বামন ভূত !! বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে আছে তাদের আস্তানা ~ জানেন কি?

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 48
    Shares

web Desk:  কলকাতায় ভূতের বাড়ি রয়েছে। সেটা নিয়ে সিনেমা হয়েছে। হবে। তবে ভূতের আসল বাড়ি কিন্তু বিশ্ব জুড়ে। যতই বিজ্ঞান মনস্ক মন বলুক না কেন ভূত নেই। রয়েছে। কিছু তো রয়েই গেছে। সেটা বুঝতে হবে না, ভাবতে হবে না একটু জেনে নিন বিষয়টি। ভূতের বাড়ির নামে বিশ্বের সব দেশেই রাস্তা রয়েছে, রয়েছে ভূতের সাথে উপত্যকা-সাগর-পাহাড়ের নাম। আসলে ইংরেজিতে বামন ভূতদের বলে গবলিন। গবলিনরা খাটো, কুঁজো, কুৎসিত দেখতে। গবলিনের নামেই পৃথিবীর অনেক দ্রষ্টব্য স্থান রয়েছে। চলুন একটু ঘুরেই আসি।

গবলিন কম্ব……

শেক্সপিয়রের জন্য ইংল্যান্ডের অ্যাভন স্থানটির নাম বিশ্বখ্যাত। এই অ্যাভনের উত্তরদিকে সমারসেট শহরে এই গবলিন কম্ব বা গবলিন উপত্যকার রয়েছে। ব্রিস্টল এয়ারপোর্টের খুব কাছেই। উপত্যকাটির উপরে একটি গিরি দূর্গের রয়েছএ। ১৯৯৯ সালে অ্যাভন ওয়াইল্ডলাইফ ট্রাস্ট গাছপালায় ছাওয়া ভীষণ সবুজ এই উপত্যকাটির কিছু অংশকে সংরক্ষিত প্রাকৃতিক অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে।

গবলিন ভ্যালি…..

আমেরিকার উতাহ প্রদেশের এক অদ্ভুত অঞ্চল সান রাফায়েল সোয়েল। এই সোয়েলেরই অংশ গবলিন ভ্যালি। লম্বা লম্বা অদ্ভুতুভূতুড়ে আকৃতির পাথরের কারণেই এই নামকরণ। পাথরগুলোর আকৃতির কারণে এই উপত্যকার আরেকটি নামও রাখা হয়েছে-মাশরুম উপত্যকা। আমেরিকার আদিম অধিবাসীদের বলা হয় রেড ইন্ডিয়ান। এই রেড ইন্ডিয়ানদের কয়েকটি গোষ্ঠির সংস্কৃতিতে এই উপত্যকার উল্লেখ পাওয়া যায়। তাদের পরে এই উপত্যকাটির খোঁজ প্রথম দেয় স্থানীয় রাখালরা। তারা পশু চড়াতে চড়াতে একদিন এই ভুতুড়ে উপত্যকা খুঁজে বের করে।

১৯২০-এর দশকের শেষ দিকের, আর্থার চাফিন বলে এক ভদ্রলোক তার সঙ্গী সাথীদের নিয়ে পরিকল্পনা আঁটছিলেন, কীভাবে গ্রিনরিভার আর কেইনভিলের মধ্যে রাস্তা বানানো যায়। আর সেই রাস্তাই এক জায়গায় গবলিন ভ্যালির মাত্র মাইলখানেক দূর দিয়ে চলে যায়। পাথরগুলো দেখে তো চাফিন ও তার দলবদল রীতিমতো হতভম্ব হয়ে যান। রাস্তার কাজ শেষ হলে ১৯৪৯ সালে চাফিন চলে যান গবলিন ভ্যালিতে। ঘুরে ঘুরে সেখানকার ভূতুড়ে পাথরের ছবি তোলেন। পরে সেগুলো পত্রিকাতে ছাপাও হয়। আর তারপরই গবলিন ভ্যালি মানুষের আগ্রহের বিষয় হয়ে ওঠে। উপত্যকায় দিন দিন মানুষের আনাগোনা বাড়ছে। ১৯৫৪ সালে একরকম বাধ্য হয়েই উতাহ-এর প্রাদেশিক সরকার অঞ্চলটিকে সংরক্ষিত বলে ঘোষণা করে। এখন এই উপত্যকাকে ঘিরে বানানো হয়েছে গবলিন ভ্যালি স্টেট পার্ক।

শহরের নাম যখন গবলিন…

কানাডায় গবলিন নামে একটি গোটা শহরই ছিল। শহরটি অবশ্য নিতান্তই ছোট। মূলত কড মাছ শিকারের মৌসুমকে কেন্দ্র করে সেখানে মানুষ অস্থায়ীভাবে বসত গড়তেন। ১৮ শতকের শেষ দিকে কিছু মানুষ স্থায়ীভাবে সেখানে থাকতে শুরু করেন। শহরটির জনসংখ্যা সবচেয়ে বেশি ছিল ১৯১১ সালে, ৪০ জন। পরে ১৯৫১-৫৬ সালের মধ্যে শহরটি পরিত্যক্ত হয়। তবে ছোট্ট এই শহরটির নাম কেন গবলিন হলো তা এক রহস্য। অনেকের ধারণা, সেখানকার রহস্যময় এবড়ো-থেবড়ো ভূমি রূপের কারণে এই নামকরণ। আবার অনেকের ধারণা, সেখানে নাকি বামন ভূতের চেহারার পাথর রয়েছে।

গবলিন ফরেস্ট….

