আবার রাশিয়ার ক্ষমতায় পুতিন, মাথাচাড়া দিচ্ছে ঠান্ডা লড়াই

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 28
    Shares

ওয়েব ডেস্কঃ নিজস্ব প্রতিনিধি~ ফের ক্ষমতায় ফিরছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। আরও ছবছরের জন্য ক্ষমতায় থাকবেন তিনিই। ২০২৪ পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে চলেছেন ভ্লাদিমির। গণনায় ৭৫ শতাংশ ভোট পেয়েছেন পুতিন বলে সূত্রের খবর।

এবার বিশ্ব জুড়ে ঠান্ডা লড়াই প্রস্তুতি আবারও জোরদার হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা। আমেরিকার বিরুদ্ধে সামরিক শক্তির ভিত আরও পোক্ত করতে চাইবেন পুতিন। ৭১ বছর বয়স পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকবেন তিনি। গত ১৮ বছর ধরে তিনিই রাশিয়ায় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে।

২০১২ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ৬৪ শতাংশ ভোট একাই পেয়েছিলেন পুতিন। আর এবার তার চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ বেশি ভোট পেয়েছেন তিনি। স্বাভাবিকভাবেই পুতিনের জনপ্রিয়তা যে বেড়েছে সেটা জনাদেশেই স্পষ্ট।

নিয়ম অনুযায়ী রাশিয়ায় একজন প্রেসিডেন্ট পর পর দু দফার বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারেন না। টানা দুই দফায় আট বছর এই দায়িত্ব পালনের পর সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণে ২০০৮ সালের নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেননি তিনি। ওই বছর দিমিত্রি মেদভেদেভ রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পুতিন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রেসিডেন্ট পুতিন ২০০০ সালে প্রথম দফায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। এরপর ২০১২ সালে আবারও জয়লাভ করেন তিনি।

Image result for পুতিন

রাশিয়াতে অনেকেই পুতিন বাদে অন্য কোন নেতাকে কল্পনা করতে পারেন না৷ জেসফ স্ট্যালিনের পর তিনিই রাশিয়ার রাজনীতিতে দ্বিতীয় নেতা যিনি দীর্ঘ প্রায় দুদশক ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে৷

কিন্তু সমস্যা অন্য জায়গায়৷ পুতিনের ক্ষমতায় ফেরার ফলে পশ্চিমি দুনিয়ার সঙ্গে ফের সংঘাত বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে৷ এমনিতেই রাশিয়ার সঙ্গে ক্রিমিয়ার সংযুক্তিকরণকে ভালো চোখে দেখেনা আমেরিকা৷

২০১৪ সালের মার্চে এক গণভোটের মাধ্যমে কৃষ্ণ সাগরের তীরবর্তী ক্রিমিয়া রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হয়। ওই ভোটে রাশিয়ার সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পক্ষে বেশির ভাগ ভোট পড়ে। মস্কো বরাবরই জানিয়েছিল, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াআন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রসঙ্ঘের গঠনতন্ত্র মেনে নিয়েই ক্রিমিয়া যুক্ত হয়েছে। তা সত্ত্বেও রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া উপদ্বীপের জুড়ে যাওয়াকে বাঁকা চোখেই দেখেছে ও স্বীকৃতি দিতে অসমর্থ হয়েছে পশ্চিমা জোট।

এসব মাথায় রেখেই প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে ক্রিমিয়া সফর করেছিলেন ভ্লাদিমির পুতিন। ক্রিমিয়ার মানুষ এবারই প্রথমবারের মতো রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভোট দিলেন। এই সব কারণে আরও দূরত্ব বাড়ছে আমেরিকা-রাশিয়ার।

এরআগে, রুশ প্রেসিডেন্ট বলেছিলেনরাশিয়া গঠনমূলক আলোচনায় সবসময় আগ্রহী। আমেরিকা ও রাশিয়ার মধ্যে যে উত্তাপ রয়েছে, তা কমানো সম্ভব আলোচনার মাধ্যমে। মস্কো আলোচনায় বসা সম্মতি জানিয়ে ছিল, কিন্তু কিছু শর্ত রাখায় বৈঠক সম্ভব হয়নি।

Image result for russia america

পুতিন বলেছিলেনরাশিয়ার সঙ্গে আলোচনা আলোচনা করতে গেলে একরোখা আচরণ বাদ দিতে হবে। সমঝোতা এবং উভয় দেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে সমান-সমান বণ্টনে বিশ্বাসী হতে হবে। ফলে ইউক্রেন সংকটসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিগত তিন বছর ধরে যে টানাপোড়েন চলছিল, তা আরও বাড়ল বলেই মনে করা হচ্ছে।

আমেরিকা স্বীকার করেছে২০১৪ সালে ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে যে সামরিক অভ্যুত্থান হয়েছিল তাতে ওয়াশিংটনের পৃষ্ঠপোষকতা ছিল। এছাড়াও বর্তমানের সাইবার যুদ্ধ এবং সিরিয়া সংকট দুদেশের সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটিয়েছে। সাইবার আক্রমণের জন্য প্রকাশ্যে রাশিয়াকে অভিযুক্ত করেছে আমেরিকা।

কূটনৈতিকরা মনে করছেনদুই দেশের বিরোধিতা ঠান্ডা যুদ্ধের অবস্থানে পৌঁছে গিয়েছে। আমেরিকা ইউরোপের পূর্ব দিকে ন্যাটো বাহিনীকে নামানোইউরোপের অভ্যন্তরে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলায় উত্তেজনা বাড়ছে। সিরিয়ায় রাশিয়ার যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনও দুই দেশের দ্বন্দ্বকে নতুন মাত্রা দিচ্ছে।

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 28
    Shares

খবর এক নজরে…

No comments found

Sponsored~

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.