খবর ২৪ ঘন্টা

বিজ্ঞানে যার ব্যখ্যা মেলেনিঃ আজও অমীমাংসিত দশটি রহস্য

শেয়ার করুন সকলের সাথে...

পৃথিবীতে প্রতিনিয়ত একের পর এক গঠনা ঘটে চলছে। এরমধ্যে কিছু সামান্য ও কিছু কিছু হচ্ছে অদ্ভুত, অলৌকিক, অভাবনীয়। আমাদের সকলের মতেই আজ বিজ্ঞানদ্বারা কোন রহস্যের সমাধান হয়নি তা নয়।  বিজ্ঞানের আড়ালেও রয়েছে অমীমাংসিত অনেক  রহস্য,  যা আজঅবধিও অজানা। আসুন জেনে নেই এমনই  কিছু শ্রেষ্ঠ দশটি অজানাকে……

 

১০ –Voynich Manuscript :

১৯১২ সালে পালিশ আমেরিকান প্রত্নতাত্ত্বিক বই বিক্রেতা দ্বারা এই পুস্তকটির আবিষ্কার হয়। ২৪০ পাতার “Voynich Manuscript”বইটিতে এমন ভাষা বা লিপির ব্যাবহার হয়েছে যা কেউ আজ অবধি পড়তে পারেনি। এই ছবিটিতে যেমন আপনি দেখতে পারছেন পুরো বইয়ে রয়েছে  বিভিন্ন রঙের চিত্র, অদ্ভুত রেখা। বা বইটিতে যেমন গাছের ছবি দেওয়া রয়েছে এমন গাছ কোথাও দেখতে পাওয়া যায়নি।

এটা এখনো অবধি জানা যায়নি যে এই বইটির লেখক  কে। কার্বন ডেটিং এর সাহায্যে অনুমান করা হয় যে ১৪০৪ থেকে ১৪৩৮ এর মধ্যে এই বইটি লেখা হয়। একে বিশ্বের সবথেকে রহস্যময় হস্তলিখিত পুস্তক হিসেবে জানা যায়। এর কিছু কিছু ছবি থেকে  বিশেষজ্ঞরা অনুমান করেন যে এতে মধ্যযুগ বা আধুনিকযুগের  চিকিৎসা সম্পর্কে লেখা রয়েছে।

৯- Grooved Spheres :

দক্ষিণ আফ্রিকার শহরে প্রায় ২.৮ বিলিয়ন বছর পুরনো পাথর রয়েছে, নাম ‘Precambrian’। খনন কাজের সময় শ্রমিকরা কিছু অদ্ভুত গোলাকার ধাতু উদ্ধার করেন, যার ব্যাস (diameter) প্রায় ১ইঞ্ছি ও তিনটি সমান্তরাল খাঁজে বিভক্ত। এদের মধ্যে কিছু সাদা ছিটেফোঁটা যুক্ত নীলাভ ধাতুর ও কিছু হছে সাদা শোষক পদাথের। এই গোলাকার ধাতুগুলির উৎস এবং কারণ আজ অব্ধি বিজ্ঞানীদের অজানা।

৮- The Zodiac Letters:

পৃথিবীর অমীমাংসিত রহস্যের মধ্যে অধিকাংশই হল খুনের রহস্য। যার মধ্যে বিখ্যাত হলো , “Zodiac Killer”। ১৯৬০ থেকে ৭০ শতকের ক্যালিফোর্নিয়া শহরের এক পেশাদার খুনি পর পর চারজন পুরুষ ও তিনজন মহিলার খুন করেন, খুন করার পর স্থানীয় সংবাদপত্র অফিসে কিছু সাঙ্কিতিক লিপি ও বিদ্রূপাত্মক পত্র পাঠায়, সেই পত্রে নিজেকে “রাশিচক্র(zodiac)”, নামে পরিচিত করে। কয়েক দশক ধরে শুধুমাত্র একটি লিপি পাঠ্যধ্যার করা সম্ভব হয়েছে, বাকি অনেক সন্দেহজনক পত্র ও খুনের আজ অবধি কোন তদন্ত করা সম্ভব হয়নি বা খুনিকে সনাক্ত করা হয়নি। ২০০৪এ সান ফ্রাঞ্চসিস্ক (San Francisco) পুলিশ বিভাগ এই কেস কে “inactive” হিসেবে চিহ্নিত করেন।

৭-  Taos Hum :

 

