দলিত ইস্যুতেই ঈশাণ কোণে মেঘ দেখছে বিজেপি…

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 826
    Shares

ওয়েব ডেস্কঃ  রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উত্তরপ্রদেশ। তাই সে রাজ্যের উপনির্বাচনও ছিল বিজেপির কাছে অ্যাসিড টেস্ট। উপনিবার্চনে হারের মুখ দেখে এখন বিজেপি ব্যস্ত অঙ্ক কষতে। 2019 সালের লোকসভা ভোটের আগে এই সেমি ফাইনালে পতনের চুল চেরা বিশ্লেষণ চলছে এখন।
উত্তরপ্রদেশে জাতি-ধর্মের অঙ্ক যে কাজ করে, সেটা এই উপনির্বাচনে করেনি। তাদের চিরাচরিত যে বর্ণ হিন্দু ভোট, সেটাতেও এবার ভাগ বসিয়েছে এসপি-বিএসপি জোট, কিছুটা কংগ্রেসও। এর সঙ্গে অন্যান্য হিন্দু জাতি – যাদের পিছিয়ে থাকা জাতি বলা হয়ে থাকে, তাদের ভোটও এবার নিজেদের ঘরে তুলতে ব্যর্থ বিজেপি। সমাজবাদী পার্টির মূল ভিত্তি যাদব গোষ্ঠী। তারা ছাড়া অন্যান্য গোষ্ঠীর সমর্থন পেয়েছে এই জোট। এই হিন্দু ভোটের ভাগ হয়ে যাওয়া থেকেই বিজেপির পরাজয় বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এছাড়া ছিল মুসলিম ভোট, যার অধিকাংশই গিয়েছে জোটের ভাগ্যে। কিন্তু কেন? গোমাংস ইস্যু, মূর্তি তাণ্ডব, আঞ্চলিক জাতীয়তাবাদ, দল- দলিত সংঘাত বড় আকার ধারণ করেছে। মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে দলিতরা। উত্তরপ্রদেশের গ্রামে গঞ্জে দলিতদের ওপর বিদ্বেষ প্রকট ছিল উপনির্বাচনের আগে। তারওপর আচমকাই অখিলেশ-মায়াবতী সমীকরণ, বিজেপিকে কোণঠাসা করার জন্য যথেষ্ট ছিল। এই জোটের পিছনে ছিল বিজেপির বিরুদ্ধে বাড়তে থাকা দলিত ক্ষোভ।

এরইমধ্যে বিজেপি–র অভ্যন্তরে শুরু হয়ে গিয়েছে অন্তর্দ্বন্দ্ব। দোষী সাব্যস্ত করা হচ্ছে সেই বিজেপি–র প্রচারের অন্যতম মুখ যোগী আদিত্যনাথকে। উত্তরপ্রদেশের উপনির্বাচনকে অবহেলা করে কর্ণাটকের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকার জন্যই এই হার, বলছে বিশেষজ্ঞরা। আবার ফুলপুরে পরাজয়ের জন্য যোগীর দিকেই তীর ছুঁড়েছেন কেশবপ্রসাদ মৌর্য শিবির। তাঁদের অভিযোগ, ফুলপুর দলের শক্ত ঘাঁটি নয়। এ কথা জানা থাকা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রী গোরখপুরের জন্যই বেশি সময় দিয়েছেন। ফুলপুরে দায়সারা প্রচার চালিয়েছেন মাত্র।

এদিকে, সংসদেও অস্বস্তিতে গেরুয়া শিবির। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট ছেড়ে বেরিয়ে গিয়েছে তেলুগু দেশম পার্টি বা টিডিপি। টিডিপি সুপ্রিমো চন্দ্রবাবু নাইডু ইতিমধ্যেই নরেন্দ্র মোদি সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার চেষ্টা শুরু করে দিয়েছেন। শুক্রবার সকালে টিডিপি জানায়, স্পেশ্যাল স্ট্যাটাস বা বিশেষ অধিকার না দিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশকে নীচু দেখিয়েছে কেন্দ্র। তাই জোট থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল।

এই একই ইস্যুতে অপমানের দাবি তুলেছে রাজ্যের আরেক দল ওয়াইএসআর কংগ্রেস। অন্ধ্রর বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগে ইতিমধ্যেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সংসদে অনাস্থা প্রস্তাব আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা। চন্দ্রবাবু নাইডুর সঙ্গে বৈরিতা থাকা সত্ত্বেও ওয়াইএসআর-এর আনা অনাস্থা প্রস্তাবকে সমর্থনের কথা ঘোষণা করেছে টিডিপি।

অন্ধ্রের এই দুই দলের দল ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ায় স্থায়িত্ব নিয়ে সমস্যা হবে না বিজেপির। কিন্তু শিবিরের একাংশের আশঙ্কা, আঞ্চলিক দাবি-দাওয়া আদায়ের জন্য অন্যান্য শরিক দলগুলো একই রকমের কড়া অবস্থান নিলে সমস্যায় পড়ে যেতে পারে মোদি সরকার।

শিবসেনার সঙ্গে বিজেপির সম্পর্ক এমনিতেই খারাপ। তার ওপরে টিডিপি, ওয়াইএসআর কংগ্রেস চিন্তা আরও বাড়ালো মোদি-শাহ্দে‌র। লোকসভায় টিডিপি সাংসদের সংখ্যা ১৬, জগনের দলে রয়েছেন ৯ জন। অনাস্থা প্রস্তাব গৃহীত হওয়ার জন্য ন্যূনতম ৫০ সাংসদের সমর্থন দরকার। এদিকে, জোট বেঁধে অনাস্থার প্রক্রিয়া নিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়ে গিয়েছে। অনাস্থায় চন্দ্রবাবু এবং জগনকে সমর্থন দিতে রাজি হয়েছে সিপিএম। পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে কংগ্রেস ও তৃণমূল। সব মিলিয়ে দিল্লির রাজনীতিতে বিজেপি বিরোধিতা যে বাড়ছে, তা আঁচ করতে পারছেন রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা।

 

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 826
    Shares

খবর এক নজরে…

No comments found

Sponsored~

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.