দেশে ফিরবেন রোহিঙ্গারা, ১৫ তারিখ থেকে প্রত্যাবর্তন শুরু

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 36
    Shares

এক বছর আগে মায়ানমারের রাখাইন স্টেট থেকে সেনাবাহিনীর ভয়ে লাগোয়া রাষ্ট্র বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল রোহিঙ্গারা। তাদের জন্য নতুন শরণার্থী শিবির গড়ে দিয়েছিল ঢাকা। কয়েক হাজার রোহিঙ্গার জন্য অর্থনৈতিক সঙ্কট দেখা দিয়েছিল বাংলাদেশে। রাষ্ট্রপুঞ্জের বিভিন্ন সম্মেলন এবং আলোচনাতেও বারবার রোহিঙ্গা সমস্যা এবং এব্যাপারে মায়ানমারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেষ হাসিনা।
তারপর গত ডিসেম্বরে বাংলাদেশ এবং মায়ানমারের ১৫ জন করে সদস্য নিয়ে তৈরি হয় যুগ্ম কার্যকরী গোষ্ঠী বা জেডব্লুজি। এই গোষ্ঠী মোট তিনটে বৈঠক করে। গত মাসে তৃতীয় জেডব্লুজি–র বৈঠকের পর রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে রাজি হয় মায়ানমার। মোট ১০ লক্ষ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসনে রাজি হয়ে ঢাকার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে নাইপাইদাও।
সেই মত এমাসের ১৫ তারিখ থেকে তাদের স্বদেশ মায়ানমারে প্রত্যাবাসন করা হবে রোহিঙ্গাদের। সোমবার একথা জানিয়েছে বাংলাদেশ। ইতিমধ্যেই যে সব রোহিঙ্গা পরিবার ফিরবে তাদের তালিকা মায়ানমার সরকারের হাতে তুলে দিয়েছে বাংলাদেশ। মোট ২২০০০ জনের নাম রয়েছে তালিকায়। তবে প্রথম দফায় মোট ৫০০০ রোহিঙ্গাকে ফেরাতে রাজি হয়েছে নাইপাইদাও। যদিও কক্সবাজারের উখিয়া এবং টেকনাফ শরণার্থী শিবিরের অনেক রোহিঙ্গা পরিবার নিরাপত্তার কারণে দেশে ফিরতে নারাজি। ঢাকা অবশ্য আশ্বাস দিয়েছে কেউ ফিরতে না চাইলে তাঁকে জোর করবে না বাংলাদেশ সরকার।


রাষ্ট্রপুঞ্জের হাই কমিশনার বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, ‘‌স্বেচ্ছায় যে সব রোহিঙ্গারা নিজেদের দেশে ফিরতে চান, তাদের সমর্থন করছে রাষ্ট্রপুঞ্জের হাই কমিশন। নিরাপদে এবং সসম্মানে তাঁরা যাতে সেখানে থাকতে পারেন সেটাই লক্ষ্য। প্রত্যেক শরণার্থীকে তিনি স্বদেশে ফিরতে চান কিনা সেই ইচ্ছা জেনে তবেই ফেরাতে হবে।’‌
কক্সবাজারের শরণার্থী ও ত্রাণ কমিশনার মহম্মদ আবুল কালাম বললেন, ‘‌ নাফ নদীর তীরে, টেকনাফের কেরুনতালি–নয়াপাড়া এবং ঘুমডুম সীমান্তে গত দু’‌মাসে দুটি ট্রানজিট ক্যাম্প তৈরি হয়েছে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন বা দেশে ফেরানোর প্রথম ধাপ হিসেবে। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই প্রত্যাবর্তনের কাজ শুরু হয়ে যাবে।’‌

Facebook Comments


শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 36
    Shares

খবর ২৪ ঘন্টা

খবর এক নজরে…

No comments found