পৃথিবীর বিস্ময়কর দশটি রীতিনীতিঃ অপর্না দেব

শেয়ার করুন সকলের সাথে...

বেশ কয়দিন ধরে খবরের কাগজে, টিভিতে তামিল নাডুর ‘জালিকাটু’ খবরটার খুব আলোড়ন হচ্ছে, আদালতে এই নিয়ে মামলা …রায় শোনানো, এর উপর আবার রাজনীতি, কতকিছু। আমার ভাবতে খুবই অবাক লাগে আজ, প্রগতির এত বছর পরেও ধার্মিক সংস্কৃতি নিয়ে লড়াই। নিজের দেহকে কষ্ট দিয়ে বা কোন অদ্ভত রীতি নীতিকে অন্ধভাবে মেনে চললে ভগবানকে পাবো বা পাপ মুক্ত হব এমন কত কিছু ধারণা আমাদের সবার মধ্যেই রয়েছে। এইতো  গতবছর তামিলনাডুতে বেড়াতে গিয়ে দেখলাম কিছু লোক শরীরের চামড়াকে ভেদ করে তাতে লোহার রড ডুকিয়ে শোভা যাত্রা নিয়ে বেরোল। কোথাও জলন্ত কয়লার উপর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে, কোথাও চাবুক দিয়ে নিজেদের শরীরে আঘাত করছে অথবা কোথাও আজও চলছে পশুবলী বা তন্ত্র সাধনা। শুধু কি আমাদের দেশেই রয়েছে এমন রীতিনীতি নাকি অন্য কোন দেশেও দেখা যায়!!

শুধু ভারতবরর্ষে নয় পৃথিবীর প্রায় সবদেশের মানুষদের রয়েছে নিজস্ব কিছু আচার অনুষ্ঠান বা পরম্পরা, যা অনুশীলন করা বা যার অভ্যাস জীবনের মাইলস্টোন হয়ে দাঁড়িয়েছে – জম্ম, বিবাহ, প্রাপ্তবয়স্কে রূপান্তর এবং মৃত্যু সবকিছুকে নিয়েই বিভিন্ন  ধর্ম এবং সম্প্রদায়ের মানুষদের রয়েছে বিভিন্ন ধর্মানুষ্ঠান বা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য যা কিছুটা অস্বাভাবিক বা উদ্ভট মনে হতে পারে। আসুন সবাই মিলে জেনে নেই বিশ্বের শ্রেষ্ঠ দশটি বিচিত্র অনুষ্ঠান……

১০. তামিল হিন্দুদের “থাইপুসাম”(Thaipusam) উদযাপন :

মূলত, তামিল সম্প্রদায়ের মধ্যে এই ধর্মানুষ্ঠানটি দেখা যায়। এই অনুষ্ঠানটি “থাইপাসুম” নামে পরিচিত। এই অনুষ্ঠানে তামিলরা ভগবান মুরুগনের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন স্বরূপ দেহের বিভিন্ন জায়গায় চামড়া ছিদ্র করে তাতে লোহার রড বা বর্শা বিঁধিয়ে রাখেন।

তামিল সংস্কৃতি মতে,ভগবান মুরুগন সুরাপাদ্মান নামে এক প্রতিহিংসাপরায়ণ আত্মাকে বর্শা দ্বারা বধ করেছিলেন। সেই থেকে এই সম্প্রদায়ের লোকেদের মতে এই ভাবে দেহে বর্শা বিঁধিয়ে যেকোনো পাপী আত্মাকে মারা যায়, তাই প্রতি বছর ভগবান মুরুগনের জন্মতিথিতে প্রচুর সংখ্যক ভক্তরা দেহের বিভিন্ন জায়গায় বর্শা বিঁধিয়ে শোভা যাত্রা নিয়ে বেরোয়। সময়ের সাথে সাথে এই অনুষ্ঠান আরও নাটকীয়, রঙিন এবং রক্তাক্ত হয়ে উঠছে। ত্বকের সাথে সাথে কেউ কেউ জিহ্বাতেও বর্শা বিঁধছে, এমনকি পীঠের চামড়ায় বর্শা বিঁধিয়ে তার সাথে দড়ি বেঁধে রক্তাক্ত অবস্থায় ভারী যানবাহনও টেনে নিয়ে যাচ্ছেন।