      নিউ মেক্সিকো, New Mexico র ছোট শহর, টাওস(Taos)। ১৯৯০ সালে হঠাৎ করেই শহরের বাসিন্দারা শুনতে থাকে কিছু গুঞ্জন ধ্বনির/ গুন গুন আওয়াজ (Hum)। এর উৎস জানার জন্য কিছু সংবেদনশীল সরজ্ঞামও শহরের কিছু কিছু জায়গায় বসানো হয়, কিন্তু তা সত্ত্বেও কোন অস্বাভাবিক শব্দ রেকর্ড হয়নি। আর এই “Taos Hum” পৃথিবীর অন্যতম আজানা রহস্য হয়ে আজও রয়ে গেল।

 

৬-  The Oak ville Blob rain :

  আপনি কি কখনও আকাশ থেকে জলের বৃষ্টির পরিবর্তে ‘জেলি’jelly, কণার বৃষ্টি হতে দেখেছেন! এটা এমনই একটা অবিশ্বাসনীয় অসমাধিত গঠনা।

৭ই আগস্ট ১৯৯৪সন Washingtonএর  Oakville শহরে ভোর প্রায় তিনটায় হঠাৎ শুরু হয় বৃষ্টির। বাসিন্দারা লক্ষ্য করেন এ কোন জলবিন্দুর বৃষ্টি ছিল না, ছিল কিছু “জেলি জাতীয় পদার্থের”(gelatinous substance) বৃষ্টি, যা এর আগে কখনো দেখা যায়নি।  ধীরে ধীরে এলাকার বাসিন্দারা যারাই এর সংস্পর্শে আসে রহস্যজনকভাবে অসুস্থ হতে থাকে। কিছু সংখ্যক অণুজীব বিজ্ঞানীদের(microbiologist) মতে মানবীয় সাদারক্ত কোষ, আবার কিছু সংখ্যক বিজ্ঞানীদের মতে এছিল দুপ্রকার ব্যাকটেরিয়ার এক পরিপূর্ণ রূপ। এক কথায় এই অদ্ভুত জেলি বৃষ্টির উৎস ও তার কারন আজও রয়েছে অজানা।

 

৫-Wow! Signal:

 

১৯৭৭ সালের ১৫ই আগস্ট আমেরিকার “The Ohio state” বিশ্ববিদ্যালয়ের radio telescope এ এক শক্তিশালী রেডিও সংকেত ধরা পড়ে। Search for extraterrestrial (SETI) এর জেরি আর এহমান Jerry R Ehman, প্রথম ব্যাক্তি ছিলেন যিনি এরকম সংকেত পান। তিনি মহাকাশের গভীর থেকে আসা রেডিও সংকেত স্ক্যান করছিলেন। প্রায় ৭২ সেকেন্ড ধরে এই সঙ্কেতটি পাওয়া যায়। ওনার মতে এটা ছিল কোন এলিয়ন গ্রহ থেকে পাঠানো সংকেত।

আরও গভীরে তদন্ত করার পর জানা যায় যে, এই সংকেতটি আসছিল প্রায় ১২০ প্রকাশ বর্ষ দূরে অবস্থিত নক্ষত্রপুঞ্জ থেকে, যেখানে কোন মানব অস্থিত্ব নেই। এহমান এই সংকেতের প্রিন্ট আউট এ “Wow”, কথাটি উল্লেখ করেন।

 

৪-  Bermuda Triangle:

Bermuda Triangle আধুনিক যুগের অন্যতম অমীমাংসিত রহস্য। বারমুডা  ট্রাইএঙ্গেল হচ্ছে উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের একটি ত্রিকোণাকৃতি এলাকা- Florida, Bermuda দ্বীপ এবং Puerto Rico এর মধ্যে। যেখানে জাহাজ এবং বিমান রহস্যজনক ভাবে অদৃশ্য হয়ে যায় বলে ধারণা। এই তালিকায় রয়েছেঃ ১৯৪৫ সালের ৫ই সেপ্টেম্বর আমেরিকার নৌবাহিনীর পাঁচটি টারপিডও বিমান নিয়মিত ট্রেনিং এর জন্য রওনা হয়। রওনা হওয়ার প্রায় এক ঘণ্টার পর যখন বারমুডা এলাকায় পৌঁছায় বিমানগুলি কন্ট্রোল রুমের সাথে সম্পর্ক হাড়ায় ও নিরুদেশ হয়ে যায়। এমনকি এই বিমানের উদ্ধারকার্যে যাওয়া বিমান PBM-5 বিমান টি ও নিখোঁজ হয়ে যায়।

