খবর ২৪ ঘন্টা

ভোটের ফল বেরোতেই ভোলবদল ~ “তিপ্রাল্যান্ড” নিয়ে কোনও কমিটি নয়,জানিয়ে দিল বিজেপি …

ফাইল চিত্র...

শেয়ার করুন সকলের সাথে...

ওয়েব ডেস্কঃ   তিপ্রাল্যান্ডের দাবি খতিয়ে দেখতে কোনও কমিটি গঠন করা হবে না৷ সাফ জানিয়ে দিল বিজেপি৷ এরআগে তারা জানিয়েছিল পৃথক রাজ্যের পথে যাওয়া যাবে না৷ তবে ভোটের আগে তাদের আশ্বাস ও নির্বাচনের পরে তাদের বক্তব্যে মিল পাচ্ছে না আইপিএফটি৷

ত্রিপুরায় ভোটের আগে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আইপিএফটি তিপ্রাল্যান্ডের দাবি নিয়ে গিয়েছিল৷ তখন আশ্বাস মিলেছিল তাঁদের দাবিদাওয়া খতিয়ে দেখার জন্য উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি কমিটি গড়া হবে। কিন্তু ভোট মিটতেই ১৮০ ডিগ্রী ঘুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক জানিয়ে দিল, ওই ধরনের কোনও কমিটির গড়ার পরিকল্পনাও এখন নেই!

আইপিএফটি-র হাত ধরে নির্বাচনে জয় পেয়ছে বিজেপি৷ স্থানীয় দলটির নেতৃত্ব জানিয়ে দিয়েছিলেন, পৃথক ‘তিপ্রাল্যান্ডে’র দাবি থেকে তাঁরা সরছেন না।

কিন্তু এখন পরিস্থিতি যে জায়গায়, তাতে দুই দলের জোটে প্রভাব পড়তে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা৷ যদিও ত্রিপুরা মন্ত্রিসভার দুই সদস্য, আইপিএফটি সভাপতি এন সি দেববর্মা ও সাধারণ সম্পাদক মেবার কুমার জমাতিয়া এই নিয়ে মুখ খুলতে চাননি।

রাজ্যসভায় বাংলার সাংসদ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় জানতে চান, ত্রিপুরার উপজাতি মানুষের জন্য পৃথক রাজ্য ‘তিপ্রাল্যান্ডে’র দাবি পর্যালোচনা করতে উচ্চ ক্ষমতার কমিটির কথা৷ এই প্রশ্নের উত্তরেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হংসরাজ গঙ্গারাম আহির লিখিত জবাবে জানিয়েছেন, এমন কোনও পরিকল্পনা নেই।

ত্রিপুরা বিজেপির এক রাজ্য নেতা অবশ্য বলছেন, দু’দিন আগেই মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব দিল্লি গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আলোচনা করেছেন৷ তারপরেই এই বিষয়টি পরিস্কার হয়ে গিয়েছে৷ তবে এখানেই প্রশ্ন উঠছে৷

তাহলে কি তিপ্রাল্যান্ডের দাবিতেই বিজেপির সঙ্গে আইপিএফটির জোটের মধুচন্দ্রিমা কি ইতিমধ্যেই শেষ ? নতুন কোনও বোঝাপড়ার রাস্তা কি থাকছে? রাজ্য বিজেপি অবশ্য সেই ভরসাতেই আছে৷ কিন্তু নিজেদের অবস্থান থেকে একচুলও সরতে রাজি নয় আইপিএফটি৷

এরআগে, ত্রিপুরা ভেঙে আলাদা রাজ্য গড়ার বিষয়টি বিবেচনায় রাখছেন না বলে সাফ জানিয়ে দেন ত্রিপুরার নতুন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব। ২৫ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে ৯ মার্চ ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্য ত্রিপুরায় জয় পায় বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী হন বিজেপি নেতা বিপ্লব দেব৷

জোট সঙ্গী আইপিএফটি পৃথক ত্রিপ্রাল্যান্ডের জন্য দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছিল। তবে তাতে সায় দেয়নি ত্রিপুরার আগের বামফ্রন্ট সরকার।

এবার ত্রিপুরায় বিজেপি ক্ষমতায় আসে আইপিএফটির সঙ্গে নির্বাচনী জোট করে। আইপিএফটির পৃথক রাজ্যের দাবি মেনে নিয়ে বিজেপি-আইপিএফটি জোট করে নির্বাচনে লড়ে। ফলাফলেও দেখা যায়, আদিবাসী এলাকায় প্রচুর ভোটে জয়ী হন আইপিএফটির প্রার্থীরা।

কিন্তু এবার ত্রিপ্রাল্যান্ড না হলে বিজেপি-আইপিএফটির জোটের ভবিষ্যত কোন পথে গড়ায়, সেদিকেই তাকিয়ে দেশ৷

এই ঘটনার পর রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, তবে কি পশ্চিমবঙ্গের ধাঁচে ত্রিপুরায় পা ফেলার উদ্যোগ নিয়েছে বিজেপি? কারণ, পশ্চিমবঙ্গেও দীর্ঘদিন ধরে পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা। আর ২০০৯ এবং ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপি ঘোষণা করেছিল, দার্জিলিং লোকসভা আসনে বিজেপি প্রার্থী জিতলে তারা পৃথক গোর্খাল্যান্ড রাজ্য গড়ার ব্যাপারে উদ্যোগী হবে। তবে তার পর কোনও অগ্রগতি হয়নি সেই দাবির৷

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...