নতুন জোটের লক্ষ্যে নবান্নে আলোচনা মমতা-চন্দ্রশেখর রাওয়ের

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 50
    Shares

কলকাতাঃ নিজস্ব প্রতিনিধি~     বিজেপি ক্রমশই মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷ ত্রিপুরা জয়ের পর কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে আঞ্চলিক দলগুলোর৷ যদিও গোরখপুর ও ফুলপুর উপনির্বাচনের ফলাফল আশার আলো দেখিয়েছে৷ তবে সাবধানের মার নেই৷ 2019 সালের লোকসভা ভোটের আগেই বিজেপির বিজয়রথকে রুখতে একজোট হতে চাইছে আঞ্চলিক বিরোধী দলগুলো৷

সেই লক্ষ্যেই সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে একান্তে বৈঠক করলেন তেলেঙ্গানা রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও৷ এই বৈঠকে ফেডারেল ফ্রন্ট গড়ার কথা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর৷

Image result for mamata chandrashekhar rao meeting

 

বিরোধীদের দাবি এর ফলে চাপে পড়তে চলেছে মোদি সরকার৷ মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে অর্থাৎ ২৭ ও ২৮ মার্চে দিল্লিতে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বৈঠক৷ এই বৈঠকেই ফেডারেল ফ্রন্ট নিয়ে প্রস্তাবে বসবেন বিরোধী দলের নেতারা৷ দিল্লিতে এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷

সোমবারই লোকসভায় কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনেছে ওয়াই এস আর কংগ্রেস। জগনমোহনকে সমর্থন জানিয়েছে টিডিপি, কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ বামদলগুলি।

কেন্দ্র সরকারের বিরুদ্ধে এই প্রথম অনাস্থা প্রস্তাব আনল বিরোধীরা। ওয়াইএসআর কংগ্রেস ও টিডিপির এই প্রস্তাবকে সমর্থন করেছে কংগ্রেস, বাম, তৃণমূল, এসপি ও আরজেডি। অন্যদিকে, টিআরএস ও এআইডিএমকে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে সব সময়েই কেন্দ্রের পাশে থেকেছে, তাই সোমবারও তাদের সমর্থন ছিল মোদী সরকারের দিকেই।

বিরোধী জোট দানা বাঁধার প্রস্তুতি ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে। সোমবার বেলা সওয়া তিনটে নাগাদ নবান্নে পৌঁছন কে চন্দ্রশেখর রাও। সঙ্গে ছিলেন তাঁর দল টিআরএসের সাংসদ কেশব রাও। তাঁদের স্বাগত জানানোর জন্য নবান্নের মূল প্রবেশ পথে দাঁড়িয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যেপাধ্যায় নিজে।

কংগ্রেস এবং বিজেপিকে বাদ দিয়ে তৃতীয় ফ্রন্ট গঠনের কথা অনেক আগে থেকেই বলে আসছেন চন্দ্রশেখর রাও। তৃতীয় ফ্রন্টের দাবি তুলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। আঞ্চলিক দলগুলির জোটের পক্ষে বহু দিন ধরে সওয়াল করছেন আরও বেশ কয়েকটি দল। তাই এবার অ কংগ্রেসি, অ বিজেপি জোটের সাফল্য নিয়ে আশাবাদী সকলেই।

Image result for mamata chandrashekhar rao meeting

বাংলার মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠককে গুরুত্ব দিয়েই দেখছে রাজনৈতিক শিবির। দিন কয়েক আগেই কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী বিভিন্ন আঞ্চলিক দলের প্রতিনিধিদের নৈশভোজে ডেকেছিলেন। সেখানে বিজেপি বিরোধী জোটের মঞ্চ খানিকটা প্রস্তুত হয়েছে।

এনসিপি নেতা শরদ পাওয়ারও নয়াদিল্লিতে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও রাজ্যের রাজনৈতিক দলকে বৈঠকে ডেকেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে যোগাযোগ করেছেন এনসিপি প্রধানের সঙ্গে। তার মাঝেই চন্দ্রশেখর রাওয়ের সঙ্গেও মমতার বৈঠককে অন্য মাত্রা দিচ্ছে রাজনৈতিক মহল।

এদিকে, রাওয়ের সঙ্গে বৈঠকের আগে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফোন করেন অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু।জাতীয় রাজনীতির পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে দু’জনের মুখোমুখি বসা যে দরকার, তা নিয়েও দুই মুখ্যমন্ত্রীর কথা হয়েছে বলে তৃণমূল সূত্রের খবর।

Image result for mamata chandrashekhar rao meeting

তেলুগু দেশমের সঙ্গে তৃণমূল নেতৃত্বের নিয়মিত যোগাযোগ আছে। রবিবার সন্ধ্যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি ফোন করেন চন্দ্রবাবু নায়ডু। ফোনে আলোচনার ফাঁকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবুকে আনুষ্ঠানিক ভাবে জানিয়েছেন, তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতির প্রধান ও রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী কেসিআরের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের কথা। তাঁর সঙ্গে আলোচনায় বসুন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, চান নায়ডু।

তবে চন্দ্রবাবু কলকাতায় আসবেন, না কি এ মাসের শেষে মমতা দিল্লি গেলে সেখানে তিনি গিয়ে কথা বলতে পারেন—এ সব বিষয় এখনও ঠিক হয়নি। তৃণমূল সূত্রের খবর, সংসদের চলতি অধিবেশনের মধ্যেই এক বার দিল্লি যেতে পারেন মমতা। বিজেপি-বিরোধী নানা দলের নেতৃত্বের সঙ্গেই তখন কথা হতে পারে তাঁর।

সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে যান কেসিআর। তাঁর সঙ্গে ছিলেন টিআরএসের মহাসচিব ও সংসদীয় দলের নেতা কে কেশব রাও। বাংলায় কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক থাকাকালীন কেশবের সঙ্গে ভাল সম্পর্ক ছিল তৃণমূল নেত্রীর। কেসিআর-কন্যা এবং সাংসদ কে কবিতাও থাকতে পারেন প্রতিনিধিদলে। সাম্প্রতিক কালে বিজেপি এবং কংগ্রেসকে বাদ দিয়ে ফ্রন্ট গড়ে তোলার ডাক আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রথম দিয়েছিলেন কেসিআর-ই।

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 50
    Shares

খবর এক নজরে…

No comments found

Sponsored~

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.