মেক্সিকো-আমেরিকা সীমান্ত দেওয়াল তৈরি হলে বন্ধ হবে মাদক পাচার: ট্রাম্প

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 19
    Shares

অভিযোগ দীর্ঘদিনের৷ মেক্সিকো থেকে মাদক চোরাচালানে জর্জরিত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র৷ মেক্সিকো সিটিতে বিদেশ মন্ত্রী লুইস ভিদাগারে, কানাডার বিদেশমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ডের সঙ্গে বৈঠকের পর এমনই অভিযোগ করেছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিদেশমন্ত্রী রেক্স টিলারসন৷ তাঁর বক্তব্য ছিল, কোকেন, হিরোইনসহ সব ধরণের মাদকের ভয়ংকর প্রভাব রোধ করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ আমেরিকা৷ এই কাজে মেক্সিকোর সহযোগিতা দরকার৷

এই মাদক আমেরিকা, মেক্সিকো ও কানাডার নাগরিকদের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেও অভিযোগ করেছিলেন তিনি৷ গত অক্টোবর মাসে ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, মাদকের প্রভাব পড়ছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় জনস্বাস্থ্যের ওপর৷ এক্ষেত্রে পরস্পরকে দোষারোপ না করে সহযোগিতার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।

Image result for mexico us border

পরে টিলারসন মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট এনরিক পেনা নিয়েতোর সঙ্গে দেখা করে ট্রাম্পের বার্তা পৌঁছে দেন৷ এই বৈঠকের পরে তিনি জানান,  তারা দু’দেশের মধ্যে থাকা সম্পর্ক জোরদারের ব্যাপারে সম্মত হয়েছেন।

মেক্সিকান অভিবাসন, নর্থ আমেরিকান ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট এবং সীমান্ত দেয়াল নির্মাণ করা বিষয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট  ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান ছিল৷  এই সব কারণে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের অবনতিও ঘটে৷

নির্বাচনী প্রচারের সময় সেই তিক্ততা আরও বাড়ে৷ মেক্সিকো থেকে আসা মানুষকে ধর্ষক, অপরাধী ইত্যাদি বলে নিন্দার মুখে পড়েন ট্রাম্প। দুদেশের সম্পর্কের অবনতির কথা মেনে নিলেও, বিদেশমন্ত্রী রেক্স টিলারসন কিন্তু এই ধরণের অভিযোগ তুলতে নারাজ৷

Image result for mexico us border

তাঁর বক্তব্য মাদক চোরাচালানোর মূল হোতা মেক্সিকো৷ অভিযোগ রয়েছে, মেক্সিকো সীমান্তে মাদক চোরাকারবারীরা ঘাঁটি গেড়ে বিশ্ব জুড়ে মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করে। এ ছাড়া এ সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অনুপ্রবেশ করে মেক্সিকোর বাসিন্দারা৷

এরআগে, দেওয়াল নির্মাণে মেক্সিকো কোনও অর্থ সাহায্য করবে না বলে জানিয়ে দেয়৷ মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট জানিয়ে দেন প্রতিবেশী যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করতে তাঁরা রাজি, তবে দেশের জন্য অপমানকর কোনও বিষয় তাঁরা মেনে নেবেন না৷ মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট বলেন, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় স্বার্থ এবং আমাদের জনগণের সুরক্ষার মতো মূলনীতিতে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই সরকারের কাছে। সরকার সে সুযোগ চায়ও না৷

Image result for usa president vs mexico president
যদিও, মেক্সিকো ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ইতিবাচক সম্পর্ক রাখার ব্যাপারে জোর দেন দুদেশের প্রেসিডেন্টই৷ তিনি সীমান্তে অস্ত্র ও মাদকের চোরাচালান নিয়েও আলোচনায় আগ্রহ দেখান।
মেক্সিকোর প্রেসিডেন্ট ইঙ্গিত দেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে পাশ কাটিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি করতে আগ্রহী। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হবে না তাঁর দেশকে।

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 19
    Shares

Sponsored~

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.