খবর ২৪ ঘন্টা

শীতের মরসুমে জমিয়ে চড়ুইভাতি ~ জেনে রাখুন কলকাতার কাছেপিঠে একডজন পিকনিক স্পট

শেয়ার করুন সকলের সাথে...

শীতের শুরুতে কী মন উড়ুউড়ু…? উড়তে থাকুন, ওড়া করে দিন শুরু। লেপ কম্বলের সাথেই হয়ে যাক চরৈবেতি মন্ত্র জপ,তাহলে লোটা কম্বল গুছিয়ে মনকে মিঠে রোদে সেঁকে দিতে চলুন একটু ঘুরে আসি, পাশাপাশি, খুব কাছাকাছি। হাতের কাছেই যখন আনন্দ করার আর শীতের মিষ্টি দিন উপভোগ করার একরাশ সুযোগ, তখন দূরে যাওয়া কেন? আসুন, দেখে নিই কিছু কাছাকাছি ঘোরার পিকনিক স্পট যা আপনার ও আপনার পরিবারের ছুটির দিনটিকে আরো মনোরম করে তুলবে।

টাকী পিকনিক স্পট — কলকাতা থেকে ৭৫ কিমি দূরবর্তী এই পিকনিক স্পটটি সড়ক পথ ও ট্রেনে যাতায়াত করা যায়। বাংলাদেশ বর্ডারে ইছামতী নদীর তীরে অবস্থিত এই পিকনিক স্পটটিতে আসতে হলে শিয়ালদহ স্টেশন থেকে হাসনাবাদ লোকাল ট্রেনে টাকী নেমে সেখান থেকে লোকাল ভ্যানে বা সড়ক পথে বারাসাত হয়ে ৮০ কিমি গাড়ীতে সোজা এখানে আসা যায়। এখানে টাকী রাজবাটী, মাছরাঙা দ্বীপ, হোগলাপাতা জঙ্গল প্রভৃতি দ্রষ্টব্য। এখানে ইছামতী নদীতে বোটিংয়ের ব্যবস্থা আছে। আপনি অনায়াসে খাবার সাথে আনতে পারেন।এটি যথেষ্ট সুরক্ষিত জায়গা কারণ বি. এস. এফ য়ের ক্যাম্প এখানে আছে।

পারমাদান– পশ্চিমবঙ্গের বনগাঁওয়ের নিকটে পারমাদান একটি ঘন জঙ্গল। বনগাঁও থেকে এক ঘন্টার দূরত্বে পারমাদান অবস্থিত। জঙ্গলের মধ্যে পিকনিক স্পটটি অবস্থিত। ইছামতী নদীর উদ্ভিদজগত ও প্রাণীজগতের সৌন্দর্য নিতে হলে অবশ্যই দশ টাকার বিনিময়ে এখানে ঘোরা যেতে পারে। নীলকুঠি ছাড়াও ইন্দোবাংলাদেশ সীমান্তে পেট্রাপোল এখানে অন্যতম দ্রষ্টব্য। বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের বাড়ী এখান থেকে মাত্র ১৮ কিমি দূরত্বে অবস্থিত।

মুকুটমণিপুর– পাহাড়, জঙ্গল, নদীর এক আশ্চর্য অপরূপ প্রাকৃতিক সমন্বয় পাওয়া যায় মুকুটমণিপুরে। কলকাতার নিকটবর্তী এই ছোট্ট শহরটির অন্যতম আকর্ষণ হল পরেশনাথ পাহাড় যা ট্রেকিংয়ের জন্য আদর্শ। দশ কিলোমিটার বিস্তৃত বনগোপালপুর রিজার্ভ ফরেস্ট, কংসাবতী ড্যাম ছাড়াও অসাধারণ দৃশ্যাবলী সমন্বিত উদ্ভিদ ও প্রাণী জগত এখানকার দ্রষ্টব্য বিষয়। কংসাবতী ও কুমারী নদীর সংযোগস্থলে অবস্থিত এই জায়গাটি প্রতি বছর হাজারো পর্যটকের মনোরঞ্জন করে থাকে।

বাওয়ালি– সবুজায়নের সাথে যদি আরো খানিক মিশে যেতে হয়, তাহলে ঘুরে আসা যাক বাওয়ালি থেকে। কলকাতার নিকটবর্তী বাউলটি মাত্র এক ঘন্টা চল্লিশ মিনিটের দূরত্ব।কলকাতা থেকে ৩৫ কিমি দূরবর্তী এই পিকনিক স্পটটিতে গ্রামীণ সৌন্দর্য্য, মাছ ধরা ছাড়াও এখানকার রাজবাড়ী অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

বাবর হাট– সম্পূর্ণ গ্রাম্য পরিবেশে হারিয়ে যেতে চাইলে উত্তর চব্বিশ পরগণার বাবর হাট একটি দিনের জন্য আপনার কাছে আদর্শ পিকনিক স্পট হিসাবে পরিগণিত হতে পারে।কলকাতা থেকে ৪৮ কিমি দূরত্বে এই জায়গাটিতে যেতে দুই ঘন্টা সময় লাগে। এখানে বিভিন্ন পুকুরে মাছের চাষ হয় যা অন্যতম আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।

