আরএসপি-র সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ক্ষিতি গোস্বামী

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 41
    Shares

দীর্ঘদিন পর আরএসপির শীর্ষ পদে কোনও বাঙালি৷ আরএসপি–‌র প্রবীণ নেতা ক্ষিতি গোস্বামী দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হলেন। তিনদিন ধরে চলা দলের ২১তম সর্বভারতীয় সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে এই দায়িত্ব পেয়েছেন তিনি। ‌এতদিন দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে ছিলেন কেরলের টি জে চন্দ্রচূড়। টানা ১০ বছর ওই দায়িত্বে ছিলেন তিনি। ২০০৮ সালে দিল্লিতে দলের সর্বভারতীয় সম্মেলনে দায়িত্ব পেয়েছিলেন তিনি।
সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পাওয়ার পর রাজ্যে কংগ্রেসের সঙ্গে বামেদের ঘোষিত বা অঘোষিত প্রাক–‌‌নির্বাচনী জোট নিয়ে জল্পনা প্রসঙ্গে ক্ষিতি গোস্বামী বলেন, ‘‌এমন জোট হলে আখেরে আরএসপি–‌‌সহ বাম শরিক দলগুলির ক্ষতি হয়। কারণ, বামেদের ভোট কংগ্রেসে গেলেও কংগ্রেসের ভোট আসে না। ২০১৬–‌এর বিধানসভা নির্বাচনে তার প্রমাণ মিলেছে।’‌ তিনি আরও বলেন, ‘তবে‌ বাম জোটের স্বার্থে তিক্ত সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হতে পারে। কিন্তু আলিপুরদুয়ার, বহরমপুর, জয়নগর, বালুরঘাট, এই আসনগুলিতে আগের মতোই লড়বে আরএসপি। তা না হলে, সংগঠন ধরে রাখা মুশকিল হবে।’‌ ক্ষিতি জানিয়েছেন ১৯ জানুয়ারি ব্রিগেডে তৃণমূলের সমাবেশে যোগ দেওয়ার জন্য তাঁকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। কিন্তু, তিনি যাবেন না।
আগামী লোকসভা নির্বাচনে জাতীয় স্তরে আরএসপি কি বিরোধীদের সম্ভাব্য জোটে শরিক হবে?‌ ‌এই প্রশ্নের উত্তরে ক্ষিতিবাবু বলেন, ‘‌যেখানে বামেদের শক্তি ক্ষীণ, সেখানে ধর্মনিরপেক্ষ, প্রগতিশীল, সম‌মনস্ক রাজনৈতিক দলের সঙ্গে হাত মেলানো যেতে পারে। তবে, অবশ্যই তা হতে হবে বামেদের নেতৃত্বে।’‌
সোমবার দিল্লির মভলঙ্কর অডিটোরিয়ামে বসে ক্ষিতিবাবু জানালেন, ‘‌লোকসভা নির্বাচনের আগে দলের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি বৃহত্তর বাম ঐক্য গঠনই আমার প্রাথমিক লক্ষ্য হবে।’‌ দীর্ঘদিন ধরে দলের রাজ্য সম্পাদকের দায়িত্ব সামলেছেন এক সময়ের পূর্তমন্ত্রী। তাঁর জায়গায় দলের রাজ্য সম্পাদক হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী বিশ্বনাথ চৌধুরি এবং প্রবীণ নেতা মনোজ ভট্টাচার্য। এদিন ৫১ জনের কেন্দ্রীয় কমিটি তৈরি হয়েছে। এবার সম্মেলনে বাংলা থেকে ২০০–‌‌র বেশি প্রতিনিধি অংশ নিয়েছিলেন। কেরল থেকে এসেছিলেন ১৬০ জন।
ক্ষিতি গোস্বামী জানালেন, ‘‌বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বৃহত্তর বাম ঐক্য অটুট রাখা অত্যন্ত জরুরি। বামেরা বিচ্ছিন্ন হলেই সাম্প্রদায়িক শক্তি মাথা তুলবে। এখন কেন্দ্রের বিজেপি–‌‌কে উৎখাত করা প্রধান লক্ষ্য। সেই লক্ষ্যে সাধ্যমতো লড়াই করতে হবে। বামেরা যেখানে দুর্বল, সেখানে ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিকে সাহায্য করতে হবে।’‌‌

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 41
    Shares

খবর এক নজরে…

No comments found

Sponsored~