খবর ২৪ ঘন্টা

আজ সোমবার ~ জেনে নিন দেবাদিদেব মহাদেবের আরাধনার সঠিক কিছু বিধিনিষেধ …

শেয়ার করুন সকলের সাথে...

ওয়েব ডেস্কঃ  সাধারণ ভাবে আমরা বলে থাকি যে, সেবা করতে না পারো কাউকে অবহেলা করো না। আমরা মানুষ বড়ো নিয়মের বাঁধনে আসীন হতে চাই ।আর প্রচলিত বিধানে নিবেদনকেও সেই ভাবে বেঁধে দিয়েছি। কিন্তু এট ভুলে যাই যে ভাবাগ্রাহী জনার্দন কেবলমাত্র ভাবটা নেন। তবু প্রচলিত চল মেনে আমরা বলি যে, শিবের মূর্তি নাকি বাড়িতে ঠিক মতো পূজো নিয়ম মেনে না করতে পারলে বাড়িতে খারাপ কিছু ঘটে। সবটাই মনের বিষয় কারণ ঈশ্বর আলোর প্রতিভূ, তিনি খারাপ কিছু করতে পারেন না। তবু আসুন প্রচলিত মত নিয়েই আলোচনায় আসা যাক।

শাস্ত্রের বিবিধ মত আছে। বলা হয় শিব মূর্তি রাখো কিন্তু শিব লিঙ্গ নয়। কারণ লিঙ্গ নাকি অনেক নিয়ম নিষ্ঠা মেনে পূজাদি করা প্রয়োজনীয়। আর সেটা না করা হলে সংসারে ক্ষতি হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা। কিন্তু নিয়ম গুলি কি? কিছুটা জানা থাকলেও একবার মনে করে নিতে অসুবিধা কোথায়!!

যেমন –

১) নিয়মিত পূজা করতে হবে।
২) প্রতিদিন দুধ ও মধু দিয়ে শিব লিঙ্গের অভিষেক করতে হবে।
৩) প্রতিদিন পাঁচ বার করে শিব লিঙ্গের আরতি করতে হবে ।
৪) শিবলিঙ্গের সামনে মিথ্যা বলা যাবে না আর স্থান পবিত্র রাখা বাঞ্ছনীয়।
৫) শিব লিঙ্গের মাথায় জল ঢালার সময় সতর্ক হতে হবে, অন্যথা বিপদ আসতেই পারে।
৬) পুজা নিয়ম নিষ্ঠা না মেনে করলে নাকি মানুষকে আর্থিক ক্ষতি, জীবনের অনেক ক্ষেত্রেই বিপদে পরতে হতে পারে।

 

এবার আসা যাক বাস্তু মতে কি ভাবে ঠাকুরঘর কোন দিকে মহাদেবের পুজো করাটা বিধেয়। এটা জানতে হলে, আমাদের মনে রাখতে হবে যে, উত্তর পুর্ব কোণে রেখে শিব পুজো করাটা বিধেয়। কিন্তু ঠাকুরঘরে ঠাকুরের মূর্তি বা পট কে মাটিতে রাখা যাবে না।অর্থাৎ এখানে শূচিতা নির্ভর করে। আমরা শ্রদ্ধার জিনিসকে মাটিতে পায়ে লেগে গেলে প্রণাম করি । এখানেও সেই পবিত্রতা মেনে চলাটাও বিধেয়। আর মন শুদ্ধি মানে সব শুদ্ধি। তাই শুদ্ধির জন্য পুজোর উপাচারে স্থান পবিত্র রাখাটা প্রয়োজনীয়।

বাস্তু মতে ধ্যানরত শিবের মূর্তি বাড়িতে রাখাটা বিধেয়। কারণ এতে নাকি পজিটিভ রে আসে। প্রসঙ্গত একটা কথা বলে রাখাটা ভালো, ধ্যান মানে ” To know Yourself “। এখন যদি নিজেকে জানতে হয় তবে নিজের ভিতরের আলোকে জাগ্রত করাটা প্রয়োজনীয়। আর মানুষ তো অভ্যাসের দাস, তাই নিত্য এই ধ্যানমগ্নতা তাকে সেই সাধনার পথে নিয়ে যাবে, তবে প্রারব্ধ ভালো হলে তবেই সম্ভব। তাই বলা হয় যে ধ্যানরত মূর্তি ঘরের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

আবার বলা হয় যে, নটরাজ মূর্তি অমঙ্গলসূচক। কিন্তু এটারও কারণ আছে। সতীর মৃত্যুর পর এইভাবে মহাদেব নৃত্যে রত হন। আর পৃথিবীতে প্রলয় রূপ ধরা পড়ে। আর ক্রোধ সংবরণ করাটা বিধেয়, অন্যথা ধ্বংস অবশ্যম্ভাবী। তাই সংহারক মূর্তি রাখা যথোপযুক্ত নয়।

প্রচলিত মতানুসারে অধিক শিব মূর্তি রাখা ঠিক না। কারণ অধিক মূর্তি বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে অর্থাৎ কুফল দেয়। কিন্তু বাস্তবে যুক্তি মতে বলা হয় যে, যেভাবেই রাখো যেন সঠিক নিয়ম মেনে পুজো হয় আর সেখানে অধিক মূর্তি এনে অবহেলা করাটা অনুচিত। সেই অর্থে অবহেলায় অধিক মূর্তি “নৈব নৈব চ”।

বলা হয় গণেশ যেহেতু সর্ব সিদ্ধিদাতা, তাই শিব পুজোর আগে গণেশ পুজো করাটা বিধেয়। তবে শিবের পুজো করার সময় মূল মন্ত্র ” ওম নম: শিবায় বলে দুধ গঙ্গাজল ঢেলে পুজো করাটাই নিয়ম। তবে শ্রীষ্টাচারে পুজো করলে বাবা মহেশ্বর কখনও ফাঁকা হাতে ফেরান না। মহাদেব স্বল্পতেই সন্তুষ্ট তাই আবারো প্রণাম করে ” অনাথস্য শুধিনং বিভো বিশ্বনাথ, পুনোজন্মদু:খাৎ পরিত্রাহি…. প্রণমামি শিবম শিব কল্পতরুম।”

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...