খবর ২৪ ঘন্টা

জেনে নিন, আধুনিক পারলৌকিক চর্চা বা Paranormal Science এর খুঁটিনাটি ~

শেয়ার করুন সকলের সাথে...

Normal Vs Paranormal ~ লৌকিক না ভৌতিক !!!

আধিভৌতিক ও ভৌতিক সকল কর্মকান্ডগুলোর বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক উপায়ে অস্তিত্ব প্রমাণ করার চেষ্টাকেই ghost hunting বা প্যারানরমাল অ্যাক্টিভিটির উদ্দেশ্য বলা যেতে পারে। সাধারণতঃ একটা টীম তৈরী করা হয় যারা আধিদেবিক বা আধিভোতিক বিভিন্ন জায়গায় নিজেদের যাবতীয় প্রক্রিয়া প্রয়োগ করে সেই জায়গার কোন সুপারন্যাচারাল পাওয়ার সম্পর্কে জানার চেষ্টা করে।বিভিন্ন ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি যেমন ই. এম. এফ মিটারস্, ডিজিটাল থার্মোমিটার, ডিজিটাল ভিডিও ক্যামেরা, থার্মোগ্রাফিক ও নাইট ভিশন ক্যামেরা, ডিজিটাল অডিও রেকর্ডার প্রভৃতি ব্যবহার করা হয়। এই প্যারানরমাল কার্যকলাপে ব্রতী বা অনুসন্ধানী যারা, তারা অনেকেই বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানোর জন্য বিজ্ঞানের সহায়তা নিয়ে থাকেন, কারণ আজকের যুগে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা কে উচ্চ আসনে রাখা হয়।

নানা অত্যাধুনিক digital night vision infrared disposable camera, EMF meter, thermographic imaging camera, infrared temperature sensor, electronic voice phenomena, compass, geiger counter, infrared ultrasonic motion sensor, air quality monitoring equipment, infrasound dowsing rods, clairvoyonts ইত্যাদি, তাদের বক্তব্য কে স্থাপনা করার জন্য ব্যবহার করেন।


অনেক সময় বিভিন্ন পুরানো পদ্ধতি যেমন সেই ভৌতিক জায়গাটির ইতিহাস বা সেখানে উপস্থিত কোন বিদেহী আত্মার অস্তিত্ব জানার জন্য সেখানে ইন্টারভিউ নেবার মত কোন পদ্ধতি ব্যবহার করা হয় যার মাধ্যমে বিদেহী আত্মা বা ভৌতিক কার্যকলাপের উদ্দেশ্য ও তার বিবরণ সম্পর্কে জানা যায়।কিছু “ghost hunter ” টীম তাদের নিজেদের “প্যারানরমাল ইনভেস্টিগেটর ” বলেও বর্ণনা করে। যদিও বিজ্ঞান কোন ভৌতিক ক্রিয়ার অস্তিত্ব স্বীকার করে না, তবুও বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমেই বর্তমানের শিক্ষিত সমাজ সমানে আধিভৌতিক ও ভৌতিক এক দুনিয়ার অস্তিত্বের খোঁজ করে চলেছে।


সাধারণতঃ যে জায়গায় ভৌতিক বিদেহী আত্মার অস্তিত্ব আছে বলে মানা হয়, সেখানে হঠাৎ তাপমাত্রা কমতে দেখা যায়। প্রচুর ঘোস্ট হান্টার ডিজিটাল থার্মোমিটার বা তাপমাত্রা পরিমাপক যন্ত্র ব্যবহার করে সেই জায়গাটির পরিবর্তন বোঝার চেষ্টা করে। বিশ্বাসীরা দাবী করেন যে কোন জায়গার তাপমাত্রার এই অস্বাভাবিক নেমে যাওয়ার মাধ্যমেই সেখানে অস্বাভাবিক কোন কিছুর উপস্থিতি সম্পর্কে ধারণা করা যায়, যদিও এর কোনরকম বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না।


অনেক সময় মিডিয়ামের মাধ্যমেও অতৃপ্ত আত্মার সাথে যোগাযোগ করা হয়। কোন এক ব্যক্তি যিনি মিডিয়াম হিসাবে বা মাধ্যম হিসাবে শরীরের মধ্যে সেই আত্মার প্রবেশের মাধ্যমে তার উপস্থিতি লোকসমক্ষে নিয়ে আসেন। সেই আত্মা তার মিডিয়ামের মাধ্যমে তার সকল অতৃপ্ত কামনা ব্যক্ত করে। তার আগমনের সময় বা শরীরে প্রবেশ অনেকসময় শান্তিপূর্ণ হলেও অনেকসময় বিদেহী আত্মা যদি বেরোতে না চায়, তাহলে মিডিয়ামের শরীরের ক্ষতি এমনকী তার মৃত্যু অবধি হতে পারে। শরীর থেকে নির্গমনের সময় সেই আত্মা কোনকিছু প্রমাণ রেখে যায়। যেমন দূরে রাখা কোন জলভরা কলসি নিজেই ফেটে যায় বা কোন জলভরা বিশালাকার কলসি সেই মিডিয়াম অবলীলায় মুখে ধরে হাঁটতে শুরু করে। কখনও দূরে কোন বড় বৃক্ষ ঝড়বৃষ্টি ছাড়াই ভেঙে পরে যায়। অশরীরী আত্মার ছায়া, কোনরকম আধিভৌতিক আওয়াজ, কান্না বা হাসি, কোন বন্ধ ঘরে আলোছায়ার খেলা ইত্যাদি ছাড়াও সাধারণতঃ অতৃপ্ত আত্মারা ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমেও তাদের অস্তিত্ব প্রকাশ করে।


