খবর ২৪ ঘন্টা

জানেন কি, আপনার নিজের রাশি অনুসারে কোন দেবতার পুজো করলে মনের সব ইচ্ছা পূরণ হবে ?…

শেয়ার করুন সকলের সাথে...

 ” শুদ্ধাচার:সুপ্রতিষ্ঠ: শুচির্দক্ষ: সুবুদ্ধিমান।।

আর এই শুদ্ধাচারেই মানুষ নিজের মঙ্গল কামনা করে। কেউ কেউ গ্রহ দোষকে মানেন আবার কেউ অস্বীকার করেন।তবে জপের শক্তি অপার আর ধ্যানে আত্মনিমগ্ন হয়ে মানুষ সাধনা করেন। সেখানে কোন দোষ আঘাত করলেও শেষ করতে পারে না। এটা অনেকটা গুরুদীক্ষার মতো। গুরুদীক্ষার আশীর্বাদ হেতু কার্য সম্পন্ন হলে আগত চাপ, আঘাত আসবেই,কিন্তু হয়ত শেষ করে দিত- সেখানে রক্ষা করে যায় অর্থাৎ সামান্যের উপর দিয়ে চলে যায়।

“রেখাদ্বয়ং পূর্ব্বপরেণ কুর্য্যাত্তন্মধ্যতো যাম্যকুবেরভেদাৎ। একৈকমীশাননিশাচরে তু হুতাশবায্বো বির্লিখেত্ততোহর্ণান। বেদাগ্নি বহ্নিযুগল শ্রবণাক্ষি সংখ্যান পঞ্চেষুবাণশরপঞ্চ চতুষ্টয়ার্ণান।মেষাদিত: প্রবিলিখেৎ শকলাংস্তু বর্ণান কন্যাগতান প্রবিলিখেদথ শাদিবর্ণান।।”

এবার বলতে চাই রাশিগত প্রতিকারে ঈশ্বরের পূজা আর প্রতিকার। আসুন তবে শুরু করা যাক “মেষ রাশি ” দিয়েই। মেষ রাশির অধিপতি মঙ্গল।
সেক্ষেত্রে এই রাশির জাতক বা জাতিকাকে হনুমানজীর পূজা করা উচিৎ।

সেখানে লাল ফুল অবশ্যই ব্যবহার করা হয়। তবে মহাদেবের পূজা করলেও এই রাশির অনেক সমস্যা সমাধান হয়। তবে মতানৈক্য, সাংসারিক ক্লেশ, আর্থিক দৈন্যতা, দ্বন্দ্বের অবসানে মহাবীর পূজা একান্ত আবশ্যক।

এবার বলব বৃষরাশির কথা। এই রাশির অধিপতি শুক্র। এই রাশির জাতক জাতিকারা জেদী হয় খুব। তাই অনেক জ্যোতিষী মা লক্ষ্মী পূজা করতে বলেন। আবার সেক্ষেত্রে মহাদেবের জপের কথাও বলা হয়।

কারণ এই রাশিতে মহাদেব স্তুতি হিসাবে জীবনের মোড় ঘোরান।মা লক্ষ্মী এখানে অর্থ, সম্বৃদ্ধি, প্রিয় মানুষ, আর পজিটিভ এনার্জি দান করে।

এবার বলব মিথুন রাশির কথা। এই রাশির অধিপতি গ্রহ হলো বুধ। জাতকের মধ্যে দেখা যায় দৃঢ়তা, কর্মশক্তি, আর উৎপাদনশীল শক্তি। তবে জাতিকার মধ্যে নম্রতা, ভালোবাসা ও স্নেহ মমত্বের দুর্বলতা প্রবল। এই রাশির ক্ষেত্রে ভগবান বিষ্ণুর পূজা করা বিধেয়।

তবে এই রাশির জন্য বালাজি মহারাজের ছবি এনে ভক্তি সহকারে পূজো করাটা আবশ্যক। বুধাদিত্য যোগ হলে সাহিত্য সৃজন ভালো হয়। বালাজি পূজা ধনে ভাণ্ডারের সম্বৃদ্ধি ঘটায়। বালাজি পূজো না করতে পারলে সেক্ষেত্রে জগন্নাথ দেবের পূজো করলেও উপকার হয়। তবে শান্ত অবয়বী সাহিত্যের যোগ জাতক বা জাতিকাকে ঐশ্বর্যময় করে তোলে।

কর্কটরাশির অধিপতি চন্দ্র। এই চন্দ্রের প্রভাব জাতক বা জাতিকাকে খেয়ালী, কল্পনাপ্রবণ, ভাবপ্রবণ হয়। এই জাতক জাতিকারা হাসি মুখের হলেও, প্রচন্ড ইমোশনাল হয়।

আর এরা যদি মা দুর্গার পূজা আর্চি করেন তবে সমস্ত প্রতিবন্ধকতা দূরীভূত হয়। আর মায়ের আশীর্বাদ পুষ্ট হয়ে জাতক বা জাতিকারা সুখে শান্তিতে জীবিন অতিবাহিত করতে সক্ষম হন।

