খবর ২৪ ঘন্টা

কিভাবে বুঝবেন আপনি কারো “নজর লাগা”র শিকার হয়ে গিয়েছেন কিনা? কিভাবে বাঁচবেন এই “বদনজর”থেকে? জেনে নিন…

শেয়ার করুন সকলের সাথে...

ওয়েব ডেস্কঃ  যখন কেউ কারোর উন্নতি দেখে অথবা প্রশংসনীয় কিছু দেখে এমন কিছু বলে দেয় যাতে তার খারাপ হবার সম্ভাবনা থাকে, তখনই তাকে বলা হয় নজর লাগা। এর ফলে মানুষের ভালো কিছু যা তার ভাগ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে, সেটি স্তব্ধ হয় এবং সুফল প্রদানকারী শুভ সবকিছু থেমে গিয়ে অশুভ ফল প্রদানকারী বিভিন্ন শক্তি মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।

নজর লাগলে কোন এক উন্নত ব্যবসা পর্যন্ত অশুভ শক্তির আওতায় এসে পড়লে হঠাৎ থেমে যেতে পারে এমনকি বড় বা ছোট বয়স নির্বিশেষে যে কোন ব্যক্তি বা বাচ্চা শরীর খারাপ হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারে। বিভিন্ন ধরনের সমস্যা এবং মুশকিল মানুষের জীবনের প্রতি পদে পদে এসে দাঁড়ায় এবং তার যেকোনো কাজে বাধা দিতে শুরু করে। আপনি যদি এই নজর লাগা দোষ দ্বারা পীড়িত হন, তাহলে আমাদের এই তথ্য মূলক খবরে আপনি নিজেকে মুক্ত করতে পারবেন অর্থাৎ নজর লাগা সমস্যার সমাধান অনায়াসে করতে পারবেন। ভারতীয় সংস্কৃতিতে ‘নজর লাগা’ একটি প্রচলিত ধারণা। আপনার জীবনের কোনও শ্রীবৃদ্ধি দেখে কেউ যদি মনে মনে ঈর্ষান্বিত হয়, তাহলে আপনার উপর সেই ব্যক্তির ঈর্ষার একটা নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী নজর লাগা সমস্যার বিভিন্ন ধরনের সমাধান করা যেতে পারে। জ্যোতিষ মতে কোন ব্যক্তির চন্দ্র এবং রাহুর সমস্যা থাকলে তার রাশিচক্রে প্রভাবিত বিভিন্ন অশুভ গ্রহ গুলি সেই মানুষটির জীবনে নানান রকম অশুভ ফল দান করে। এই ধরনের লোকেরা খুব সহজেই নজর লাগা দোষের কবলে পরে বা নজর লেগে শুভ ফল হারাতে পারে। অর্থাৎ এই সকল লোকের খুব তাড়াতাড়ি নজর লেগে যায়। কোন ব্যক্তির রাশিচক্রে যদি অশুভ কোন গ্রহ ফল দান করে বা সেই ব্যক্তির কোনো রকম কোনো অশুভ সময় পীড়িত হয় তাহলেও সেই ব্যক্তির নজর লাগা দোষের সম্মুখীন হয় এবং তার উন্নতি প্রতিহত হয়।

যে সকল লোকের নজর লাগে তাদের কোনো রকম কোনো কাজই ফলপ্রসূ হয় না এবং হাজার পরিশ্রম সত্বেও যেকোনো ধরনের শুভকাজ ব্যর্থ হয়। আসুন আমরা জেনে নিই আপনার ওপরে কারো নজর লেগেছে কিনা তা জানতে হলে কি করা উচিত অথবা নজর লাগলে তার প্রতিকার কি হওয়া উচিত।

এরকম মনে করা হচ্ছে করা হয় যে ঘরের বাইরে অথবা দোকানের বাইরে পাতি লেবু এবং লঙ্কা ঝুলিয়ে রাখলে নজর লাগা দোষ থেকে মুক্ত হওয়া যায়। নজর লাগা সম্পর্কে আসল সত্যিটা হল কোন ব্যক্তি যখন কোন দোকান অথবা কোন ঘরবাড়ির দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে, তখন সেই ব্যক্তির মধ্যেকার কোন অশুভ নেগেটিভ এনার্জি সেই দোকান বা ঘরবাড়ির প্রতি নিবদ্ধ হয় এবং তার জন্য সেই দোকান অথবা বাড়ির ক্ষতি হয়। এই কারণে কোন দোকান অথবা ঘরবাড়িতে লেবু লঙ্কা ঝুলিয়ে রাখলে লেবুর টক ভাব এবং লঙ্কার ঝাল ভাব সেই মানুষটির মধ্যেকার নেগেটিভ এনার্জিকে প্রতিহত করে এবং তার দ্বারা দোকান অথবা ঘরবাড়ি সুরক্ষিত থাকে।

কোন ব্যক্তির ওপর যাতে কোন কুনজর বা বদ নজর না পরে সেই জন্য সাধারণত কালো তাগা সেই ব্যক্তির শরীরে, হাতে, গলায়, কোমরে বা পায়ে পর্যন্ত বেঁধে দেওয়া হয়। এই একই কাজ বাচ্চাদের ওপর প্রয়োগ করা হয় এবং বাচ্চাদেরকে এই কারণে কপালে কালো টিপ লাগানো হয়। বৈজ্ঞানিক দিক থেকে দেখতে গেলে যদিও একে কুসংস্কার বলে মানা হয় তবুও মানুষের সংস্কারাচ্ছন্ন মন এবং জ্যোতিষের মতে কালো টিপ বা কালো দাগ আর দ্বারা অশুভ ক্ষমতা দূরীকৃত হয়। তবে এর একটি বৈজ্ঞানিক যুক্তি ও ক্ষীন হলেও পাওয়া যায়। বৈজ্ঞানিকদের মতে কালো রং পজিটিভ এনার্জিকে গ্রহণ করে এবং নেগেটিভ এনার্জি দূরীকৃত করে। সেই দিক থেকে দেখতে গেলে ও কালো তাগা মানুষের শরীরের পজিটিভ এনার্জিকে জাগিয়ে নেগেটিভ বা অশুভ শক্তিকে দূরীকৃত করতে সাহায্য করে।

