খবর ২৪ ঘন্টা

কন্যাদান ছাড়াই বিয়ে দেন রাজ্যের প্রথম মহিলা পুরোহিত…

শেয়ার করুন সকলের সাথে...

ওয়েব ডেস্ক ঃ  মন্ত্রোচ্চারণে অর্ধেক আকাশের মুক্তি খুঁজেছেন তিনি। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের প্রতি এ যেন তাঁর অনুচ্চারিত জবাব। তিনি বিশ্বাস করেন নারী স্বাধীনতায়, বিশ্বাস করেন বিয়েতে কন্যাদান করা যায় না। মেয়েরা কোনও বস্তু নয়। তাই রাজ্যের প্রথম ও একমাত্র মহিলা পুরোহিত বিয়ে দেন কন্যাদান ছাড়াই। নন্দিনী ভৌমিক, পেশায় অধ্যাপিকা । আর নেশা তাঁর পুরোহিত হওয়া। সেই নেশার জোরেই আজ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্কৃতের এই অধ্যাপিকা বিয়েতে কন্যাদানের বিরুদ্ধে। কেন কন্যাদান হবে, কন্যারা কি তাদের বাড়ির বস্তু, প্রশ্ন এই অধ্যাপিকার। ন্যায্য প্রশ্ন, তার সঙ্গত উত্তরও নিজেই খুঁজে নিয়েছেন তিনি। যতগুলো বিয়ে দিয়েছেন, কোথাও কন্যাদান হতে দেননি।

গত 10 বছরে 40টিরও বেশি বিয়ে দিয়েছেন নন্দিনী। একদিকে অধ্যাপনা, একদিকে, 10টিরও বেশি নাটকের দলের সঙ্গে যুক্ত থাকা ও অন্যদিকে পুরোহিত হয়ে ওঠা, পথটা খুব একটা সহজ ছিল না তাঁর কাছে। কিন্তু অদম্য জেদ ও কাজের প্রতি নিষ্ঠা তাঁকে আজ এই জায়গায় নিয়ে এসেছে। তবে নিজের জীবনের সাফল্যের কথা বলতেই তাঁর মুখে আসে তাঁর গুরুর নাম। গৌরী ধর্মপাল, যার কাছে তাঁর এই কাজে হাতেখড়ি. তাই সময় পেলেই ছুটে যান উড়িষ্যার বালিঘাইতে। নিজের যাবতীয় উপার্জন দান করে আসেন অনাথ আশ্রমে।

গত 24 ফেব্রুয়ারি এক অদ্ভুত সুন্দর বিয়ের আয়োজনের পৌরহিত্য করলেন নন্দিনী। একদিকে যখন তাঁর সংস্কৃত মন্ত্রোচ্চারণে ভরে উঠেছিল গোটা এলাকা, তখন তাঁর একদল সহকর্মী রবীন্দ্রসঙ্গীতে যোগ্য সঙ্গত করে বিবাহবাসরকে মধুময় করে তোলেন। শুধু তাই নয়, বিবাহের মন্ত্রোচ্চারণ একবার বাংলায় ও একবার ইংরাজিতে করছিলেন নন্দিনী, যাতে কারোর বুঝতে কোথাও অসুবিধা না হয়। এভাবেই প্রথা ভাঙছেন তিনি। কারার রুদ্ধ কপাট খুলে আনছেন ঠান্ডা বাতাস, মেয়েদের জন্য, মেয়েদের হয়ে তাঁর এই খেলা ভাঙার খেলা চলুক। সাফল্য আসুক সময়ের হাত ধরে, অনায়াসে..

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...