বিজেপিকে বিপাকে ফেলে মহাজোটের সঙ্গে বন্ধুত্ব বাড়াচ্ছে এডিএমকে

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 9
    Shares

বিরোধী শিবিরে আগেই নাম লিখিয়েছে তামিলনাড়ুর বিরোধী দল ডিএমকে। এবার তিন তালাক ইস্যুতে এনডিএ–‌র বিরোধিতা করতে দেখা গেল এডিএমকে সাংসদদের। এর আগে বিরোধীদের রণকৌশলে কখনওই শামিল হতে দেখা যায়নি তাঁদের। কিন্তু বৃহস্পতিবার কংগ্রেস–‌সহ অন্যান্য বিরোধী দলের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তিন তালাক বিলের বিরোধিতা করেছেন দলের নেতা পি বেণুগোপাল। এমনকী, দলের সাংসদেরা কংগ্রেসের সঙ্গে ওয়াকআউটও করেছেন। তবে মনে করা হচ্ছে, দলের এই অবস্থানের পেছনে রয়েছে রাজ্যের মুসলিম ভোট ব্যাঙ্ক। তামিলনাড়ুর মুসলিম ভোটে ভাগ বসাতেই তারা এই কৌশল নিয়েছে। ওদিকে, লোকসভায় এদিনই বিরোধীদের তুমুল আপত্তি সত্ত্বেও জম্মু ও কাশ্মীরে রাষ্ট্রপতি শাসনের বিধিবদ্ধ প্রস্তাব পাশ করেছে সরকার। পরে, স্পিকার সুমিত্রা মহাজন তাঁর বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগ করে বিভিন্ন দলকে বক্তব্য পেশের সুযোগ করে দেন। এক্ষেত্রেও বিরোধীরা পাশে পেয়েছে এআইএডিএমকে–‌কে। তারা জম্মু ও কাশ্মীরের রাজ্যপালের ভূমিকার নিন্দা করেছে। প্রবীণ তৃণমূল নেতা সৌগত রায় বলেছেন, ‘‌বিধানসভায় ভোটাভুটি ছাড়াই রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করার ঘটনা স্বৈরতান্ত্রিক ও অসাংবিধানিক। ন্যাশনাল কনফারেন্স, কংগ্রেস এবং পিডিপি–‌র কাছে সরকার গড়ার মতো যথেষ্ট সংখ্যা থাকলেও তাদের সরকার গড়তে দেওয়া হয়নি। সরকারের উচিত অবিলম্বে জম্মু ও কাশ্মীরে নির্বাচন করা।’‌ জবাবি ভাষণে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, ‘‌জম্মু ও কাশ্মীরে ভোট করাতে রাজি আছে সরকার।’‌‌ বিরোধীরা আগেই ঠিক করেছেন, তিন তালাক বিলটি পেশের সময়েই তাঁরা বিলটিকে সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানোর আর্জি জানিয়ে প্রস্তাব আনবেন। রাজ্যসভার নিয়ম অনুযায়ী, এই ধরনের প্রস্তাব সবার আগে আলোচনার জন্য গৃহীত হয়। রাজ্যসভায় এনডিএ–‌র সদস্য ১০৪। তৃণমূলের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’‌ব্রায়েনের কথায়, ‘‌বিলগুলি ভাল না মন্দ সে–বিতর্কে না গিয়ে সংসদের গরিমা রক্ষা করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ, নরেন্দ্র মোদি সরকার সংসদের স্ক্রুটিনি ও পরামর্শ ছাড়াই বিলগুলি পাশ করাতে চাইছে। সংসদীয় গণতন্ত্রে এমনটা কাম্য নয়।’‌ একদিকে যখন সংসদে এনডিএ সরকারকে কোণঠাসা করার চেষ্টায় মরিয়া প্রায় ১৭–১৮টি বিরোধী দল, তখন শাসক দলের ‘‌বন্ধু’ দলটির রাতারাতি অবস্থান বদলানোর ঘটনা যথেষ্ট কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। তবে, এই ঘনিষ্ঠতা আদৌ স্থায়ী হবে কি না তা নিয়ে সংশয়ের অবকাশ রয়েছে। তিন তালাক বিলটিতে এডিএমকে–কে পাশে পাওয়ায় বিরোধীদের পক্ষে বিলটিকে যৌথ সংসদীয় সিলেক্ট কমিটিতে পাঠানো সহজ হবে। রাজ্যসভায় বিরোধী শিবিরের সদস্যসংখ্যা ১১৭‌। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এডিএমকে–‌র ১৩ জন সাংসদ। সব মিলিয়ে ১৩০। লোকসভা নির্বাচনের আগে সংসদের শেষ পূর্ণ অধিবেশনে হঠাৎই বিরোধী শিবিরের কাছাকাছি এডিএমকে!‌ এই সমীকরণে উদ্বেগ বাড়ছে বিজেপির।

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 9
    Shares

খবর এক নজরে…

No comments found

Sponsored~