এবার বলব সিংহরাশির কথা।এখানে অধিপতি রবি। আর রবি তুঙ্গস্থ হলে সরকারী চাকুরী প্রাপ্ত হয়,পূর্ণযোগে নামকরা ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হন। এদের মধ্যে সৃষ্টি ক্ষমতা থাকে তবে চাপা। অলস আর খামখেয়ালিপনাকে এরা আমল দেন না।

আর সিংহের মতো স্বভাব বিশিষ্ট জাতক জাতিকাকে রোজ শিব পূজা করার কথা বলা হয়। এমনকি এইরাশির জাতক জাতিকাকে মহাদেবের “ওম নম:শিবায় ” মন্ত্রটি নিয়ত জপের কথা বলা হয়, আর তাতে সাফল্য আসবেই।

এবার বলব কন্যারাশির কথা। এই রাশির অধিপতি বুধ। এই রাশির জাতক জাতিকাকে বালাজি বা বিষ্ণু র পূজা করা উচিৎ। আর বিষ্ণু র পূজা করলে অশুভ ফল কেটে যেতে সময় লাগে না।

 

এবার বলব তুলা রাশির কথা। এই রাশির অধিপতি হলেন শুক্র। এরা ন্যায় নিষ্ঠা, স্পষ্টবাদী, আর সহলশীল হয়। তবে আবেগে হৃদয়ের কথা শোনে বেশী আর মস্তিষ্কের কথা কম শোনে।

 

আর্থিক উন্নতি, গৃহ শান্তির জন্য মা লক্ষ্মীর পূজা করা প্রয়োজনীয়। এই পূজা তাদের মধ্যে পজিটিভ আলোর মাত্রা বাড়াবে, আর শুভ ফল ত্বরান্বিত হবে, এখানেই সার্থকতা।

বৃশ্চিক রাশি মানেই মঙ্গল গ্রহ প্রতিকার। কারণ এই রাশির জাতক জাতিকারা স্বাধীনতা প্রিয় হয়।

আর মঙ্গল গ্রহ প্রতিকার মানেই মহাদেব, আর হনুমানজী তো আছেই। তবে শিব পূজা এই রাশির শুভ ফলের পরিচায়ক হয়ে ওঠে।

ধনুরাশির ক্ষেত্রে বৃহস্পতির প্রতিকারে শ্রী দক্ষিণামূর্তির পূজা করলে ফল লাভ সম্ভব। আর দক্ষিণা মূর্তি মানেই মহাদেবের পূজা করা।

শুভ রত্ন হলো পোখরাজ, তবে প্রতিবিধান পেতে দক্ষিণামূর্তি পূজা একান্ত বাঞ্ছনীয়।

মকররাশির অধিপতি শনি। আর তাকে তুষ্ট করা খুবই কষ্টকর।কারণ শনির দশাতে ভোগান্তি থাকলে তা রোধ করা সম্ভব নয়। তবে একমাত্র শিব আর হনুমানজীর পূজা করলে তা সম্ভব।কঠিন সমস্যা প্রতিবিধানে নীলা ব্যবহার করা হয়। তবে হনুমান জী পাঠ করলে এর প্রভাব থেকে কিছুটা মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

কুম্ভ রাশির অধিপতি শনি।এই রাশির ক্ষেত্রে যেমন প্রতিকারে শিবের অপেক্ষা হনুমান জীর পূজা করা বিধেয়। তবে অনেক ক্ষেত্রে শ্রীকৃষ্ণ পূজা অর্চনা করার কথা বলা হয়েছে। তবে শিবের পূজা অপেক্ষা শ্রীকৃষ্ণ পূজা এবং উপাসনা করলে সম্বৃদ্ধি সম্ভব।

মীন রাশির অধিপতি বৃহস্পতি। আর বৃহস্পতি মীন রাশির অধিপতি। আর তাই দক্ষিণা মূর্তির পূজা করতেই হবে। কারণ সুনাম, খ্যাতি , রোগ থেকে আরোগ্য পেতে মায়ের আশীর্বাদ প্রয়োজনীয়। আর দক্ষিণামূর্তি পূজা মানেই শিবের পূজা। কারণ দক্ষিণা মূর্তি জ্ঞান, বুদ্ধি প্রদান করেন।

তবে অধিপতি দেখে নয়, রাশি চক্রের অবস্থান দেখে অনেক সময় প্রয়োজনে বগলা, ভ্রামরী, কুবের , প্রভৃতি দেবতার পূজা করা হয়। কারণ গ্রহ নক্ষত্র দোষ কাটাতে যথার্থ পূজা, উপাসনার প্রতিকার সম্ভব, তবে প্রারব্ধ অবিশ্বাস করার নয়। তাই নিয়তির আঘাত তো থাকবেই, কেউ খণ্ডন করতে পারে না – এখানেই হয়ত বলা হয় ” “বিজ্ঞানের যেখানে শেষ, দর্শনের সেখানেই শুরু। “

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...