এলিয়েনরা সত্যিই এসেছিলঃ বিশ্বাস না হলে দেখুন সাতটি অকাট্য প্রমাণ(চিত্র)…..

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 612
    Shares

web Desk:  আজও অনেকে বিশ্বাস করেন বিশ্বের প্রাচীন সভ্যতার বেশ কিছু স্থাপত্য ভিনগ্রহের অধিবাসীরা তৈরি করেছেন। আসুন দেখে নেওয়া যাক সপ্ত বিস্ময়ের আদিম এলিয়নদের কথা।


১. নাসকা লাইনস

লিমা পেরুর রাজধানী, সেখান থেকে প্রায় ২০০ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে এই স্থানটি অবস্থিত। এই স্থানটি মূলত মালভূমি হওয়ায় অত্যন্ত শুষ্ক । এই মালভূমিতেই অঙ্কিত রয়েছে প্রায় আটশ দীর্ঘ রেখা। এই রেখাগুলি এতই বড় যে আকাশ থেকে দেখলেই সঠিকভাবে বোঝা যায়। আর এ রেখাগুলোর মাধ্যমে ৩০০টি গাণিতিক চিহ্ন ও ৭০টি প্রাণীর অবয়ব ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। তার মধ্যে দেখা যায় মাকড়সা, বাঁদর ও পাখিরও অবয়ব। এ অবয়বগুলোর কিছু কিছু কয়েক মাইল দীর্ঘ। এ অঙ্কনগুলো অবশ্য সাম্প্রতিক কোনো চিহ্ন নয়। গবেষকরা জানিয়েছেন এগুলো প্রায় দুই হাজার বছরের পুরনো। কিন্তু কেন এই অবয়বগুলো আঁকা হয়েছে তা মানুষের কাছে এক বিস্ময়। এত আগে এ ধরনের চিহ্ন আঁকার জন্য মানুষের হাতে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা ছিল না বলেই মনে করেন বহু গবেষক। ফলে তাদের ধারণা এটি ভিন্নগ্রহের অধিবাসীদের কীর্তি।

২. মিশরের পিরামিড

মিশরের রাজধানী কায়রোর ঠিক বাইরে গিজা অঞ্চলে রয়েছে মিশরের সেই আশ্চর্য পিরামিড। এটি তৈরি করা হয়েছে মরুভূমির মাঝে। সাড়ে চার হাজার বছর আগে পিরামিড নির্মিত হয়েছে। সে সময় ফ্যারাও শাসকদের সমাধি হিসেবে ব্যবহৃত হয় পিরামিড। অনেকের কাছেই পিরামিডের নির্মাণ এক বিস্ময়কর বিষয়। কারণ সাড়ে চার হাজার বছর আগে এত বিপুল পাথর বহন করা প্রায় অসম্ভব ছিল। পিরামিডের পাথরগুলোর সর্বনিম্ন ওজন ছিল প্রায় দুই টন। আর কিভাবে এত বিশাল স্থাপত্য নিপুণভাবে তৈরি করা হতো তা বিস্ময়কর। যদিও অনেকেই বলেন ক্রীতদাসদের কাজে লাগিয়ে এসব তৈরি করা হত। কিন্তু নির্দিষ্ট কোনও ব্যাখ্যা আজও নেই। সেই কারণে অনেকেই ধারণা করেন ভিনগ্রহের অধিবাসীরা ছাড়া পিরামিড নির্মাণ করা অসম্ভব।

৩. স্যাকসাহিউম্যান

ইনকা সভ্যতার রাজধানী কাসকো দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত। তারই বাইরের অংশে একটি দুর্গ রয়েছে যার নাম স্যাকসাহিউম্যান। পেরুর আন্দিজ পর্বতমালাতে রয়েছে এই স্থানটি। এই স্থানটি তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছে অসংখ্য পাথর। এ পাথরগুলো নিখুঁতভাবে কাটতে হয়েছে নির্মাতাদের। কিন্তু এই স্থাপত্য প্রায় এক হাজার বছরের পুরনো। ততদিন আগে সেখানে কিভাবে নিখুঁতভাবে এই স্থাপত্য নির্মিত হয়েছে, এটি মানুষের কাছে আজও এক বিস্ময়। অনেকেরই ধারনা এই স্থাপত্য তৈরিতে ভিনগ্রহের অধিবাসীরা সহায়তা করেছেন। তার কারণ এর অনেক পাথরের ওজন ৩৬০ টন পর্যন্ত রয়েছে। আর এগুলো নির্মাণের জন্য ২০ মাইলেরও বেশি দূর থেকে নির্মাণস্থলে নিয়ে আসা হয়েছে। তারপর তা নিখুঁতভাবে দুর্গটিতে সেগুলো স্থাপন করে তৈরি করা হয়েছে।

