তদন্তকারী মহিলা পুলিশ অফিসারকেই খুন করল আততায়ী

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 23
    Shares

২২ বছরের যুবতী পুলিস অফিসার নাটালিয়ে করোনার শরীরে বন্দুকের পুরো ম্যাগাজিনটাই খালি করে দিল আততায়ী। ৪৮ বছরের ওই আততায়ীর নাম কেভিন ডগলাস লিমবাগ। নাটালিয়ে গিয়েছিলেন তিনটি গাড়ির একসঙ্গে ঘটা দুর্ঘটনার তদন্তে। ওই দুর্ঘটনায় কেউ আহতও হননি। অথচ খুন হয়ে গেলেন তদন্তকারী মহিলা পুলিসকর্মীই। ঘটনাটি ঘটেছে আমেরিকার ক্যালিফোর্নিয়ার কোলুসা কাউন্টিতে, ডেভিস পুলিস দপ্তরের এলাকায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, কেভিন শুধু নাটালিয়েকে লক্ষ্য করেই গুলিবর্ষণ করেছিল। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে এক পথচারীর ব্যাগ এবং দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়ি সরাতে আসা দমকলকর্মীর বুট লক্ষ্য করে গুলি চালালেও তাঁরা কেউ জখম হননি।এরপর পালিয়ে নিজের বাড়িতে ঢুকে পড়ে সে। ডেভিস থানার পুলিস কেভিনের বাড়ি ঘিরে ফেললেও দরজায় ভারী আসবাব রেখে তাঁদের ঢুকতে বাধা দেয় সে। পরে গুলির শব্দ পেয়ে পুলিস ভিতরে ঢুকে কেভিনের দেহ এবং বিছানায় একটি ছোট চিঠি উদ্ধার করে। চিঠিতে লেখা আছে, কুকুরদের ডাক থামাতে যে আলট্রা সোনিক শব্দতরঙ্গ ব্যবহার হয়, তার উপর সেই শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করে অত্যাচার চালাচ্ছে পুলিস। কানে খাটো হওয়ায় ওই শব্দ তার কাছে অসহ্য হয়ে উঠছে। সমস্যার কথা বহুবার পুলিস এবং প্রশাসনকে জানিয়েও লাভ না হওয়ায় মৃত্যুর পথ বেছে নিচ্ছে সে। কেভিনের ঘর থেকে দুটি আধা স্বয়ংক্রিয় বন্দুক উদ্ধার হয়েছে। এধরনের আগ্নেয়াস্ত্র দিয়েই সে গুলি চালিয়েছিল সে বলে পুলিসকে জানিয়েছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা। কেন কেভিন এভাবে খুন করল তা জানতে তদন্তে নেমেছে পুলিস। ‌‌তাঁদের পরিবার কেভিনকে ক্ষমা করে দিয়েছে বলে জানিয়ে নাটালিয়ের বাবা মার্সিড করোনা বললেন, তাঁর মেয়ে যে কাজে নিজের জীবন উৎসর্গ করতে চেয়েছিল, সেই কাজ করতে গিয়েই মারা গিয়েছে। এজন্য তিনি, তাঁর স্ত্রী এবং ছোট মেয়ে গর্বিত। ডেভিস থানার প্রধান ড্যারেন পিটেল জানালেন, পুলিস অফিসার বাবা মার্সিড করোনার আদর্শে অনুপ্রাণিত নাটালিয়ে ছোট থেকেই পুলিসে যোগ দিতে চেয়েছিলেন। বাবাকে ‘‌সহকর্মী পুলিসভাই’‌ বলেও সম্বোধন করতেন। ২০১৬ ডেভিস পুলিস ডিপার্টমেন্টের কমিউনিটি সার্ভিস অফিসার হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন নাটালিয়ে। মাইনে না পেলেও স্বেচ্ছাসেবী ওই সংগঠনের কাজও অত্যন্ত উৎসাহ আর দক্ষতার সঙ্গে করতেন তিনি। গত বছরের ক্রিসমাসে পুলিস অ্যাকাডেমি থেকে পাস করেন নাটালিয়ে। তাঁর বাবা যখন মেয়ের বুকে ব্যাজ পরাচ্ছে, তখন নাটালিয়ের তৃপ্তির হাসি আজও মনে আছে তাঁর সহকর্মীদের। জানালেন পিটেল।

Facebook Comments


শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 23
    Shares

খবর ২৪ ঘন্টা

খবর এক নজরে…

No comments found