. আকাশ সমাধি

সব মানুষের মৃত্যুর পর তার অন্তিমসংস্কার করা হয়। প্রত্যেক ধর্ম -পরম্পরার রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন অন্তিমসংস্কারের বিধি। কিন্তু এই পৃথিবীতে এমন কিছু রীতিও রয়েছে যার এই প্রক্রিয়া খুবই ভয়ানক ও বীভৎস। এমনই একটি হল তিব্বতের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের। হাজার হাজার বছর ধরে এই সমুদায় নিজেদের অন্তিমসংস্কার যা ‘ঝাটোর’ বা আকাশ সমাধি নামে পরিচিত রূপে পালন করে আসছে।

এই তিব্বতি প্রক্রিয়া আনুসারে মৃতদেহকে পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত শশ্মানে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে পুরোহিতের পুজার্চনা করার পর শশ্মান কর্মচারী এসে মৃতদেহকে ছোট ছোট টুকরো করে কাটেন, আর সেই টুকরো গুলিতে আটার মিশ্রন লাগিয়ে সেইগুলিকে শকুনদের খাওয়ানো হয়। তিব্বতিদের মতে উঁচু পাহাড়ে এদের বসবাস হওয়ায় ওখানকার জমি পাথুরে হয় যা খোঁদাই করে মাটিতে সমাধি দেওয়া সম্ভব হয় না অথবা ওখানে স্বল্পসংখ্যক গাছপালা হওয়ায় কাঠ দিয়ে দাহ করাও সম্ভব হয় না, তাই তিব্বতিরা বেছে নেয় আকাশ সমাধি।

পার্সি সম্প্রদায়ের লোকেরাও মৃতদেহকে মাংসাশী পাখীদের ভোজন রূপে অন্তিমসংস্কার করে থাকে। তবে তিব্বতি বৌদ্ধের প্রক্রিয়াটি খুবই উদ্ভট।

 

. Bullet Ant Gloves :

অ্যামাজনের (Amazon) সাটেরে- মাবে (Satere- Mawe) নামের আদিবাসীদের এক বিচিত্র ও সবথেকে বেদানাদায়ক অনুষ্ঠান হল ‘বুলেট অ্যান্ট গ্লাবস’। অ্যামাজনের জঙ্গলে পাওয়া যায় এক প্রজাতির পিঁপড়ে যার দংশনের পীড়া বুলেটের মত বেদনাদায়ক সেই থেকে এই পিঁপড়ের নাম বুলেট অ্যান্ট।

এই আদিবাসীদের রয়েছে এক খুবই বিচিত্র অনুষ্ঠান বা রীতি, এই প্রথা অনুযায়ী যখন কোন বালক তার যৌন রূপে সক্ষম হয়ে প্রাপ্ত বয়স্কে পরিণীত হয় তখন তাকে যেতে হয় জংগলে বুলেট অ্যান্ট সংগ্রহ করার জন্য। এই পিঁপড়ে গুলিকে সংগ্রহ করে কিছু রাসায়নিক দ্বারা এইগুলিকে মাদকাসক্ত করা হয়। পিঁপড়ে গুলি যখন ঘুমিয়ে পড়ে তখন এইগুলিকে ডালা হয় এক হাতে বোনা জালের দস্তানার মধ্যে। যখন পিঁপড়ে গুলো সক্রিয় হয়ে উঠে তখন নিজেদের এক জায়গায় বন্ধী পেয়ে খুবই রাগী ও আক্রমণাত্মক হয়ে যায়। সেই অবস্থায় বালককে তার এক হাত সেই দস্তানার মধ্যে প্রায় দশ মিনিট অব্দি রাখতে হয় আর সহ্য করতে হয় প্রচণ্ড বেদানাদায়ক দংশন। অন্য আদিবাসীরা নাচগান করে এই অনুষ্ঠানটি পালন করে। এই সমুদায়ের আদিবাসীদের নিজাদের পুরুষত্ব প্রমানের জন্য প্রায় কুড়ি বার এই ব্যথা সহ্য করতে হয়।