৪. ইস্টার আইল্যান্ড

বিখ্যাত ইস্টার আইল্যান্ড দ্বীপটি অতিকায় কিছু মূর্তির জন্য আজ সকলের কাছে পরিচিত। দ্বীপটি চিলির প্রায় ২০০ মাইল পশ্চিমে অবস্থিত। প্রায় এক হাজার বছরের পুরনো প্রায় ৯০০টি মূর্তি রয়েছে এই দ্বীপে। মূর্তিগুলোর মাথা শুধু মাটির ওপরে, শরীরের বাকি অংশ মাটির নিচে। এই মূর্তিগুলির শরীরও যে মাটির নিচে লুকানো অবস্থায় আছে তা আর্কিওলজিস্ট বা পুরাতত্ত্ববিদরা প্রথম জানতে পারেন ১০০ বছর আগে, ১৯১৪ সালে যখন প্রথম এই দ্বীপে পুরাতাত্ত্বিক গবেষণা শুরু হয়। কী কারণে এ মূর্তিগুলো নির্মিত হলো, কিভাবেই বা তা মাটির নিচে গেল এসব বিষয় এখনো রহস্য।

৫. টেওটিহুয়াক্যান

মেক্সিকো সিটিতে টেওটিহুয়াক্যান অবস্থিত। প্রাচীন এই পিরামিডের মতো স্থাপনাটি প্রায় দুই হাজার বছর আগে নির্মিত। টেওটিহুয়াক্যান শব্দের অর্থ দেবতাদের শহর। এই স্থাপত্যটি মানুষ তৈরি করেছে। তবে তার আকার ও জটিল নির্মাণশৈলির কারণে বিষয়টি সত্যিই বিস্ময়কর। কিন্তু কী কারণে প্রায় লাখখানেক মানুষ মিলে এত বড় স্থাপত্য তৈরি করেছেন মানুষের বিস্ময়ে তার উত্তর পাওয়া যায়নি।

৬. মঙ্গলের রহস্যময় মুখ

মঙ্গলগ্রহে মানুষের মুখের মতো দেখতে একটি পাথরের সন্ধান পাওয়া যায় ১৯৭৬ সালে। এটির ছবি তোলা হয় ভাইকিং ১ অরবিটারের সহায়তায়। কথিত এ ‌ফেস অন মার্স’ প্রায় দুই মাইল দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট। মঙ্গলগ্রহের সাইডোনিয়া অঞ্চলে এটি অবস্থিত। ছবিটি পৃথিবীতে প্রচারিত হওয়ার পরই জনপ্রিয়তা পায়। গবেষকরা সে সময় জানিয়েছিলেন, এটি শুধুই পাথর ও ছায়া, যা কাকতালীয়ভাবে মানুষের মুখের অবয়ব প্রকাশ করেছে। তবে বিষয়টি মানুষের মাঝে জনপ্রিয়তা পায় অবার ২০০১ সালে। সেই বছর ঐ স্থানের আরও ছবি তোলা হয়। সেসব ছবিতে আর মুখের বিষয়টি পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টিকে এখনো বহু মানুষ রহস্যজনক ও ভিনগ্রহের অধিবাসীদের কীর্তি বলেই ভাবেন।

৭. স্টোনহেঞ্জ

স্টোনহেঞ্জ ইংল্যান্ডে অবস্থিত। ইংল্যান্ডের স্যালিসবারিতে বিশালাকার পাথরের এক বৃত্তাকার স্থাপত্য রয়েছে। স্টোনহেঞ্জ নামে পরিচিত সেই স্থানটিতে যে পাথরগুলো ব্যবহৃত হয়েছে তার কিছু কিছুর ওজন ৫০ টন মতো। সুইস লেখক এরিখ ভন ড্যানিকেন জানিয়েছেন, স্টোনহেঞ্জ মূলত সৌরজগতের মডেল। এছাড়া এটি ভিনগ্রহের অধিবাসীদের অবতরণক্ষেত্রও হতে পারে। স্টোনহেঞ্জ নির্মাণের জন্য এই পাথরগুলো কয়েকশ মাইল দূর থেকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। আর এ কারণে বিষয়টি খুবই রহস্যজনক। এছাড়া ঠিক কী কারণে এখানে পাথরগুলো বিন্যস্ত করা হয়েছে তাও অজানা। আর এই স্থাপত্যটি প্রায় পাঁচ হাজার বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছে।

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...
  • 612
    Shares

খবর এক নজরে…

No comments found

Sponsored~

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.