খবর ২৪ ঘন্টা

গ্রীষ্মের ছুটিতে পাড়ি দিন কয়েকটি বাছাই করা হিল স্টেশনে

শেয়ার করুন সকলের সাথে...

গ্রীষ্মের ছুটিতে পাড়ি দিন কয়েকটি বাছাই করা হিল স্টেশনে :

 

এসে গেল গ্রীষ্মকালীন ছুটি বা summer vacation. গরমের দাবদাহ ও দৈনন্দিন জীবনের এই ব্যাস্ততা থেকে দূরে আমরা সবাই চাই এই সময়টাতে একটু ঘুরে আসি কোন পাহাড়ি উপত্যকা বা কোন শীতলতম জায়গা থেকে। এই পাতায় দেওয়া রয়েছে এমনই কিছু  বাছাই করা ” Hill Station”…..

ধর্মশালা ( Dharamshala ) :

হিমাচল প্রদেশের কাঙরা (kangra)  উপত্যকার, একটি ছোট পার্বতীও শহর ধর্মশালা। প্রাকৃতিক প্রেমীদের জন্য ধর্মশালা হচ্ছে অন্যতম উপযুক্ত স্থান।  চোখ জুড়ানো পর্বতমালা ছাড়াও এখানে রয়েছে অ্যাডভেঞ্চার ট্যুর ও প্যারা গ্ল্যাইডিঙ্গ (para-gliding)এর সুবিধে। তিব্বতি-বৌদ্ধ ধর্মের প্রমুখ কেন্দ্র ম্যাকলিয়ডগঞ্জ (mcleodganj) এ রয়েছে, “দালাই লামা” Dalai Lama temple। অন্যান্য দর্শনীও স্থান গুলি হল কাঙরা মিউজিয়াম (Kangra museum),ডাল লেক (Dal lake),বাগসুনাগ ফলস( Bhagsunag waterfalls)।

উপযুক্ত সময় : মার্চ থেকে জুলাই।

তাপমান : 22’C – 38’C ।

 

মানালী ( Manali ) :

হিমাচলের রাজধানী সিমলা থেকে ২৫০কিমি দূরে অবস্থিত মানালী, গ্রীষ্মকালে ভ্রমনাথীর অন্যতম পছন্দের জায়গা। এখানে রয়েছে প্রচুর আপেল বাগান, হিমালয়ান ন্যাশনাল পার্ক, হিডিম্বা মন্দির, সোলাংগ ঘাটি, রোহতাংগ পাস, পণদোহ বাঁধ, রঘুনাথ মন্দির ও জগন্ননাথি দেবী মন্দির।

মাউন্টেন বাইকিং এর জন্যও মানালি প্রসিদ্ধ, এছাড়া রয়েছে পর্বতারোহণ, রিভার রাফটিং, ট্র্যাকিং এর সুবিধে। সেপ্টেম্বর হল মাউন্টেন বাইকিং এর জন্য উপযুক্ত সময়, এই সময়টাতে রাস্তায় বরফ জমা হয় না।

উপযুক্ত সময় : মার্চ থেকে জুন।

তাপমান : 15’C – 25’C

 

 লাদাখ (Ladakh) :

 

     “Indus”বা সিন্ধু নদীর তীরে অবস্থিত লাদাখ জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যের এক প্রসিদ্ধ পর্যটন স্থান। লাস্ট সংগ্রিলা বা লিটিল তিব্বত নামেও পরিচিত। প্রধান শহর ‘লেহ’ ছাড়া রয়েছে অলচী, নুব্রা ঘাটি, কারগিল, জাস্কর ঘাটি। এখানকার সুন্দর ঝিল আর মঠ মনকে খুব মুগ্ধ করে। বৌদ্ধধর্মের- হমিস মঠ, শঙ্কর গম্পা, মাথো মঠ সবথেকে উল্লেখনীয় মঠ।

অ্যাডভেঞ্চার ট্যুর হিসাবে লাদাখ বাইক ট্যুর খুবই রোমাঞ্চকর এবং এর জন্য দেশ বিদেশ থেকে প্রতিবছর প্রচুর পর্যটকরা এখানে আসেন।

উপযুক্ত সময় : মে – সেপ্টেম্বর।

তাপমান : 20’C – 33’C

 

পার্বতী ভ্যালি (Parvati valley) :

 

  হিমাচল প্রদেশের কুল্লু জেলায় অবস্থিত পার্বতী ভ্যালি  রোমাঞ্চকারী  ভ্রমনাথীর কাছে জনপ্রিয়। পার্বতী ভ্যালি কে “Lonely valley” ও বলা হয়ে থাকে। পার্বতী নদীর তীরে অবস্থিত এই জায়গা গরমের ছুটিতে ক্যাম্প এর জন্য উপযুক্ত স্থান।  “রুদ্র নাগ”, সর্পকার আকারের জলপ্রপাত, ক্ষীরগঙ্গার(Khirganga) পাইন জঙ্গল- পৌরাণিক মতে যা ভগবান শিবের ধ্যানকেন্দ্র, এর প্রধান পর্যটক স্থান। অন্যান্য স্থানগুলি হল মানিকরন( Manikaran), কাসল(kasol), তোষ(tosh).

