“হাই ভোল্টেজ” কর্ণাটক নির্বাচন , হতে পারে ত্রিশঙ্কু বিধানসভা…

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 757
    Shares

ওয়েব ডেস্কঃ  ১২ মে কর্ণাটকে হাই ভোল্টেজ ম্যাচ। কংগ্রেস বনাম বিজেপি, দুর্গ বাঁচাবার লড়াই বনাম নতুন সাম্রাজ্য গঠনের লড়াই। মেরুকরণের রাজনীতি বনাম হিন্দুভাগের লড়াই,লিঙ্গায়েত ভোট পাওয়ার লড়াই, তখতে বসার লড়াই।

এই বিধানসভা ভোট নিয়ে সমীক্ষা করেছিল ইন্ডিয়া টুডে ও কারভি। এই ভোটের দিকে সারা দেশের মানুষ তাকিয়ে রয়েছেন। কংগ্রেসের হাতে থাকা রাজ্যগুলির মধ্যে সবচেয়ে বড় রাজ্য এই একটাই. সেটি হাতছাড়া হলে হাতে থাকবে শুধুমাত্র পাঞ্জাব। আর যদি কংগ্রেস কর্ণাটকের ক্ষমতা ধরে রাখতে পারে, তাহলে ২০১৯সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বড়সড় ধাক্কা আসবে বিজেপির মনোবলে।

২২৫ আসনের কর্ণাটক বিধানসভা ভোটে১১২ আসনের ম্যাজিক ফিগারে পৌঁছতে পারবে না কোন দলই, বলছে সমীক্ষা। রিপোর্ট অনুযায়ী হাত শিবিরের মুঠোয় আসবে ৯০ থেকে১০১টা আসন। অন্যদিকে গেরুয়া শিবির খুব বেশি হলে পেতে পারে ৭৮-৮৭টি আসন। নির্ণায়ক ভূমিকায় থাকবে এইচ ডি দেবেগৌড়ার জনতা দল সেকুলার। ৩৪-৪৩ টা আসন দখল করে সরকার গঠনে সাহায্য করতে পারে তারা।

কর্ণাটকের এবারের ভোটে বিজেপির ভোট শেয়ার ও আসন বাড়বে। তবে তা কংগ্রেসকে টপকে সরকার গড়ার মতো নয়। অন্যদিকে কংগ্রেসের আসন ও ভোট শেয়ার কমবে। তবে কংগ্রেস সবচেয়ে বেশি আসনে জয়ী হবে। এক্ষেত্রে ভোট পরবর্তী রাজনীতি ও আসন সমঝোতায় জোট বড় ভূমিকা নিতে পারে। সেক্ষেত্রে কোন দল কার সঙ্গে জোট বাঁধে তা বেশ লক্ষ্যণীয় বিষয়।

কর্ণাটক নির্বাচনে বিধানসভা ত্রিশঙ্কু হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইন্ডিয়া টুডে -কারভি ইনসাইটসের জনমত সমীক্ষায় এমন তথ্যই উঠে এসেছে। সেই জনমত সমীক্ষা অনুযায়ী আসন্ন বিধানসভা ভোটে কংগ্রেস ৩৭ শতাংশ ভোট পাবে। বিজেপি পেতে পারে মোট ভোট শেয়ারের ৩৫ শতাংশ। অন্যদিকে জেডিএস পেতে পারে ১৯ শতাংশ ভোট। এছাড়া অন্যান্যরা ৯ শতাংশ ভোট পাবে।