রায়চক– ভাগীরথী হুগলী নদীতীরে রায়চক একটি ছোট্ট শহর। এটি একদিন ঘুরে আসার জন্য পিকনিক স্পট হিসাবে আদর্শ। এখানে অবস্থিত বিভিন্ন বিলাসবহুল রিসর্টগুলি এখানকার আকর্ষণ বৃদ্ধি করেছে। কলকাতা থেকে ৫০ কিমি দূরবর্তী রায়চকে যেতে গাড়ীতে আড়াই ঘন্টা সময় লাগে। অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে হারিয়ে যেতে রায়চক জেটি থেকে বোট নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন।

ডায়মন্ড হারবার– যেখানে গঙ্গা মিশেছে বঙ্গোপসাগরের সাথে, সেই ডায়মন্ড হারবারে একটি দিন হয়ে উঠতে পারে আপনার ও আপনার পরিবারের জন্য অনবদ্য। নদীর বিশালত্ব এখানে অত্যন্ত মনোরম। পৃথিবীর বৃহত্তম ব- দ্বীপের অত্যন্ত কাছে এটি। কলকাতা থেকে ৫৭.৫ কিমি দূরে অবস্থিত এখানে আসতে আড়াই ঘন্টা সময় লাগে। প্রায় ভগ্ন দূর্গ, নদীর তট, লোভনীয় ইলিশের জন্য এখানে অবশ্যই আসতে হবে।

দেউলটি– গ্রাম্য পরিবেশে সবুজ নারকেল গাছ, মেঠো রাস্তা,খড়ের ছাউনি দেওয়া কুটির আর পুকুর— সব মিলিয়ে এক অসাধারণ সৌন্দর্যমন্ডিত পিকনিক স্পট যার দূরত্ব কলকাতা থেকে ৬৩ কিমি আর যেতে সময় লাগে মাত্র এক ঘন্টা পঁচিশ মিনিট গাড়ীতে।এখানে সুবর্ণরেখা নদীর তীরে নিরালা রিসর্ট প্রখ্যাত লেখক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বসতবাটি ছিল।

মাইথন – পিকনিকের আদর্শ দামোদরের তীরে মাইথন। কাছেই কল্যাণেশ্বরী মন্দির৷ নানারকমের গাছপালা ঘেরা এক অপূর্ব প্রাকৃতিক জায়গা৷ আসানসোল বা বরাকর থেকে মাত্র আট কিমি দূরে মাইথন৷ রাজ্য পর্যটন উন্নয়ন নিগমের মাইথন ট্যুরিস্ট লজ ছাড়াও যুব আবাস, পিডবলুডি বাংলো ও বিভিন্ন হোটেল রয়েছে৷

মায়াপুর –  পিকনিক স্পট হিসাবে এর মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে নদীর তীরে শীতকালে পিকনিক এক অপূর্ব অভিজ্ঞতা৷ জলঙ্গি আর গঙ্গার মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত মায়াপুর ইসকনের মন্দিরের জন্য বিখ্যাত যার সৌন্দর্য অতি মনোরম।বাড়ি ভাড়ার সুবিধা আছে। কলকাতা থেকে সোজা বাস যায় মায়াপুর। তাছাড়া কৃষ্ণনগর থেকে অটোয় মায়াপুর ঘাটে এসে নৌকায় নদী পার হয়েও যাওয়া যায়।

গাদিয়ারা– কলকাতার থেকে মাত্র ৯৬ কিমি দূরবর্তী গাদিয়ারা রূপনারায়ণ, দামোদর আর হুগলি নদীর সঙ্গমস্থল। এখানকার মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশ অত্যন্ত আকর্ষক। সরকারি উদ্যোগে গঠিত একটি লাইটহাউস ও লর্ড ক্লাইভের নির্মিত দূর্গ, দ্য মরনিংটন পয়েন্ট ফোর্ট ছাড়াও বোট রাইডিং ও এখানে অন্যতম আকর্ষণ।

ব্যারাকপুর– এই ঐতিহাসিক ঘেরাটোপে থাকা শহরটি কলকাতা থেকে ২৩ কিমি দূরে অপূর্ব প্রাকৃতিক পরিবেশের মাঝে অবস্থিত। এখানে দ্রষ্টব্য হল মঙ্গল পান্ডে পার্ক, গান্ধী মিউজিয়াম, ক্যান্টনমেন্ট প্রভৃতি। স্বাধীনতা আন্দোলনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবার সাথে সাথে এখানে বহু বিশিষ্ট জ্ঞানীগুণী মানুষ যেমন মঙ্গল পান্ডে, মহাত্মা গান্ধী, শেখর ঘোষ, শ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব, নিত্যানন্দ প্রভু, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর প্রভৃতির পদধূলি পরেছে।

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...