফেসবুক প্রধান মার্ক জুকারবার্গ কিছুটা এই তথ্য স্বীকার করে নিলেন৷ তিনি বলেছেন, ভারতের আসন্ন সব নির্বাচনে ফেসবুকের সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে আমাদের চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না। তবু প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে৷ তাঁর মানে একাধারে তিনি মেনে নিচ্ছেন যে ,  এতদিন স্বচ্ছতা ঞ্ছিলোনা বিশ্বের সর্বাধিক জনপ্রিয় সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইট ফেসবুকের। আর এই নিয়েই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এই অভিযোগ আসতে থাকায় কাঠগড়ায় তোলা হয় মার্ক জুকারবার্গকে।

ফেসবুক সহ সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার ভারতের বিজেপি শিবিরের অন্যতম বড় হাতিয়ার। এর জন্য পৃথক আইটি সেল রয়েছে বিজেপির। ২০১৪ লোকসভা নির্বাচনের আইটি সেলের কর্মীদের বড় অবদান ছিল কেন্দ্রে মোদী সরকার গঠনের ক্ষেত্রে। মূলত ফেসবুকের মাধ্যমেই তৈরি করা হয়েছিল নরেন্দ্র মোদীর ব্র্যান্ড। এর ওপর ভর করেই বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে দিল্লিতে গঠিত হয় এনডিএ সরকার। এবারো মোদী নিজেই সোশ্যাল মিডিয়ায় কার কত ভক্ত তাঁর প্রেক্ষিতে লোকসভার টিকিট বিলি করবেন বলে জানিয়েছেন।  ২০১৯ সালেও নির্বাচনে বড় ভূমিকা নিতে চলেছে ফেসবুক, টুইটারের মতো সোশ্যাল মিডিয়া গুলি৷

Image result for facebook indian election

তথ্য চুরি বিতর্কে এবার মার্কিন সেনেটে সাফাই দিয়েছেন মার্ক জুকারবার্গ। ‘হোয়াটসঅ্যাপ’ নিয়েও জবাব দিয়েছেন তিনি৷ ফেসবুক কোনওভাবেই ভারতে নির্বাচনে নাক গলানো বা জনগণের মতামতকে প্রভাবিত করার মতো কাজ করবে না বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

মার্কিন সেনেটের সামনে জুকারবার্গ নানা বিষয়ে নিজেদের ভুলের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন৷ মঙ্গলবার তিনি জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিড টার্ম নির্বাচন শুধু নয়৷ ভারত, পাকিস্তান, মেক্সিকো, হাঙ্গেরি ও ব্রাজিলেও নির্বাচন রয়েছে৷ নিজের ভুল স্বীকার করে তিনি জানান, নিজেদের দায়িত্বের বিস্তার সঠিকভাবে বুঝতে পারেনি ফেসবুক। এই প্লাটফর্মটি ব্যবহার করে ভুয়ো খবর ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা হয়েছে। তবে এবার যথেষ্ট সতর্ক তারা৷ এই ভুল দ্বিতীয়বার করা হবে না৷

Image result for whatsapp vs facebook messenger

এর পাশাপাশি তিনি জানান হোয়াটসঅ্যাপে পাঠানো মেসেজ সম্পূর্ণ সুরক্ষিত। এই মেসেজগুলি ফেসবুক সিস্টেমসের নজরের বাইরে। ফলে ওই প্ল্যাটফর্মে পাঠানো বার্তাগুলি আপাতত অবাঞ্চিত হাতে যাওয়ার ভয় নেই। আগেই তথ্য চুরির অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছিলেন জুকারবার্গ। তারপরই ডেটা চুরির আশঙ্কায় ভুগছিলেন গ্রাহকরা। তবে ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতার বয়ানে কিছুটা হলেও স্বস্তিতে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারীরা। তথ্য চুরি ও নির্বাচন প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের একাধিক অভিযোগে জর্জরিত জুকারবার্গ। এই ঘটনায় প্রভাব পড়েছে ফেসবুকের শেয়ারের দামেও। আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে সংস্থাটি।

 

মার্চ মাসে প্রায় ৫০ মিলিয়ন গ্রাহকের তথ্য চুরি করে মার্কিন নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠে ‘কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা’র বিরুদ্ধে। তথ্য চুরির দায় কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন মার্ক। কিন্তু এত বড় চুরি যেন দ্বিতীয়বার না ঘটে, তার জন্য এবার বড়সড় পদক্ষেপ করছে ফেসবুক। এর আগেও অবশ্য তথ্য চুরি ঠেকাতে থার্ড পার্টি অ্যাপসের গতিবিধি নিয়ন্ত্রিত হয়েছে ফেসবুকে। কিন্তু সে সব পদক্ষেপ যে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ডেটা জালিয়াতি রুখতে পারেনি, গত মাসে কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার কুকীর্তি সে কথাই প্রমাণ করে দিল।

এর প্রধান পদক্ষেপ হিসেবে ফেসবুক নিয়ন্ত্রিত বিশেষ একটি অটোমেটেড টুল নিয়মিত মেসেঞ্জারে পাঠিয়ে থাকা যেকোন কনটেন্ট (যেমন: টেক্সট,ছবি,ভিডিও) স্ক্যান করছে। যখন কেউ কোনো মেসেজ সম্পর্কে ফেসবুকে রিপোর্ট করে তখন কেবল ফেসবুকের কোনো কর্মকর্তা সেই মেসেজ পরীক্ষা করেন। তাছাড়াও ফেসবুকে যখন কোনো মেসেজ বিশাল আকারে স্প্যাম হিসেবে ছড়িয়ে পরে ; এই টুলটি তা ধরতে পারে এবং কেউ রিপোর্ট করলে সেই মেসেজটি ব্লক করে দেয়।

Image result for zuckerberg in us congress

মঙ্গলবার মার্কিন কংগ্রেসের শুনানিতে ক্ষমা চেয়েছেন ফেসবুকের সিইও। কোটি কোটি গ্রাহকের তথ্য বেহাত হওয়ার ঘটনায় মার্কিন কংগ্রেসের সামনাসামনি হতে হয় তাঁকে৷ শুনানিতে জুকারবার্গ মার্কিন সিনেটরদের জানান, ফেসবুক রাশিয়ান অপারেটরদের সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে যাতে তারা ফেসবুক ব্যবহার করে ফায়দা নিতে না পারে। তিনি এও বলেন, এটি একটি প্রতিযোগিতা। তারা দিন দিন আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে। জুকারবার্গ বলেন, প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের জন্য কিছু সময় দরকার। কিন্তু আমি সবকিছু ঠিক করার ব্যাপারে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। ডাটা বিশ্লেষক কোম্পানি ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা ফেসবুকের পাঁচ কোটি গ্রাহকের তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় প্রশ্নোত্তর জবাবে জাকারবার্গ এমনটা বলেছেন। ২০১৬ সালে মার্কিন নির্বাচনে রুশ হস্তক্ষেপের বিষয়ে তদন্তকারী দল ফেসবুকের স্টাফদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করেছে বলে জানিয়েছেন জাকারবার্গ।

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 1.2K
    Shares

Sponsored~

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.