প্রকাশ্য রাজপথে বৃহন্নলাদের ‘তোলাবাজির’ বাড়বড়ন্ত ~ সৌজন্যে প্রশাসন …

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 1.4K
    Shares

ওয়েব ডেস্ক, নিজস্ব প্রতিনিধিঃ  তারা এখন চাকরি পান৷ নিয়োগের সময় থার্ড ক্যাটাগরির ব্যবস্থা করা হয়েছে তাদেরই জন্য৷ তারা এখন মডেল, অভিনেত্রী, অধ্যাপিকা, বিচারক এমনকি পুলিশ কর্মীও৷ কোচি মেট্রোয় তারা চাকরি পাচ্ছে বিনা বাধায়৷ তারা বৃহন্নলা, বা ভালো ভাষায় রূপান্তরকামী৷

রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের (সুরক্ষা ও অধিকার) বিল, ২০১৬-তে বলা হয়েছে রূপান্তরকামীরা সমাজ, অর্থনীতি ও শিক্ষার ক্ষেত্রে ক্ষমতায়নের সুযোগ পাবেন। এর ফলে, তাঁদের প্রতি যে অবহেলা ও বৈষম্য করা হয়, তা যেমন দূর হবে, অন্যদিকে তেমনই তাঁদের বিরুদ্ধে সামাজিক নিন্দার দায় থেকেও মুক্ত থাকবেন তাঁরা। প্রান্তিক শ্রেণীভুক্ত রূপান্তরকামী ব্যক্তিদের সমাজের মূল স্রোতে নিয়ে আসার কাজও তাতে আরও সহজ হয়ে উঠবে। শুধু তাই নয়,অন্তর্ভুক্তির সুযোগ লাভের পাশাপাশি, সমাজের উৎপাদনশীলতার কাজেও অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন তাঁরা।

তাহলে কেন এত অনিশ্চয়তা৷ কেন এত অন্যায় দাপট? বাসে, ট্রেনে, পথে ঘাটে সর্বত্র তাদের অত্যাচারে, তাদের অন্যায় আচরণের শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে৷ ট্রাফিক সিগন্যালে গাড়ি দাঁড়াতেই শুরু হয় টাকা পাওয়ার অন্যায় আবদার৷ অদ্ভুতভাবে তাদের দাবি টাকা দিতেই হবে৷ সেটা যত দৃষ্টিকটুই হোক না কেন, যতই অন্যায়ভাবে হোক না কেন, কোনও কিছুই তাদের গায়ে লাগে না৷ টাকা রোজগারই একমাত্র লক্ষ্য তাদের৷

অবশ্য যাবতীয় দায় তো সেই সাধারণ মানুষের৷ তারই সম্মান বাঁচানোর দায়, বৃহন্নলাদের এড়িয়ে চললে কুসংস্কারের বশে নিজেকে রক্ষা করার দায়৷ অথচ খেসারতও তাদেরই দিতে হয়৷ বাড়িতে কোনও ছোট শিশু জন্মালে মোটা টাকার খেসারত দিতে হয়৷ বিয়ে বা কোনও শুভ অনুষ্ঠানে এদের অন্যায় অত্যাচারে নাজেহাল সাধারণ মানুষ৷

কিন্তু কোনও হেলদোল নেই প্রশাসনের৷ প্রশাসন এগিয়ে না এলে মানুষ কোথায় যাবেন? হাসপাতালের সঙ্গে এদের ঘনিষ্ঠ যোগ, পুলিশের সঙ্গে এদের নিত্য ওঠাবসা৷ সবটাই টাকার খেলায় চলছে৷

সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা টাকা নিয়ে প্রতিটি ক্ষেত্রে পৌঁছে যায় কমিশন৷ টাকার জোরে চুপ থাকে সবাই৷ কিন্তু সাধারণ মানুষ? তাদের কাজ শুধু নাজেহাল হওয়া৷ তাদের জন্য বলার কেউ নেই, দেখার কেউ নেই, শোনার কেউ নেই৷

টাকা না পেলেই চলছে জুলুমবাজি৷ গালিগালাজ, জোর করে আটকে রাখা – কিছুই বাদ যায়নি এদের কাছে৷ শহরের পার্ক স্ট্রিট, পার্ক সার্কাস, খিদিরপুর, সায়েন্স সিটি, মৌলালি, রেস কোর্স মোড়, অধিকাংশ বড় বড় কানেক্টরে এদের নিত্য উপস্থিতি৷ আর নিত্যদিন যন্ত্রণার মুখে পড়তে হয় পথ চলতি মানুষকে৷ বিশেষ করে যারা প্রাইভেট কার বা ট্যাক্সিতে যাতায়াত করেন, তারা সবচেয়ে বেশি বিড়ম্বনায় পড়েন৷ সিগন্যালে গাড়ি দাঁড়িলেই শুরু হয় টাকা কামানোর খেলা৷ না দিলে কুৎসিত অঙ্গভঙ্গি, বাজে ভাষায় কথা বলা, গাড়ির কাঁচে মারা ইত্যাদি শুরু হয়৷

কলকাতায় আসেন অনেক পর্যটক, তার মধ্যে প্রচুর বিদেশিও থাকেন৷ অত্যাচারের রেশ তাদের ওপরেও গিয়ে পড়ে৷ কি ভাবমূর্তি থাকে শহরের? এ রাজ্যের? প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক৷ অনেকে টাকা দেন সম্মানহানির ভয়ে৷ কেউ কেউ টাকা দেন পুণ্য অর্জনের জন্য, কেউ বা কুসংস্কারের বশে৷ কিন্তু তাও জুলুম থামেনা৷ এর শেষ কোথায়? কেউ জানে না৷

পুলিশ প্রশাসনের কর্তারা বলছেন অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবেন৷ কিন্তু তার আগে কেন নয়? জবাব কে দেবেন? এই প্রশ্ন আম আদমির৷ তবে উত্তর দেওয়ার কেউ নেই৷ তাই বৃহন্নলাদের দাপট বাড়ছে উত্তরোত্তর৷

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 1.4K
    Shares

খবর এক নজরে…

No comments found

Sponsored~

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.