অলৌকিক কিংবা অতিপ্রাকৃত শব্দটার সাথে মানুষের পরিচিতি সেই সুদূর অতীত থেকেই। যুক্তিহীন এমন ঘটনার সাথে মুখোমুখি হয়েছে মানুষ যেগুলোর কোন উত্তর এখনও মেলেনি। তবে উত্তরের অপেক্ষায় থাকেনি মানুষ। প্রতিনিয়ত চেষ্টা করে চলেছে অতিপ্রাকৃত ও আধিভৌতিক এসব ঘটনার কারণ ও অর্থ খুঁজে বের করতে। করেছে অনেক অতিপ্রাকৃত বিষয়ের ওপর গবেষণা।


গৌরব তিওয়ারি, যাকে ভারতীয় এড ওয়ারেন বলা হয়, যিনি অত্যন্ত কম বয়সেই এই paranormal activity নিয়ে অনেক গবেষণা করেন, দিল্লি তে নিজের একটি প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন যার নাম GRIP Academy। তিনি তার জীবন অতিবাহিত করেছেন এই আধিভৌতিক বিষয়াদি নিয়ে গবেষণা করার জন্য।


টিম পেন্টাকেলের কর্ণধার শিশির কুমারের মতে তাদের আর তান্ত্রিক দের মধ্যে ফারাক হলো, তারা প্যারানরমাল রিসার্চ অর্থাৎ কোন অলৌকিক ঘটনার পিছনে গবেষণামূলক পরীক্ষারর মাধ্যমে যে কোন ঘটনার পেছনের সত্যতা খুঁজে বার করে, আর তান্ত্রিকরা কারণ না খুঁজে ভৌতিক বলে চালিয়ে দেয়।

মানুষের সাইকোলজির ব্যবহার করে তাদের ভুল পথে তারা চালিত করে. তিনি আরো বলেছেন যে ৯৯% ঘটনার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়। অনেক ঘটনা ঘটে যার কোন বৈজ্ঞানিক বা medical ব্যাখ্যা পাওয়া যায় না যেকোনো কারনেই হোক। তার মতে শিক্ষিত দের মধ্যেই বেশি উৎসাহ, উদ্দীপনা, বিশ্বাস এই paranormal activities নিয়ে, যা তাদের কলকাতা অবস্থিত Paranormal Research Society কাজকর্মে প্রকাশ পায়।

তাদের এই প্রতিষ্ঠান বিদেশে বহু দেশের সাথে একযোগে কাজ করে। প্যারানরমাল তাদের মতে, যা দৈনন্দিন জীবনে স্বাভাবিক নয় বা যার ব্যাখ্যা আপাতদৃষ্টি তে পাওয়া যায় না।


সুশোভন সেন, প্যারানরমাল রিসার্চ সোসাইটির অন্যতম কর্মকর্তা আরো জানিয়েছেন যে তারা বেশিরভাগ কাজের ডাক পান উচ্চশিক্ষিত পরিবার থেকেই। তিনি একইসাথে এটাও জানিয়েছেন যে এখনো অনেক ঘটনা ঘটে, যার ব্যাখ্যা তারা খুঁজে পাননা। Mr. Sen admitted to finding difficulty in few cases where clients with rigid mindsets refused to be convinced with scientific explanations… মি. সেনের মত অনুযায়ী চলচ্চিত্রে যেমন ভয়ঙ্কর সমস্ত জিনিষ বা শারীরিক ক্ষতি দেখানো হয়, আসলে তেমন কিছুই হয়নি এখনো তাদের ক্লায়েন্টদের। এবং তারা কখনই ভূতের পেছনে ছোটেন না, তন্ত্রতে বিশ্বাস করেন না।

শুধুমাত্র অজানা কে জেনে, ক্লায়েন্ট দের ভ্রান্ত ধারনা, ভীতি ও অন্ধবিশ্বাস থেকে মুক্ত করার কাজেই তারা ব্রতী। তিনি আরো আশা রাখেন, সরকার তাদের এই কাজে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে খুব শীঘ্র।
প্যারানরমাল অনুসন্ধানীদের তরফে স্বীকার করা হয় বিভিন্ন অলৌকিক, অতিপ্রাকৃত, আধিভৌতিক, ভৌতিক বিভিন্ন উপস্থিতিকে যা যুক্তিগ্রাহ্য নয় বা বিজ্ঞান স্বীকৃত না হলেও বৈজ্ঞানিক বিভিন্ন যন্ত্র ও ইলেকট্রনিক ডিভাইসের দ্বারাই কিন্তু আমাদের মনুষ্য জগতের বাইরে আরেক দুনিয়ার অস্তিত্ব অগ্রাহ্য করা যায় না। তাই আমাদের দুনিয়ার বাইরে অতিপ্রাকৃত জগতের অস্তিত্ব অনস্বীকার্য।

 

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...