খবর ২৪ ঘন্টা

সঙ্কট মোচনে কেন জপ করবেন “হনুমান চালিশা”! জেনে নিন……

শেয়ার করুন সকলের সাথে...

আজ মঙ্গলবার, তাই আমরা প্রায় সবাই হনুমানজীর পূজা করব, তাই তো? হিন্দুমতে রামভক্ত হনুমানজী বিশেষ ভাবে উল্লেখ্য।হনুমান জী পবনপুত্র, রামচন্দ্রের অনুরাগী অনুগত চরিত্র।

” হং হনুমতে রুদ্রাত্মকায় হুং ফট্ হনুমতে নমঃ “

হনুমান নামটি এসেছে “হনু “মানে (“চোয়াল”) এবং মান (“বিশিষ্ট” বা “কদাকার”) শব্দদ্বয় থেকে। যার অর্থ কদাকার চোয়াল বিশিষ্ট।।তথ্য বলে যে, অঞ্জন্যা,হনুমান্তা,অঞ্জন্যা, অঞ্জনিপুত্র বা অঞ্জনেয়ুডু বা হনুমান্ঠুডু (তেলেগু), যার অর্থ “অঞ্জনার পুত্র”.অঞ্জনেয়ার, গ্রামীন তামিলীয়রা ব্যবহার করে।কেশরী নন্দন (“কেশরী”পুত্র)মরুতি (“মরুত পুত্র”) পবনপুত্র (“পবনপুত্র”)

মহাভারতে হনুমান ……

হনুমান এবং ভীম দু’জনেই পবনপুত্র। সেদিক থেকে দেখলে, তাঁরা ভ্রাতা। পাণ্ডবদের অজ্ঞাতবাসের সময়ে হনুমান এক অসুস্থ এবং বৃদ্ধ বানরের বেশে ভীমকে দেখা দেন। ভীম ছিলেন অসম্ভব আত্মগর্বী। তাঁকে শিক্ষা দেওয়াই ছিল বজরং বলীর উদ্দেশ্য। ভীমের পথ রুদ্ধ করে অসুস্থ বৃদ্ধের ছদ্মবেশে হনুমান শুয়ে ছিলেন। ভীম তাঁকে অতিক্রম করতে চাইলে তিনি ভীমকে বলেন তাঁর লেজটি সরিয়ে চলে যেতে। ভীম বহু চেষ্টাতেও সেই লেজ সরাতে পারেননি। শেষে তিনি অনুভব করেন, এই ব্যক্তি কোনও সাধারণ বানর নন। তিনি হনুমানের শরণ নেন।

• হনুমানের সঙ্গে অর্জুনেরও দ্বৈরথ ঘটেছিল। সেতুবন্ধ রামেশ্বরমে অবস্থান কালে অর্জুন এক ক্ষুদ্র বানরের সামনাসামনি হন। অর্জুন সেই বানরের সামনে গর্ব ভরে বলেন, বানরদের সাহায্য না নিয়ে রামচন্দ্র একাই সেই সমুদ্র-সেতু নির্মাণ করতে পারতেন। তির যোজনা করেই তো সেটা করা সম্ভব ছিল। ক্ষুদ্র বানর অর্জুনকে চ্যলেঞ্জ জানায় ওই কাজ করে দেখাতে। অর্জুন ব্যর্থ হলে ক্ষুদ্র বানরের ছদ্মবেশ ত্যাগ করে হনুমান প্রকট হন। অর্জুন তাঁর শরণ নিলে, তিনি অর্জুনের রথশীর্ষে অধিষ্ঠান করবেন বলে বর দেন। অর্জুনের রথের উপরে তাই ‘কপিধ্বজ’ শোভা পায়।

