খবর ২৪ ঘন্টা

নির্বাচন ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য ব্যবহার নিয়ে সরগরম ভারতীয় রাজনীতি …

শেয়ার করুন সকলের সাথে...

ওয়েব ডেস্কঃ ভারতের নির্বাচনে এবার প্রভাব ফেলবে ফেসবুকের তথ্য ফাঁস৷ আর এই তথ্য ফাঁসকে কাজে লাগিয়ে ফায়দা তুলতে পারে কংগ্রেস ৷ ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের প্রচার শুরু হওয়ার আগেই তাই সতর্ক বিজেপি সরকার৷ কোনও ফাঁদেই পা দিতে রাজি নয় তাঁরা৷

ইতিমধ্যেই তথ্য ফাঁস কাণ্ডে সরগরম বিশ্ব৷ বিপাকে ফেসবুক কর্ণধাররা৷ তারই মধ্যে এই সংস্থাকে সতর্ক করল ভারত৷ বুধবার তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী রবিশংকর প্রসাদ অভিযোগ করেন কংগ্রেস ফেসবুকের তথ্য অসৎ উদ্দ্যেশে ব্যবহার করে ভোটবাক্সে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করবে৷

তাঁর দাবি, লোকসভা ভোটের প্রচারে কংগ্রেসের ব্রহ্মাস্ত্র সোশ্যাল মিডিয়া৷ এখানেই সাহায্য নেওয়া হবে ফেসবুকের৷ ফেসবুকের মতো সোশ্যাল মিডিয়াকে ব্যবহার ভারতের নির্বাচনে প্রভাব ফেলার চেষ্টা করলে কেন্দ্র কোনওভাবেই তা বরদাস্ত করবে না বলে জানিয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী৷ আর এই কাজের পিছনে কংগ্রেস থাকতে পারে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি৷

তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রীর অভিযোগ ঘুষ দেওয়া, রাজনীতিকদের ফাঁদে ফেলতে যৌনকর্মীদের কাজে লাগানো, ফেসবুক থেকে তথ্য চুরির অভিযোগ রয়েছে যে কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার বিরুদ্ধে, তাদেরই ২০১৯-এর ভোটপ্রচারের দায়িত্ব দিয়েছে কংগ্রেস। কার্যত কংগ্রেসের সঙ্গে কেমব্রিজ অ্যানালিটিকার সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন রবিশঙ্কর প্রসাদ।

শুধু কংগ্রেস নয়, অযাচিত উপায়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করলে ফেসবুকের মতো সোশ্যাল মিডিয়ার বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেছেন কেন্দ্রীয় তথ্য ও আইনমন্ত্রী৷ তবে এই বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে হাত শিবির৷

কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সুরজেওয়ালার বক্তব্য নির্বাচনে জয়লাভের জন্য কংগ্রেসের কোনও অসৎ উপায় অবলম্বন করার প্রয়োজন নেই৷ আইনমন্ত্রীকে আইনহীন মন্ত্রী বলে কটাক্ষ করে তাঁর বক্তব্য বিজেপি ভুয়ো খবরের কারখানায় পরিণত হয়েছে৷ কংগ্রেসের জুজু দেখছে তাঁরা৷ ২০১০ সালে কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা বিজেপি-জেডিইউ জোটের হয়ে প্রচারে সাহায্য করেছিল বলে পালটা দাবি কংগ্রেসের৷ সেই ভোটে জয় পেয়েছিল বিজেপি জোট বলে ইঙ্গিত করেছে হাত শিবির৷

এরআগে, ফেসবুকে প্রায় পাঁচ কোটি ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য চুরির অভিযোগ ওঠে৷ ফেসবুকের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে মার্কিন সংস্থা ফেডারেল ট্রেড কমিশন। অভিযোগ, ২০১৬ সালে মার্কিন নির্বাচনের সময় ট্রাম্পের হয়ে ক্যামব্রিজ অ্যানালাইটিকা (সিএ) নামের একটি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করেছিল ট্রাম্প টিম। ওই সংস্থাটি ফেসবুক ব্যবহারকারীদের তথ্য চুরি করে ব্যবহার করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই অভিযোগের ভিত্তিতে বরখাস্ত করা হয়েছে সিএ বোর্ড প্রধান অ্যালেক্সান্ডার নিক্সকে। মনে করা হচ্ছে, সংস্থাটি মার্কিন নির্বাচনী আইন ভঙ্গ করেছে। তবে লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান সিএ এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...