উপযুক্ত সময়: মার্চ থেকে জুন।

তাপমান: 20’C – 25’C .

 

 স্পাইটি( Spiti):

 

     Spiti বা “ছোট Tibet”, হিমাচল প্রদেশের হিমালয় পর্বতমালার এক দূরবর্তী উপত্যকা। দৈনন্দিন জীবনের আধুনিকতার দূরে স্পাইটি র প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আকর্ষণীয় ল্যান্ডস্কেপ, হিমবাহ ও আদিম পরিবেশ সবাইকে আকৃষ্ট করে। থাকার জন্য  সরকারী ও প্রাইভেট গেস্ট হাউস রয়েছে, এছাড়াও কিছু কিছু গ্রামে আপনি পেয়ে যেতে পারেন home stay র সুবিধেও। গ্রীষ্ম কাল এর ভ্রমণের উপযুক্ত সময়, কারণ শিতকালিন বরফের জন্য প্রায় চার থেকে পাঁচ মাস এর যাতায়াত এর পথ অবরোধ থাকে।

উপযুক্ত সময়: মে থেকে সেপ্টেম্বর।

তাপমান : 15’C – 25’C .

 

মেঘালয়া (Meghalaya or “Scotland of the East”) :

মেঘালয়া উত্তর পূর্ব ভারতের সবথেকে wettest জায়গা। শহরের তাড়াহুড়া- ছুটাছুটি থেকে দূরে মেঘালয়া ব্যাকপ্যাকারদের জন্য উৎকৃষ্ট জায়গা। রাজধানী শিলং এ রয়েছে সম্মোহিত করার মত জল্প্রপাত, টলটলে হ্রদ, নজর কাড়ার মত পাহাড়। বৃষ্টিপাতের জন্য এখানের চেরাপুঞ্জি বিশ্ববিখ্যাত। ভ্রমণ করে আসুন অবিশ্বাস্য, “Living Root Bridge” ।

উপযুক্ত সময়:  এপ্রিল থেকে আগস্ট।

 তাপমান: 15’C – 25’C।

 

দার্জিলিং (Darjeeling):

পশ্চিম-বঙ্গ রাজ্যে অবস্থিত দার্জিলিং খুবই জনপ্রিয় হিল ষ্টেশন। প্রায় নয় হাজার ফুট উঁচুতে অবস্থিত “টাইগার হিল” থেকে হিমালয়ার তৃত্রিয়তম উচ্চ পর্বতশিঙ্ঘ, “কাঞ্চনজঙ্ঘা” খুবই অপূর্ব দেখায়। এখানকার টয় ট্রেন ও চা-বাগানের জন্য প্রতিবছর দেশ বিদেশ থেকে প্রচুর পর্যটকরা আসেন।

উপযুক্ত সময় : এপ্রিল থেকে জুন, শীতকালীন সময় অক্টোবর থেকে ডিসেম্বের ।

তাপমান  : 20’C – 25’C

 

হৃষীকেশ (Rishikesh) :

উত্তরাখণ্ড রাজ্যের অন্যতম তীর্থস্থান হল হৃষীকেশ, যা “দেব ভূমি” নামেও পরিচিত। এখানে রয়েছে প্রাচীন মন্দির ও আশ্রম যা ধ্যান ও যোগ সাধনার কেন্দ্র। প্রাচীনকাল থেকেই অনেক যোগী, মুনি, ঋষি, এমনকি বিদেশী পর্যাটকরাও যোগ সাধনার জন্য এখানে আসছেন, তাই পৃথিবীতে হৃষীকেশকে যোগ সাধনার রাজধানীও বলা হয়ে থাকে। এখানে রয়েছে বিখ্যাত “লক্ষণ ঝুলা” , যা পৌরাণিক মতে ভগবান লক্ষণ গঙ্গা নদী পার করার জন্য বানান। অন্যদিকে হৃষীকেশে রয়েছে প্রচুর দুঃসাহসিক বা adventurous activity যেমন – রিভার রাফটিং, পর্বতারোহণ, বাঙ্গি জাম্পিং( bungee jumping)।

উপযুক্ত সময়:  সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর ।

তাপমান : 25’C – 35’C

 

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...