• কুরুক্ষেত্র যুদ্ধ শেষ হলে অর্জুন রথ থেকে নেমে আসেন। কৃষ্ণ, হনুমানকে ধন্যবাদ জানান রথশীর্ষে অবস্থান করার জন্য।
মাত্র চারজন ব্যক্তি শ্রীকৃষ্ণের মুখ থেকে ভগবদ্গীতা শুনেছিলেন এবং বিশ্বরূপ দর্শন করেছিলেন। এঁরা হলেন— অর্জুন, সঞ্জয়, বর্বরিক এবং ঘটোৎকচ। কিন্তু একথা মনে রাখতে ফ, ধ্বজ হিসেবে রথশীর্ষে অবস্থানের কারণে হনুমানও ছিলেন।
হনুমান নাকি চির শাশ্বত | তাঁর বিনাশ নেই | কিংবদন্তি বলে‚ তিনি আশীর্বাদ পেয়েছিলেন‚ যতদিন পৃথিবীতে রামের মহিমা থাকবে‚ ততদিন হনুমানও থাকবেন | আর রামচন্দ্রের মহিমা তো আবহমান কাল জুড়েই থাকবে | অর্থাৎ পবনপুত্রও থাকবেন পৃথিবীতে |


এইসব তো পুরাণের কথা, কিন্তু জানেন কি, আমরা কেমন ভাবে বিপদ থেকে নিষ্কৃতি পেতে পারি?তবে আসুন হনুমান চাল্লিশা দেখা যাক, —

শ্রী গুরু চরণ সরোজ রজ নিজমন মুকুর সুধারি |

বরণৌ রঘুবর বিমলয়শ জো দায়ক ফলচারি ||

বুদ্ধিহীন তনুজানিকৈ সুমিরৌ পবন কুমার |

বল বুদ্ধি বিদ্য়া দেহু মোহি হরহু কলেশ বিকার ||

এইবার প্রশ্ন আমরা কেন আমরা হনুমান চাল্লিশা করব? সকাল দুপুরে স্নান করে এর পাঠ করা হয়। সাধারণ ভাবে বলা হয়,

“ভূত প্রেত দৈন্য দানব যার নাম গানে
কাছেতে আসে না কেহ জেনো সব মনে”
অর্থাৎ অলৌকিকতা, রোগ থেকে মুক্তি পেতে হনুমানজী করা হয়।

তবে প্রশ্ন এই পাঠ চাল্লিশা কেন ?…… 

হনুমান চালিসা,গোস্বামী তুলসীদাসের এক বিশাল কাব্যিক সৃষ্টি।হিন্দু ধর্মে হনুমান চালিসা এক গুরুত্বপূর্ণ স্থান লাভ করেছে।বলা হয় যে হনুমান চালিসা পাঠ করলে বানর ভগবান হনুমানকে সন্তুষ্ট করা যায় ও তাঁর আশীর্বাদ পাওয়া যায়।

আসলে মানুষ যারা জ্যোতিষে বিশ্বাস করেন,তাঁদের যদি শনি বিরূপ হন, তবে এই পাঠ করিলে সঙ্কটমোচন হয়। শনির প্রকোপ শেষ হয়।
বলা হয় রাতের বেলা হনুমান চালিসা পাঠের অভূতপূর্ব ফল পাওয়া যায়।যদিও অনেকেই বিশেষ করে পুরুষমানুষেরা মঙ্গলবার ও শনিবার খুব ভোরে উঠে স্নান করে এটা পাঠ করে থাকেন।
তাই আজ আসুন হনুমানজীর প্রার্থনায়-

মঙ্গলবারের মঙ্গলপূজায় আজ স্মরণে কলমে মহাবীর, হনুনানজী পাঠে……

জয়-জয়-জয় হনুমান মহাবলশালী।
কাঞ্চন থালে সাজায়ে আরতী।
শুভ্র কর্পূর জ্বালি।
করে আরতী মাতা অঞ্জলী হনুমান লাল কী।
আরতী কর….
হনুমান আরতী যে জন নিত্য গাহে।

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...