দীপান্বিতার আরাধনা: কীভাবে ও কেন?

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 25
    Shares

শক্তির আরাধনা গোটা রাজ্য জুড়ে৷ আর দেশ মেতেছে দিওয়ালিতে৷ আলোর মালায় সেজে উঠেছে গলি থেকে রাজপথ৷ কিন্তু প্রতিটি উৎসবের পিছনেই কিছু না কেন পৌরাণিক কাহিনী রয়েছে৷ আসুন আজ জেনে নিই কেন আলোর বন্যায় ভাসে রাজ্য৷ কেন দেবী কালীর আরাধনা করা হয়৷
মহালয়ায় শ্রাদ্ধ গ্রহণের জন্য যমলোক ছেড়ে যে পিতৃপুরুষগণ মর্ত্যে আগমন করেন বলে, তাঁদের পথ প্রদর্শনার্থে উল্কা জ্বালানো হয়। এ কারণে ঐ দিন আলোকসজ্জা ও বাজি পোড়ানো হয়। কেউ কেউ রাত্রিতে নিজগৃহে দরজা-জানালায় প্রদীপ জ্বালায়। কেউ কেউ বা লম্বা বাঁশের মাথায় কাগজের তৈরি ছোট ঘরে প্রদীপ জ্বালায়, একে আঞ্চলিক ভাষায় বলা হয় আকাশ প্রদীপ।

রামায়ন অনুসারে দীপাবলীর দিনে ত্রেতা যুগে ভগবান শ্রীরামচন্দ্র রাবণ বধ করে চোদ্দ বছরের বনবাস শেষে অযোধ্যায় প্রত্যাবর্তন করেন। শ্রীরামের চোদ্দ বছর পরের প্রত্যাবর্তনে সারা রাজ্য জুড়ে প্রদীপ জ্বালানো হয়। সেই অধ্যায়কে সামনে রেখেই দীপাবলীর অর্থ বিস্তৃত হয়েছে৷

আক্ষরিক অর্থে দীপাবলি মানে “আলোর সারি”। দীপাবলিতে, প্রতিটি বাড়ি তেল বা ঘি-এর প্রদীপ, মোমবাতি ও ইলেক্ট্রিক লাইট দিতে সাজানো হয়। প্রথাগতভাবে, মাটির প্রদীপে তুলোর তৈরী সলতে দিয়ে বেশিরভাগ বাড়ি-ঘর আলোকিত করা হয়ে থাকে। যদিও এই পরিবর্তনশীল আধুনিক সময়ে অনেক ঘরেই মোমবাতি মাটির প্রদীপের জায়গা নিয়ে নিয়েছে। তা সত্ত্বেও, এই আলোর উৎসবের ধারনা অপরিবর্তিত রয়ে গেছে।

হিন্দুধর্মে আলো তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ আলো পবিত্রতা, সদগুণ, সৌভাগ্য এবং পরাক্রমকে সূচিত করে। আলোর উপস্থিতি অর্থাৎ অন্ধকার এবং অপশক্তির অনুপস্থিতি। যেহেতু, দীপাবলি অমাবস্যার রাতে পালন করা হয় তাই চারদিকে নিকষ অন্ধকার থাকে আর এই অন্ধকার থেকে মুক্তি পেতে মানুষ সর্বত্র লক্ষ লক্ষ প্রদীপ জ্বালিয়ে আলোকিত করে রাখে। বিশ্বাস করা হয়, নিকষ অন্ধকারেই অশুভ আত্মা ও অশুভ শক্তি সক্রিয় হয়ে ওঠে। তাই এই অশুভ শক্তিকে দুর্বল করতে ঘরের প্রতিটি কোনায় কোনায় বাতি বা প্রদীপ জ্বালানো হয়ে থাকে।

পুরাণ কাহিনীতে কথিত রয়েছে সুম্ভ ও নিসুম্ভ নামের দুই অসুর স্বর্গে ও মর্ত্যে আক্রমণ করে। তাদের আটকাতে দেবী দুর্গার কাছে প্রার্থনা করেন দেবতারা। সুম্ভ-নিসুম্ভকে আটকাতে মা দূর্গার কপাল থেকে জন্ম হয় মা কালীর। মহামায়ার চণ্ডাল রূপই হলেন মা কালী। এর পরই নিজের খাঁড়া দিয়ে অসুরদের বধ করতে শুরু করেন কালী। বধের সঙ্গে সঙ্গেই তাদের রক্তও পান করতে থাকেন দেবী। ফলে ক্রমশই রক্তের তৃষ্ণা বাড়তে থাকে। মৃত অসুরদের মেরে তাদের মুন্ডের মালা গলায় পড়ে নেন তিনি। এমতাবস্থায় কালীকে আটকানো কার পক্ষেই সম্ভব হচ্ছিল না। কালীর উন্মত্ততাকে আটকাতে তাঁর স্বামী শিব পথে শুয়ে পড়েন। উন্মত্ত অবস্থায় যখন মা কালীর স্বামীর গায়ে পা তুলে দেন, অনুশোচনায় তখন তাঁর জিহ্বা বেরিয়ে আসে। এবং ধীরে ধীরে শান্ত হন দেবী। মা কালীর এই রূপকেই পুজা করা হয়।
কালীপুজো মূলত মধ্যরাতে হয়ে থাকে। কার্তিক মাসের অমাবস্যার রাতে মা কালীকে পুজো করা হয়। আগেরকার দিনে যুদ্ধে যাওয়ার আগে জয় পাওয়া ও নিরাপত্তার জন্য মা কালীকে পুজো করা হতো। যদিও এখন প্রাকৃতিক দুর্যোগের হাত থেকে রক্ষা পেতে মহা কালীর পুজো করা হয়ে থাকে।
বিষ্ণুপুরাণ মতে, বিষ্ণুর বামন অবতার অসুর বলিকে পাতালে পাঠান; দীপাবলীর দিনে পৃথিবীতে এসে অন্ধকার ও অজ্ঞতা বিদূরিত করতে, ভালবাসা ও জ্ঞানের শিখা প্রজ্বলিত করতে অসুর বলিকে পৃথিবীতে এসে অযুত অযুত প্রদীপ জ্বালানোর অনুমতি দেওয়া হয়। দীপাবলীর তৃতীয় দিন- কার্তিকা শুদ্ধ, এই দিন অসুর বলি নরক থেকে বেরিয়ে পরিশুদ্ধ হয়ে বিষ্ণুর বরে পৃথিবী শাসন করেন। চতুর্থ দিন হচ্ছে ভ্রাতৃ দ্বিতীয়া, একে যম দ্বিতীয়াও বলা হয়। এই দিন বোনেরা ভাইকে নিমন্তণ করে, কপালে ফোঁটা দেয়, ভাইয়ের মঙ্গল কামনা করে৷

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 25
    Shares

খবর এক নজরে…

No comments found

Sponsored~