কোন ঘরে অশুভ শক্তির প্রবেশ হয়েছে বা নজর লেগেছে জানা গেলে যদি পাকা শুকনো লঙ্কা পুড়িয়ে সেই পোড়া লঙ্কার ধোঁয়া সারা বাড়ি বা ঘরে ছড়িয়ে দেওয়া যায়, তাহলেও সমস্ত নজর দোষ দূর হয় বলে মনে করা হয়। আসলে লঙ্কা পোড়ার সুতীব্র ঝাঁঝে সকল নেগেটিভ এনার্জি বা অশুভ শক্তি দূরীকৃত হয় এবং সকল পজিটিভ শক্তি বা শুভ শক্তির প্রবেশ ঘটে।

আপনার নিশ্চয়ই অতি অবশ্যই স্টোন বা ক্রিস্টাল পরবার অভিজ্ঞতা আছে। যদি স্টোন বা ক্রিস্টাল পরার অভিজ্ঞতা নাও থাকে, তবুও এই সকল পাথরগুলি পজিটিভ এনার্জিকে আহবান করে এবং নেগেটিভ এনার্জিকে বিকৃত করে।বিভিন্ন ধরনের সাইজ ও আকার যুক্ত এই সকল পাথর এবং কৃস্টাল আপনি পেতে পারেন অতি সহজেই। বহু লোকজন এই সব স্টোন এবং কৃস্টাল ব্যবহার করেন। এগুলি ব্যবহার করাও অত্যন্ত সহজ । এগুলিকে পকেট এ নিয়ে ঘোরা যায় অথবা আংটি, গলার লকেট ইত্যাদি ভাবে ধারন করা যায়, যাতে সব সময় সেগুলি শরীরের অংশ হিসাবেই থেকে যায়। এই সকল পাথরের মধ্যে গ্রানাইট ,হেমাটাইট, অ্যামেথিস্ট, কোয়ার্টজ, মেলাসাইট, স্মোকি কোয়ার্টজ যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ, যেগুলি আপনাকে সকল বিপদ-আপদ বা নজর লাগার হাত থেকে রক্ষা করে এবং সকল অশুভ শক্তির প্রতিকার করে।

নেগেটিভ এনার্জি দূর করে পজিটিভ এনার্জি আনার আরেকটি বিশেষ উপায়কে বলা হয় স্মাজিং ( smudging)। মানুষের মন এবং কোন একটি জায়গা বিশেষ থেকে সমস্ত অশুভ শক্তির বিনাশ করতে পারে বেশ কিছু প্রাকৃতিক জিনিসপত্র যেগুলি পুড়িয়ে তার ধোঁয়া আহরণ করলে তার থেকে সকল নেগেটিভ এনার্জি বা অশুভ শক্তি দূর হয় বলে মনে করা হয় যা আপনাকে নজর লাগার হাত থেকেও বাঁচাতে পারে । মিষ্টি ফুলের গন্ধ অথবা চন্দন, ল্যাভেন্ডার, ধুনো টিকার গন্ধ এবং আরো বেশ কিছু প্রাকৃতিক সুগন্ধিত জিনিসপত্রের দ্বারা ঘরের এবং মনের অশুভ শক্তির বিনাশ করা যায়।

বলা হয় যে সি সল্ট বা সমুদ্রের লবণ সকল নেগেটিভ এনার্জি বা নজর লাগাকে আপনার ঘর থেকে এবং আপনার শরীর থেকে বিতাড়িত করতে সাহায্য করে। বিশ্বাস করা হয় যে এই সামুদ্রিক লবন প্রকৃতি থেকে সকল নেগেটিভ এনার্জিকে সরিয়ে দিয়ে সেই জায়গায় পজিটিভ এনার্জি প্রতিস্থাপন করতে সাহায্য করে। একটি কাপে ঈষদুষ্ণ জলে টেবিল চামচের এক চামচ নুন যোগ করুন। ভালো করে গুলে যাওয়া পর্যন্ত সেটি নাড়তে থাকুন এবং তারপর গুলে গেলে সেটিকে ঘরের চারদিকে স্প্রে করুন। এর দ্বারা ঘরের সকল নেগেটিভ এনার্জি দূর হয়ে যায়।ঘরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোণে অল্প নুন দিয়ে রাখুন। সারারাত এভাবে রেখে দিয়ে পরের দিন সকালে তা সরিয়ে ফেলুন এবং ঘরের বাইরে ফেলে দিন। নিজের শরীরকে শুদ্ধ করতে হলে আপনার বাথটবের মধ্যে অথবা চান করার বালতিতে 1 কাপ লবণ দিয়ে পনেরো-কুড়ি মিনিট সেই জলে নিজে স্নান করুন। এর ফলে আপনার শরীর এবং মনের প্রফুল্লতার সাথে সাথেই সকল নেগেটিভ এনার্জি বা নজর লাগা দূরীকৃত হয়।

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...