রাজনৈতিক টানাপোড়েনের শেষ প্রধানমন্ত্রী বিক্রমসিংঘে

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 2
    Shares

গত অক্টোবরে মাহিন্দা রাজাপাক্ষে বিক্রমসিংঘেকে সরিয়ে দিয়ে শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী পদে বসেছিলেন। রাজাপাক্ষের পক্ষ নিয়ে প্রেসিডেন্ট সিরিসেনাও বলেছিলেন তিনি কোনও দিনও বিক্রমসিংঘেকে প্রধানমন্ত্রী পদে শপথ গ্রহণ করাবেন না। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কার সুপ্রিম কোর্ট সিরিসেনার পার্লামেন্ট ভাঙার নির্দেশকে সম্পূর্ণ অবৈধ ঘোষণা করে। এরপর শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, আগামী মাসে এই মামলার চূড়ান্ত শুনানির আগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ শুরু করতে পারবেন না রাজাপাক্ষে এবং তাঁর মন্ত্রিসভা। প্রায় দু’‌মাস রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পর শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করলেন মাহিন্দা রাজাপাক্ষে। ফলে এবার প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন ছিটকে যাওয়া প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমসিংঘেই। ৫১ দিনের রাজনৈতিক ডামাডোল কাটিয়ে ফের শ্রীলঙ্কার প্রধানমন্ত্রী হলেন রনিল বিক্রমসিংঘে। রবিবার দুপুরে ৬৯ বছরের বিক্রমসিংঘেকে শপথবাক্য পাঠ করান প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপলা সিরিসেনা। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে বিক্রমসিংঘের দলের বিধায়করা ছাড়া কোনও সাংবাদিকের ঢোকার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন সিরিসেনা। পরে টুইট করে দেশবাসীকে তাদের পাশে থেকে বেআইনিভাবে ক্ষমতা দখলের বিরোধিতা করার জন্য এবং পুনরায় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে সাহায্য করার জন্য ধন্যবাদ জানায় বিক্রমসিংঘের দল ইউনাইটেড ন্যাশনাল পার্টি বা ইউএনপি।

রাজাপাক্ষে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে পদত্যাগ করায় স্বভাবতই কিছুটা চিন্তায় ভারত। কারণ, ভারত সমর্থক রাজাপাক্ষে বরাবরই দিল্লির প্রিয়। অন্যদিকে বিক্রমসিংঘে বেজিং–এর ঘনিষ্ঠ। ফলে ভারত মহাসাগর এবং বঙ্গোপসাগরে চীনা আগ্রাসনের আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে বলে মনে করছে দিল্লি। শুক্রবার রাজাপাক্ষের ছেলে নমল বলেন, দেশে স্থিরতা ফেরানোর লক্ষ্যেই পদত্যাগ করেছেন তাঁর বাবা। ইউনাইটেড পিপল্‌স ফ্রিডম অ্যালায়েন্স বা ইউপিএফএ–র সাংসদ শেহান সেমাসিংঘে বলেছেন, কলোম্বোয় নিজের বাড়িতেই পদত্যাগপত্রে সই করেছেন রাজাপাক্ষে। তারপর দলীয় সাংসদদের নিজের পদত্যাগের কথা জানিয়েও দিয়েছেন রাজাপাক্ষে।
গত ২৬ অক্টোবর আচমকা বিক্রমসিংঘেকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দ্বীপরাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী পদে রাজাপাক্ষেকে বহাল করেছিলেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মৈত্রীপলা সিরিসেনা। এরপর সময়ের প্রায় ২০ মাস আগে পার্লামেন্ট ভেঙে দিয়ে স্ন্যাপ ইলেকশনের নির্দেশ দেন সিরিসেনা। এরপরই রাজনৈতিক ডামাডোলে পড়ে শ্রীলঙ্কা। গত বৃহস্পতিবার শ্রীলঙ্কার সুপ্রিম কোর্ট সিরিসেনার পার্লামেন্ট ভাঙার নির্দেশকে সম্পূর্ণ অবৈধ ঘোষণা করে। এরপর শুক্রবার সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয়, আগামী মাসে এই মামলার চূড়ান্ত শুনানির আগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ শুরু করতে পারবেন না রাজাপাক্ষে এবং তাঁর মন্ত্রিসভা। তারপরই পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এমাসের তিন তারিখ, শ্রীলঙ্কার একটি আদালত অন্তর্বর্তী নির্দেশে রাজাপাক্ষে এবং তাঁর মন্ত্রিসভাকে কোনওরকম কাজকর্ম করতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ওই নির্দেশের বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতে পাল্টা আবেদন করেছিলেন রাজাপাক্ষে। আগামী ১৬–১৮ জানুয়ারি ওই মামলার শুনানি রয়েছে। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে সব রাজনৈতিক দলকে লিখিত আবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে শ্রীলঙ্কার সুপ্রিম কোর্ট।

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 2
    Shares

খবর ২৪ ঘন্টা

খবর এক নজরে…

No comments found