বাড়ছে দেনার দায়ে কৃষক আত্মহত্যা, ঋণমকুব কোটিপতি ব্যাবসায়ীদের… মোদীর অর্থনীতিতে উদ্বেগে জনগণ ~

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 1.2K
    Shares

ওয়েব ডেস্ক~ মহারাষ্ট্রের বিদর্ভে ইয়াভাতমাল জেলায় মঙ্গলবার আত্মহত্যা করেন এক কৃষক। তবে এই ঘটনা নতুন নয়৷ চণ্ডীগড়, আন্দামান নিকোবর, দিল্লির মতো কয়েকটি কেন্দ্রীয় শাসিত অঞ্চল এবং উত্তর পূর্বের নাগাল্যান্ড বাদ দিলে গোটা দেশে কমবেশি প্রায় প্রতিটি রাজ্যেই কৃষক আত্মহত্যার খবর প্রকাশ্যে এসেছে। সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা কেন্দ্র সরকারের রিপোর্ট বলছে ২০১৩ সাল থেকে প্রতি বছর গড়ে সারা দেশে ১২ হাজারেরও বেশি কৃষক আত্মহত্যা করেন৷ রিপোর্টে বলা হয়েছে কৃষক আত্মহত্যার তালিকায় শীর্ষ তিন রাজ্য হচ্ছে মহারাষ্ট্র, রয়েছে মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তিশগড়। এই তিন রাজ্যেরই শাসনক্ষমতা রয়েছে বিজেপির ঝুলিতে৷

প্রধান বিচারপতি জে এস খেহর এবং বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় ও সঞ্জয় কিসান কউলের বেঞ্চ গোটা ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে৷ রিপোর্ট বলছে খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর রাজ্যে গত দুই বছরে বহু কৃষক আত্মঘাতী হয়েছেন। ২০১৫ সালে গুজরাতে ৩০১ জন কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। ২০১৬ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৪০৮। বিজেপি শাসিত কেন্দ্র যে সুপ্রিম কোর্টের স্পষ্টতই চাপের মুখে পড়ে, তা রিপোর্টে স্পষ্ট৷ মোদী সরকারের কৃষি নীতিকে তীব্র আক্রমণ করেছে কংগ্রেস৷ তাদের বক্তব্য মোদী সরকার কৃষক মুক্ত ভারত তৈরি করতে চাইছে। কেন্দ্রের সমালোচনা করতে গিয়ে কৃষকদের প্রাপ্য ন্যূনতম সাহায্য মূল্যের (এমএসপি) প্রসঙ্গ তুলে এনেছে কংগ্রেস। তারা জানিয়েছে ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর কৃষকদের সাহায্য মূল্য খরচের ৫০ শতাংশ করার কথা বলেছিলেন মোদী। কিন্তু প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি।

Image result for modi and farmer suicide

ইয়াভাতমালের ঘাটানজি তেহসিলের রাজুরওয়াদি গ্রামের ভাউরাও চাওরে, তাঁর ছ পাতার সুইসাইড নোটে স্পষ্ট লিখেছেন মাথায় বিশাল অঙ্কের ঋণের বোঝা এবং নরেন্দ্র মোদী সরকারই তাঁর মৃত্যুর জন্যে দায়ী। ফসল ফলনে ব্যাপক ক্ষতি, সঙ্গে বেড়ে চলা ঋণের বোঝাই ৫৫ বছর বয়সি ওই কৃষককে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিয়েছ বলে সুইসাইড নোটে উল্লেখ করেছেন তিনি৷ নোটে ওই কৃষক নরেন্দ্র মোদী সরকারের নীতিকেই তাঁর মৃত্যুর জন্যে কাঠগড়ায় তুলেছেন।

সূত্র জানাচ্ছে নয় একর জমির মালিক চাওরের বাজারে প্রায় ১.৪০ লক্ষ টাকার দেনা হয়ে গিয়েছিল। এদিকে তুলোর ফলনে ধাক্কা খাওয়ায়, তাঁর ঋণের বোঝা আরও বেড়ে যায়। ওই কৃষকের মৃত্যুর পর তাঁর পরিবারের তরফে জানা হয়েছে, কোনও অবস্থাতেই তাঁরা শেষকৃত্যের জন্যে দেহ নিয়ে যাবেন না। তাঁদের দাবি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ধারায় মামলা রুজু করতে হবে। তবে তাঁরা দেহ নিয়ে যাবেন।

এছাড়া ক্ষতিপূরণ বাবদ ১ কোটি টাকাও দাবি করেছেন কৃষকের পরিবার। তবে বিদর্ভে এই প্রথম নয়, এর আগে প্রায় একশো কৃষক ঋণজনিত কারণে আত্মহত্যার রাস্তা বেছে নিয়েছে।

একদিকে কর্পোরেট সংস্থাগুলির প্রায় আড়াই লক্ষ কোটি টাকার ব্যাঙ্ক ঋণ মুছে ফেলার নির্দেশ অর্থমন্ত্রকের, অন্যদিকে গরীব চাষি কে ১লক্ষ টাকার ব্যাঙ্ক ঋণের বোঝায় করতে হচ্ছে আত্মহত্যা, মোদী সরকারের এই নীতি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। সরকারী হিসেব অনুযায়ী ২০১৩ সাল থেকে প্রতিবছর কম করে ১২,০০০ কৃষক আত্মহত্যা করে ঋণ এর বোঝায়, সংখ্যাটা বাড়ছেই…

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 1.2K
    Shares

খবর এক নজরে…

No comments found

Sponsored~

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.