ক্ষমতার বড়াই নাকি খবর হয়ে ‘হেডলাইন’-এ থাকার সস্তা চেষ্টা, কি চাইছেন বিপ্লব ? (video News)…

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 2.3K
    Shares

ওয়েব ডেস্কঃ ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী সাপের পাঁচ পা দেখেছেন কি? কথাবার্তার ধরণে তো তেমনই মালুম হচ্ছে! প্রথমে ইন্টারনেট তত্ত্ব, তারপর লাফ দিয়ে খোদ বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে নিয়ে বিশেষ মন্তব্য, এবার তার মন্তব্যের বিষয় বিশ্বসুন্দরী৷

ঠিক কি চাইছেন তিনি? অবশ্য পঁচিশ বছরের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়েছেন তিনি৷ আপাতত মোদীর দলের নয়নের মণি এই বিপ্লব দেব৷ কিন্তু তা বলে ধরাকে সরা জ্ঞান করার এক্তিয়ার কি তাঁর রয়েছে? তবে তিনি নতুন তো নন! বিজেপি ও সঙ্ঘ নেতারা নানা মন্তব্যে নয়া নিদর্শন তৈরি করে এসেছেন৷ নমুনা একেবারে হাতে গরম৷ তার মধ্যে ‘ডারউইন তত্ত্ব’, ‘গোমূত্রে ক্যানসার সারা’, ‘প্লাস্টিক সার্জারির নিদর্শন গণেশ’- এমন নানা উদ্ভট ও হাস্যকর মন্তব্য রয়েছে৷

তবে এনাদের বোধহয় কিছু যায় আসেনা৷ নয়তো সেই ট্র্যাডিশন এভাবে সমানে চলতে পারে না৷ যাই হোক৷ ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের প্রসঙ্গে আসি৷

তাঁর মতে, প্রাক্তন মিস ওয়ার্ল্ড ডায়ানা হেডেন ভারতীয় নারীদের প্রতিনিধি নন, ঐশ্বর্যা রাই একমাত্র সেই তকমা পেতে পারেন। কেন জানেন? ভারতীয়রা মেয়েদের মধ্যে দেবী লক্ষ্মী, সরস্বতীকে খোঁজেন। ঐশ্বর্যা ভারতীয় নারীদের প্রতিনিধি। কিন্তু ডায়না হেডেন সেটা নন৷

ভিডিও সৌজন্য ঃ REPUBLIC Tv….

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, এ ধরনের সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার ফলাফল আগে থেকে ঠিক করা থাকে। টানা পাঁচ বছর ভারত থেকে যেই গিয়েছেন, তিনিই মিস ওয়ার্ল্ড বা মিস ইউনিভার্স হয়েছেন। ডায়ানা হেডেনও জিতে যান সেই সুযোগে। তাঁর এই খেতাব জেতার কথা ছিল না বলে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

কিন্তু তিনি যে প্রশ্ন তুলছেন, সেই প্রশ্ন তোলার অধিকার কি তাঁর রয়েছে? আদপেই নয়৷ তাহলে কেন বারবার নিজের সীমা ডিঙোনোর চেষ্টা? কারণ একটাই শিরোনামে থাকা৷ একটু লাইম লাইট পেতে চাওয়া৷ হয়তো সেই সস্তা পথে হেঁটে নাম কুড়োনোর চেষ্টা৷

কিন্তু তিনি ভুলে যাচ্ছেন একজন মুখ্যমন্ত্রী পদাধিকারী৷ বাজার তৈরি করার রাজনীতি থেকে সরে আসা উচিত তাঁর৷

মুখ্যমন্ত্রীর পদে একজন ব্যায়াম প্রশিক্ষক আসায় হঠাত তাঁর মাথা ঘুরে গিয়েছে বলে সমালোচনা চলছে৷ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত রাজ্যের আইন শৃঙ্খলার দিকে লক্ষ্য না রেখে, সংবাদ শিরোনামে আসার জন্য যা খুশি বলছেন ও করছেন তিনি৷

এদিকে, ত্রিপুরায় প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় আসার মাস কয়েক পেরোতেই সেখানে তাণ্ডবলীলা শুরু করেছে বিজেপির উচ্ছৃঙ্খল কর্মীরা। এরইমধ্যে প্রাক্তন শাসক দল সিপিএমের বেশ কয়েকটি কার্যালয় পোড়ানো হয়ে গিয়েছে৷

হিংসার জেরে বন্ধ হতে বসেছে আখাওড়া স্থলবন্দর দিয়ে সব ধরণের পণ্য আমদানি-রফতানি৷ সেদিকে কে নজর দেবে, তার কোনও দিশা পাচ্ছেন না মানুষ৷ শিবঠাকুরের আপন দেশের প্রধান হয়ে নিজের খেয়ালেই আপাতত মজে রয়েছেন ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী৷

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 2.3K
    Shares

Sponsored~

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.