নিউজিল্যান্ডের স্ট্রাটফোর্ড প্রদেশের শহর টারানাকি। পেমব্রোক রোড ধরে গেলেই শহরের প্রান্তে দেখতে পাবেন টারানাকি পর্বত। সেখানেই অবস্থিত গবলিন ফরেস্ট। এই জঙ্গলের নাম এমনি এমনি ভূতুড়ে হয়নি, জঙ্গলটি দেখতে আসলেই কিম্ভুত। মনে হবে যেন কোনো ফ্যান্টাসি সিনেমার বন। এই অদ্ভুতুড়ে চেহারার জন্য মূলত দায়ি কামাহি গাছ। কামাহি পরজীবী গাছ। অন্য গাছের গায়ে এরা এমনভাবে জড়িয়ে বেড়ে ওঠে যে, সব মিলিয়ে গাছটি এক কিম্ভুত রূপ নেয়। এছাড়াও দুই পরজীবী গাছ মস আর ফার্ন। সব মিলিয়ে জঙ্গলটিকে মনে হয় যেন ঠিক পৃথিবীর অংশ নয়, কোনো ফ্যান্টাসি জগতের জঙ্গল।

গবলিন হল…

স্কটল্যান্ডের পূর্ব লোথিয়ানের একটি গ্রামের নাম গিফোর্ড। এই গ্রামেরই মাইল দেড়েকের মধ্যে রয়েছে ইস্টার প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ। সেই প্রাসাদের গবলিন হল আজও অবশিষ্ট রয়েছে। ব্রিটেনের রাজা উইলিয়াম দ্য লায়ন এই ইস্টারের ব্যারনের দায়িত্ব দেন হুগো দ্য গিফোর্ডকে। এই গিফোর্ডরা ইস্টারে এসেছিলেন রাজা প্রথম ডেভিডের সময়ে। মনে করা হয়, এই গিফোর্ড সাহেবের নাতি ইস্টারের প্রাসাদ নির্মাণ করেন। নাতি গিফোর্ড সাহেবের আবার জাদু বিদ্যায় বিশেষ সুনাম ছিল। তাকে ডাকা হতো উইজার্ড অফ ইস্টার নামেও। তার জাদু বিদ্যা নিয়ে দুটো কিংবদন্তীও প্রচলিত আছে। শয়তানের সঙ্গে নাকি তার একটি চুক্তি ছিল। তার যখনই প্রয়োজন হতো, বামন ভূতরা তার হয়ে যুদ্ধ করতো। এমনকি ইস্টারের প্রাসাদ বানাতেও নাকি তিনি ওই বামন ভূতদেরই কাজে লাগিয়েছিলেন।

এই হুগো সাহেব আবার তার মেয়ে মার্গারেটের বিয়ে দেন কলস্টোন পরিবারে। বিয়ের সময় তিনি নিজ হাতে একটি নাশপাতি গাছ থেকে পেড়ে জামাইকে দেন। আর বলে দেন, এই নাশপাতির কিছু হলে নাকি কলস্টোন পরিবারের কপালে দুর্ভোগ নেমে আসবে।

আসলেও নাকি তাই হয়েছিল। কয়েকশ’ বছর পরে, ১৬৯২ সালের কথা। কলস্টোন পরিবারের সম্পত্তির তখনকার উত্তরসূরি স্যার জর্জ ব্রাউন। তিনি বাক্সবন্দি নাশপাতিটি বের করেন। বসিয়ে দেন এক কামড়। আর তারপর থেকেই তাদের পরিবারের কপালে নেমে আসে দুর্ভোগ। জর্জ ব্রাউন জুয়ার দেনায় ডুবে যান। সব সম্পত্তি বিক্রি করে দেন ভাই রবার্টের কাছে। কিছুদিনের মধ্যেই রবার্ট তার দুই ছেলে সমেত খুন হন। ১৭১৮ সালে যখন জর্জ মারা যান তখন তার কোনো ছেলে উত্তরসুরিও ছিল না। তাই ভূতের রাজত্ব কায়েম হয়।

ভূতদের জড়িয়ে নামকরণ হয়েছে এমন জায়গা আছে আরও। কানাডার ওন্টারিওতে আছে গবলিন লেক আর গবলিন বে, মানে গবলিন উপসাগর। আমেরিকার ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের স্নোহোমিশ কাউন্টিতে আছে গবলিন পাহাড়। সেই পাহাড়ের পশ্চিমের একটি লেকের নামও গবলিন লেক। গবলিন পাহাড় আছে ক্যারিবিয়ান দ্বীপদেশ জ্যামাইকাতেও। আর একদিন বলব ভূতের নামে করা ঘর-বাড়ি ও স্থাপত্যের কথা…

 

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 48
    Shares

খবর এক নজরে…

No comments found

Sponsored~

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.