 

. ইয়ানমামির(Yanomami) সমাধির রীতি :

ইয়ানমামি হল ভানেজুয়েলা ও ব্রাজিলের এক আদিবাসী সম্প্রদায়। মৃত ব্যাক্তির আত্মার শান্তির কামনা তাদের জন্য খুবই জরুরী। তাই আত্মীয় পরিজনের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া নিয়ে ইয়ানমামি সম্প্রদায়ের আদিবাসীদের রয়েছে এক অদভুত নিয়ম।

যখন কোন ইয়ানমামির মৃত্যু হয় তখন তার দেহ দাহ করা হয়। দাহ করার পর তার ছাই ও হাড়ের গুঁড়ো স্যুপে মিশানো হয়। সেই মৃত ব্যাক্তির আত্মীয় পরিজনরা এই ছাই মিশানো স্যুপ পান করে থাকেন। তাদের মতে কোন প্রিয়জনের মৃত্যুর পর তার দেহের অবশিষ্ট যদি এইভাবে পান করা হয় তবে সেই ব্যাক্তির আত্মা তাদের নিজেদের মধ্যেই সর্বদা জীবিত থাকে। মৃত ব্যাক্তির আত্মা যদি কোন প্রিয়জনের দেহ না পায় তবে সে অসুখী হয়ে যাবে। আর এই বিশ্বাস এর জন্যই মৃত ব্যাক্তির আত্মাকে তাড়াতাড়ি ফিরে পাবার জন্য তারা এর যত কম সময়ে সম্ভব দাহ করে দেয়।

 

. দাঁত ফাইলিং বা  Tooth Filing :

 

হিন্দু বালিনীয় (Balinese) সম্প্রদায়ের বৃহত্তম অনুষ্ঠান হল, দাঁত ফাইলিং বা Tooth Filing। এই অনুষ্ঠানটি স্ত্রী পুরুষ সবার ক্ষেত্রে বয়ঃসন্ধি থেকে প্রাপ্ত বয়স্কে পরিণীত হওয়ার উপলক্ষে করা হয়ে থাকে। এই প্রথাটি বিবাহ অনুষ্ঠানের সাথে জড়িত, প্রত্যেক স্ত্রী পুরুষ কে তাদের বিবাহের আগে সম্পূর্ণ করতে হয়।

দাঁতের পলিশিং এবং ফাইলিং এর দ্বারা এই প্রথাটি নিষ্পন্ন করা হয়ে থাকে। হিন্দু বালিনীয়দের মতে দাঁত হচ্ছে হিংসা, ক্ষুধা, রাগ, বিশৃঙ্খলা এবং সন্দেহের প্রতীক আর এই অনুষ্ঠানটি অদৃশ্য পাপ শক্তি থেকে মুক্ত করে। এর দ্বারা ব্যাক্তি শারীরিক ও আধ্যাত্মিক ভাবে পরিপুন্ন হয়ে উঠে। কিশোর অবস্থা থেকে পরিণত যৌন রূপে বিশেষ করে মেয়েদের জন্যও প্রতীক এই অনুষ্ঠানটি।

 

. টিডং (Tidong) সম্প্রদায়ের বাথরুম নিষিদ্ধ :

