খবর ২৪ ঘন্টা

কল্পনা চাওলার ১৫ তম মৃত্যুদিনে খবর ২৪ ঘন্টার গভীর শ্রদ্ধার্ঘ্য…

শেয়ার করুন সকলের সাথে...


ওয়েব ডেস্কঃ  ১ লা ফেব্রুয়ারি ২০০৩,  ‘কলম্বিয়া’ স্পেস ধ্বংস করল বেশ কিছু তরতাজা প্রাণ,যার মধ্যে ছিলেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত  বীরকন্যা কল্পনা চাওলা। ৭ জনের নিশ্চিহ্ন প্রাণের বুকে দাগ কেটে গেলেন কল্পনা চাওলা। অভিশপ্ত ১ লা ফেব্রুয়ারি মার্কিন দেশের নভোচারী ও নভোযানের প্রাণ ছিনিয়ে নিলো। বায়ুর সংস্পর্শে এসে বিধ্বস্ত যানেই শেষ হলো নভোমণ্ডলের তারা।

১৯৬২ সালে ১৭ ই মার্চ হরিয়ানার কারনালে কল্পনা চাওলা জন্মগ্রহণ করেন। এক বিশিষ্ট হিন্দু পরিবার, তবু ঠাকুর বালনিকেতন সেকেণ্ডারি স্কুলেই তাঁর জীবনের প্রাথমিক পদক্ষেপ শুরু হয়। সময়টা ১৯৮২ সাল, যেখানে তিনি পাঞ্জাব প্রকৌশল কলেজ থেকে মহাকাশ প্রকৌশলের উপর স্নাতকের পাঠ গ্রহণ করেন। পরবর্তী কালে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান এবং সেখানে ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাস অ্যাট আর্লিংটন থেকে স্নাতকোত্তর পাঠ গ্রহণ করেন। কিন্তু এখানেই নিজেকে স্থির রাখেন নি,বরং পরবর্তীকালে ১৮৮৫ সালে ইউনিভার্সিটি অফ কলোরাডো অ্যাট বউল্ডে পি এইচ ডি লাভ করেন।

বিস্ময়ের ” মন্টো ” নিজের নাম যিনি নিজেই রাখেন কল্পনা, সেই মন্টোর স্বপ্ন কল্পনায় আকাশ পাড়ি। কর্মজীবনের শুভ সূত্রপাত ১৯৮৮ সালে নাসাতেই তাঁর প্রথম কর্ম জীবন শুরু হয়। ১৯৯৭ এর ১৯ শে নভেম্বর তিনি প্রথম মহাকাশে পা রাখেন। প্রথম মহাকাশে পা রেখে তাঁর উক্তি ~ “when you look at the stars and the galaxy, you feel that you are not just from any particular piece of land, but from the solar system”.

১৯৮৩ সালে কল্পনা চাওলা জেন পিয়ার হ্যারিসনের সাথে বিবাহ করেন। ছেলের সাথে ব্যাডমিন্টন আর ডস বলের খেলায় মত্ত কল্পনা কমার্শিয়াল ফ্লাইট ও ফ্লাইড এরোপ্লেন ও গ্লাইড এনস্ট্যাক্টির এর লাইসেন্স প্রাপক ছিলেন। তাই উড়ে চলার ভাবনা নিরন্তর। ১৯৯৩ সালে তিনি NASA র Computational Fluid Dynamics (CFD) এর ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসাবে নির্বাচিত হন। ১৯৯৯ সালে United State Of America, তিনি নাগরিকত্ব লাভ করেন এবং নাসার অ্যাস্ট্রোনট ক্রপ মেম্বারশিপ পান।

এরপর সেই অভিশপ্তের দিন ২০০৩, আত্মীয় স্বজন দের স্বীকৃতি পেলেও যাত্রা নিয়তির দিকে চলে। স্প্রেস স্যাটাল ফিরছে পৃথিবীতে, বায়ুমণ্ডলে আসতেই বিপত্তি আর নিশ্চিহ্ন…

 

  • রিক হাসব্যান্ড, কমান্ডার
  • ইকেমাল এন্ডারসন, পেলোড কমান্ডার
  • ডেভিড ব্রাউন, মিশন স্পেশালিষ্ট
  • কল্পনা চাওলা, মিশন স্পেশালিষ্ট
  • লরেল ক্লার্ক, মিশন স্পেশালিষ্ট
  • উইলিয়াম ম্যাককুল, পাইলট
  • আইলান র‌্যামন, পেলোড স্পেশালিষ্ট।

কলম্বিয়া STS-107 বিপর্যয়ের মিশন। যদিও তিনি ৮৬ টির ও বেশী প্রবাহী পদার্থবিজ্ঞান, জীবন সংক্রান্ত বিজ্ঞান এর উপর পরীক্ষা চালান, এটি ছিল মৌলিক। গবেষণা বলে হিট শিল্ড ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার, ইনসুল্যেটের ফোম আঘাত করে। আর তা নভোযান উৎক্ষিপ্ত হওয়ার ৮২ সেকেণ্ডের মধ্যেই ক্যামেরায় ধরা পড়ে। তবু হায় চলে যায় প্রাণ, শেষ হয় এক অনন্য প্রতিভার। সময় তখন ৮:৫৯:৩২ রিক হাসব্যাণ্ডের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন হয়। ডালাসের কাছাকাছি ছিল কলম্বিয়া। শব্দের ১৮ বেগে চলছিল সে, ভূমিতে থেকে প্রায় ৬১,১৭০ মিটার উচ্চে অবস্থান করছে কলম্বিয়া। আর তার ১২ মিনিট পরেই সব নিশ্চিহ্ন। তবে পরীক্ষা বলে কলম্বিয়া পড়ে গেলেও তারা বেঁচে ছিলেন, কিন্তু চাপ কমে যাওয়ার ফলে তাদের কেবিন ভেঙে যাওয়ার তারা মারা যান। মহাজাগতিক জগতে বিলীন হয় প্রতিভা।

 

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...