১৯১৮ সালে ৩০৯ জন সদস্যের আমেরিকা নৌবাহিনীর, “USS Cyclops”এবং ১৯৫৫ সালে বিলাস বহুল yacht “Connemara iv”, অদ্ভুত ভাবে নিখোঁজ হয়ে যায় এই বারমুডা ট্রাইয়েঙ্গেলে।

 

৩-  Red Rain:

২০০১ সালে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসে দক্ষিণ ভারতের কেরালা রাজ্যে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে রক্ত বৃষ্টি বা red rain হয়। বলে রাখা দরকার, এর আগে ১৮৯৬ সালে কেরেলাতে হলুদ, সবুজ এবং কালো বৃষ্টি হতেও বেশ কয়েকবার দেখা যায়।

ভারতীয় সরকার একে উর্বর স্থলজ শৈবাল বলে দাবী করে। ২০০৬ এ মিডিয়া একে অনন্য স্থলজ রঙ্গীন কণা হিসাবে দাবী করে। এরকম অনেক গবেষণার পরও এর সঠিক কারন এখনো অজানা।

 

 ২-  The Pollock Twins :

পুনর্জন্ম বা মৃত্যুর পরবর্তী জীবন- এই কথাগুলি আমাদের অধিকাংশের কাছেই অবিশ্বাসনীয় বা অলৌকিক বলে মনে হয়, কারন বিজ্ঞানে এর কোনো ব্যখ্যা  নেই। এমনই এক অলৌকিক ঘটনা হল- ইংল্যান্ডের দুই বোন “Pollock Twins” এর।

১৯৫৭ সালের ৫ই মে, দুই যমজ বোন Jacqueline(6 yr) এবং Joanna(11yr)এর এক গাড়ী দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়। প্রায় এক বছর বাদে এদের মা-Florence পুনরায় যমজ কন্যা সন্তান Gillian এবং Jennifer এর জম্ম দেন। লক্ষ্য করা যায়, মৃত বোন Jaqueline এর কপাল জুড়ে যেমন সাদা রেখা ছিল ঠিক তেমনটিই ছিল নবজাত  Jennifer এর কপালে, শুধু তাই নয় মৃত বোনের মত নবজাতের পায়েও ছিল জড়ুল(birth mark)। এমনকি Gillian এবং Jennifer যখন চার বছর বয়সে পৌঁছল ওদের মৃত বোনদের স্কুলকে নিজেদের স্কুল বলে জানায় ও অদ্ভুত ভাবে বোনদের ব্যবহৃত খেলনা- পুতুল গুলিকে একে একে চিনে নেয়। ওদের বয়স যখন পাঁচ অদ্ভুতভাবে প্রায় রাতারাতি Gillian এবং Jennifer র স্মৃতি থেকে মৃত বোনদের সবকথা বিলুপ্ত হয়ে যায় ও তারা স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে থাকে।

 

১-   Malaysia Airline MH 370:

  আজ থেকে তিন বছর আগে Malaysia Airline, Flight MH370 অদৃশ্য হওয়ার সঠিক হদিস এখনো পাওয়া যায় নি। ৪ঠা মার্চ, ২০১৪ সালে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে এমএইচ-৩৭০বিমানটি মোট ২৩৯ জন যাত্রীসহ রওনা হয়, চীনের রাজধানী – বেজিং  আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশে।

বিমান উড়ার প্রায় একঘণ্টা পর দক্ষিণ চীন সাগরের উপর থাকতেই air traffic control radder এর যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বহুজাতিক অনুসন্ধানের প্রচেষ্টা চালানো হয় – দক্ষিণ চীন সমুদ্র (South china sea), ভারত মহাসাগর এ, এমনকি উপগ্রহের মধ্যে খোঁজ চালিয়েও বিমানের কোন সুত্র পাওয়া যায়নি। নিরুদ্দেশ হওয়ার আগে বিমানের কর্মচারী বা বিমান যোগাযোগ থেকে কোন খারাপ আবাহাওয়া বা যান্ত্রিক গোলযোগের সংকেতও পাওয়া যায়নি। মালাইসিয়া সরকারের মতে এই বিমান নিরুদ্দেশের চূড়ান্ত রিপোর্ট এখনও আসা বাকি।

 

 

 

 

 

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...