ইন্দোনেশিয়ার(Indonesian) টিডং সম্প্রদায়ের বিবাহ প্রথা সত্যিকারে খুবই বিরল। এই বিবাহের খুবই মজাদার দিক হল নব বর যতক্ষণ অবধি বেশ  কয়েকটি প্রেম সংগীত বধূকে না শোনাবে ততক্ষণ অবধি একে অপরের মুখ দরশন করতে পারবে না। বিয়ের বাড়িতে পর্দা দিয়ে আলাদা করা থাকে বর বধূকে, বর দ্বারা সংগীতের প্রয়োজন মেটানোর পরই এই পর্দা সরানো হয়ে থাকে। কিন্তু  এই টিডং সম্প্রদায়ের বিবাহের সবচাইতে বিচিত্র নিয়ম হল বিয়ের পর নব দম্পতিকে তিন দিন ও রাত বাথরুমে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয় না। এর পিছনে এদের বিশ্বাস যে এই প্রথা না মানলে বর বধূর বিবাহ জীবনে আসতে পারে ভয়ানক দুর্যোগ ,বিবাহ বিচ্ছেদ, বিশ্বাসঘাতকতা বা হ সন্তানের খুব অল্প বয়সে মৃত্যু। তাই নব দম্পতির উপর কিছু লোক নজর রাখে  এবং  দেওয়া হয় সামান্য পরিমাণ খাদ্য ও পানীয়। তিনদিন অতিবাহিত হওয়ার পর দম্পতিরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে।

 

.মৃত ব্যাক্তির সাথে নৃত্যের উৎসবFamadihana” :

Madagascar দেশের আদিবাসীদের এক ঐতিহ্যবাহী উৎসব হল “Famadihana”। এই উৎসবটি আদিবাসীদের এক ঐতিহ্যবাহী সমাধি উৎসব, যেখানে পরিবারের সদস্যরা তাদের পূর্বপুরুষদের হাড় হয়ে যাওয়া মৃত দেহকে পুনরায় কবর থেকে বের নতুন পোশাক পরিয়ে মৃতদেহগুলোর সাথে কবরের চারিদিকে সংগীত বাজিয়ে নৃত্য করা হয়।

প্রতি সাত বছরে এই উৎসবটি পালন করা হয়ে থাকে। পূর্ব পুরুষদের এই অনুষ্ঠানটি দ্বারা সম্মান জানানো হয়, তাদের কবরকে পুনরায় নতুন ভাবে বানানো হয় এবং পরানো হয় নতুন কাপড়। মৃত ব্যাক্তির সকল আত্মীয় পরিজনদের নিমন্ত্রিত করা হয়, তার দ্বারা নিজেদের মধ্যে সম্পর্ক আরও গভীর হয়। সকল পরিজনরা নতুন বস্ত্র পরিধান করে মৃত ব্যাক্তির অবশিষ্ট অংশকে নিয়ে নতুন কাপড় পরিয়ে তাকে কাঁধে নিয়ে নৃত্য করে থাকেন। এই উৎসবের পিছনে তাদের মূল বিশ্বাস যে মৃত ব্যাক্তি ভগবান রূপে বা পুনঃ জম্ম হয়ে ফিরে আসে।

 

. ডানি( Dani) আদিবাসীদের আঙ্গুল কাঁটা :

New Guinea দেশের উর্বর উপত্যকা, বালিয়েম (Baliem) শহরের বাসিন্দারা হল ‘ডানি'(বা Ndani) আদিবাসীরা। এই আদিবাসীর সদস্যরা অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে নিজেদের শোক প্রদর্শনের জন্য হাতের আঙ্গুল কেটে ফেলেন। অঙ্গচ্ছেদ ছাড়াও দুঃখের অভিব্যক্তি সরূপ তারা মুখে মেখে নেয় কাঁদা ও ছাই।

ডানি সম্প্রদায়ের আদিবাসীরা নিজের খুব কাছের পরিজনের মৃত্যুর শোকে আঙ্গুল কেটে থাকেন, যেমন স্বামী বা স্ত্রী র মৃত্যুর পর তার মৃতদেহের সাথে স্বামী বা স্ত্রীর হাতের আঙ্গুলও তার প্রেমের প্রতীক হিসেবে চিতায় দাহ করা হয়। তাদের মতে হাতের আঙ্গুল তার জীবন সঙ্গিনীর সাথে দেহ ও আত্মার প্রতিনিধিত্ব করে। শুধু স্বামীস্ত্রী জন্য নয়, পিতা মাতা, ভাই বোন অথবা সন্তানের মৃত্যুতেও এরা শোক সরূপ আঙ্গুল কেটে থাকেন, হতে পারে এই ভাবে বয়সকাল অব্ধি হাতে কোন আঙ্গুলই আর অবশিষ্ট থাকে না নিজের কাজের জন্য।