কংগ্রেসের সিদ্দারামাইয়াকে এগিয়ে রেখেছেন কর্ণাটকের মানুষ।সাধারণ মানুষের মতে রাহুল গান্ধীর সফর, তার মাঝে মন্দির দর্শন কাজে লেগেছে কংগ্রেসের। পাশাপাশি, লিঙ্গায়েত সম্প্রদায়কে আলাদা মর্যাদা দেওযার কূটনৈতিক কৌশলও সাহায্য করবে কংগ্রেসকে বলে মত রিপোর্টের.অন্যদিকে কাবেরী নদীর জল নিয়ে কর্ণাটককে সুবিধা করে সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছে তা আগামী ভোটে কংগ্রেসের সুবিধা করবে বলে মনে করছেন ৪৯ শতাংশ মানুষ। তবে সুবিধা হবে না বলে মনে করছেন ৩৪ শতাংশ মানুষ। আদালতের এই রায় কংগ্রেসের পালে হাওয়া দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে. অন্তত তেমনই মনে করছেন রাজনীতিকরা. তাই জনমত রিপোর্ট কার্ডে সিদ্দারামাইয়া ৩৩ শতাংশ, বিএস ইয়েদুরাপ্পা ২৬ শতাংশ ও এইচডি কুমারস্বামী ২১ শতাংশ ভোট পেয়েছেন।
২০১৩ নির্বাচনের ফলে কংগ্রেসের দখলে ছিল ১২২টি আসন। ৩৬.৬ শতাংশ ভোট পেয়ে কংগ্রেস ক্ষমতায় আসে। আগের বারের চেয়ে ৪২টি আসন বেশি পায় কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী হন সিদ্দারামাইয়া। বিজেপি পেয়েছিল ৪০টি আসন। আগের বারের চেয়ে আসন কমেছিল ৭০টি। জগদীশ শেট্টারের দল ভোট পেয়েছিল ১৯.৯ শতাংশ। এছাড়াও ৪০টি আসন পায় জেডিএস। এইচডি কুমারস্বামীর দল ভোট পেয়েছে ২০.২ শতাংশ।
কর্ণাটকের ভোটে কাজ করে জাতপাতের রাজনীতি, সেকথা সুবিদিত. ফলে লিঙ্গায়েত থেকে ভোক্কালিগা, ব্রাহ্মণদের ভোট কোনদিকে, তা অনেক সময় মোড় ঘুরিয়ে দেয় ফলাফলের. সমীক্ষা বলছে, লিঙ্গায়েতদের ভোটের আগে নানা সুবিধা কংগ্রেস সরকার দিলেও তাদের ভোটে ইয়েদুরাপ্পা এগিয়ে রয়েছেন। ৩৯ শতাংশ লিঙ্গায়েতরা ইয়েদুরাপ্পাকে মুখ্যমন্ত্রী চাইছেন। সিদ্দারামাইয়া সেখানে ২৩ শতাংশ ও কুমারস্বামী ১৭ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। লিঙ্গায়েতদের নানা দাবি দাওয়া ঘিরে উত্তপ্ত হয়েছে কর্ণাটকের রাজ্য রাজনীতি। সেই ইস্যু এবারের ভোটে বড় হতে পারে বলে মনে করছেন ৫২ শতাংশ মানুষ।

ভোক্কালিগাদের ২৬ শতাংশ সিদ্দারামাইয়াকে সমর্থন করেছে। ইয়েদুরাপ্পাকে সমর্থনে  ২৬ শতাংশ। অপরদিকে, জেডিএসের কুমারস্বামী ৩৩ শতাংশ ভোক্কালিগার সমর্থন পেয়েছেন।

রাজ্যের ব্রাহ্মণদের একটা বড় অংশ ইয়েদুরাপ্পাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে দেখতে চান। ৩৪ শতাংশ ব্রাহ্মণের সমর্থন ইয়েদুরাপ্পা পেয়েছেন। আবার দলিতদের সমর্থনে এগিয়ে রয়েছেন সিদ্দারামাইয়া। ৪১ শতাংশ দলিত শুধুমাত্র সিদ্দারামাইয়াকে সমর্থন করেছেন। এক্ষেত্রে ইয়েদুরাপ্পা ও কুমারস্বামী অনেক পিছিয়ে রয়েছেন। সিদ্দারামাইয়াকে মুখ্যমন্ত্রী পদে দেখতে চান ৩১ শতাংশ মানুষ। ইয়েদুরাপ্পাকে চান ২৯ শতাংশ হিন্দু। কুমারস্বামী ভোট পেয়েছেন ২২ শতাংশ হিন্দুর। মুসলমানদের প্রায় দুই তৃতীয়াংশ অংশ সিদ্দারামাইয়াকে মুখ্যমন্ত্রী পদে চান। বিএস ইয়েদুরাপ্পাকে চান মুসলমানদের মাত্র ১৩ শতাংশ। কুমারস্বামীর ঝুলিতেও পড়েছে মাত্র ১২ শতাংশ ভোট।

তাই সব মিলিয়ে এখন পাখির চোখ কর্ণাটকের নির্বাচনের উপরে ৷ ২২৪ আসনের কর্ণাটক বিধানসভা দখলে যুযুধান মোদি-রাহুল দুই পক্ষই ৷ দক্ষিণের কংগ্রেস শাসিত রাজ্যে ক্ষমতা দখলের এই লড়াই সেয়ানে সেয়ানে হবে বলেই মনে করা হচ্ছে.অন্তত জনমতের সেদিকেই ইঙ্গিত।

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 757
    Shares

Sponsored~

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.