 

. ভারতবর্ষের শিশু ছুড়ে ফেলার রীতি :

শুনে খুবই অবাক লাগছে তাই তো!  ভারতবর্ষে রয়েছে এমন এক উদ্ভট প্রথা যেখানে নব জাত শিশুকে প্রায় ৫০ফুট উঁচু থেকে নীচে ফেলে দেওয়া হয় আর নীচে তাকে লুফে নেওয়া হয় চাদরে। প্রায় ৫০০ বছর ধরে এই প্রথা চলে আসছে কর্ণাটকের ইন্দি শহরের নিকটবর্তী শ্রী শান্তেস্বর মন্দিরে। যেই সব নিঃসন্তান দম্পতীরা এই মন্দিরের ব্রত করার পর সন্তান লাভ করে থাকেন তারা এই প্রথা পূর্ণ করে থাকেন। হিন্দু মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে দেখা যায় এই রীতি।

খুব কড়া নিরাপত্তার মধ্যে প্রতি বছর ডিসেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে পালন করা হয়ে থাকে এই অনুষ্ঠানটি। প্রায় ২০০ জনের মত নবজাত বা দুই বছরের মধ্যে শিশুকে প্রতি বছর তাদের মাতা পিতা দ্বারা এই অনুষ্ঠানটি পালন করা হয়ে থাকে। মাতা পিতার বিশ্বাস এর দ্বারা তাদের সন্তানের স্বাস্থ্য ও ভাগ্য উজ্জ্বল হয়ে উঠবে। যদিও আজ অব্ধবি এই অনুষ্ঠানের ফলে কোন শিশুর হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

 

. মহরমের শোক :

 

ইসলামীয় ক্যালেনডারের প্রথম মাসে উদযাপন করা মহরমের শোক ‘শিয়া’ মুসলমানদের খুবই গুরুত্বপূর্ণ প্রথা। মহরমকে নিজেদের জন্য শান্তি ও আত্ম ত্যাগের সরূপ হিসেবে পালন করা হয়ে থাকে। এই প্রথাটি কারবালা লড়াইয়ের স্মরণ সরূপ হিসাবে প্রতীক হয়ে আছে।

এই লড়াইয়ে হজরত মুহাম্মদ এর পৌত্র ইমাম হুসেইন এবং একজন শিয়া ইমাম, দ্বিতীয় উমাইয়া খলীফা ইয়াজীদ আই বাহিনী দ্বারা মারা যান।

প্রায় দশদিন ব্যাপী এই প্রথাটি পালন করা হয়ে থাকে। এই দশদিনকে ইসলামে “আশুরা দিন” বলা হয়ে থাকে। এই দশদিনে শিয়া মুসলিমরা কালো কাপড় পড়ে বের হন আর নিজেদের শরীরে রেজার বা চাকু যুক্ত চাবুক দিয়ে আঘাত বা রক্তপাত করেন বা বুক চাপড়িয়ে শোক ব্যক্ত করেন। তাদের মতে কারবালা লড়াইয়ে শিয়া ইমামের সাথে থাকলে হয়ত ওনাকে বাঁচাতে পারতেন অথবা নিজেরাও শহীদ হতে পারতেন। আর এইভাবে সব অশুভ শক্তির নাশ হয় ও আল্লাহ্‌ তাদের সমস্ত রকম পাপকে ক্ষমা করে দেন।

 

অবশেষে এটাই বলতে চাই পৃথিবী জুড়ে সব রকম ধর্মের মানুষদের রয়েছে নিজস্ব রীতি নীতি, আর এই সবের অন্তে নিজেদের ও জগতের মঙ্গল কামনাই মূল উদ্দেশ্য।

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...

খবর এক নজরে…

No comments found

Sponsored~

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.