খবর ২৪ ঘন্টা

দেশের ১০ টি আশ্চর্যতম স্থান… যেখানে আপনাকে ঘুরে আসতেই হবে

শেয়ার করুন সকলের সাথে...

ভারতে বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে আছে এমনি অদ্ভত কিছু জায়েগা যেখানে আপনার একবার ঘুরে আসা উচিত, অলৌকিক এবং বিরল ইতিহাস নিয়ে দাড়িয়ে থাকা এই সব দ্রষ্টব্যস্থান এর থেকে বেছে নেওয়া কয়েকটি রইল এই পাতায়ঃ

১- ভানগড় ফোর্ট

 রাজস্থান এর সারিস্কা  টাইগার রিজার্ভ  ও আলওয়ার জেলার সীমান্তে অবস্থিত   ভানগড়  ফোর্ট  একটি সপ্তদশ শতকের দুর্গ, এটি ভারতের সবথেকে “ভৌতিক, কুখ্যাত,এবং  পোড়ো জায়গা “, কারণ অনেক ভৌতিক অভিজ্ঞতা এবং দুর্গ চত্বরে অশরীরীর প্রমাণ বারবার পাওয়া গেছে।

এমনকি ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা বা Archaeological Survey of India রাতে দুর্গের প্রবেশ থেকে স্থানীয় এবং পর্যটকদের বিরত করতে  বোর্ড অব্ধি লাগিয়েছেন. এই সম্পূর্ণরূপে ধ্বংসপ্রাপ্ত, কে ঘিরে বেশ কিছু পৌরাণিক কাহিনী কেল্লায় নানান অস্বাভাবিক ঘটনা কে সত্যায়িত করেছে। 

 

২- কালাভান্টিন দূর্গ ঃ বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক দুর্গ

প্রবলগড় ফোর্ট যা কালাভান্টিন দুর্গ  নামেও পরিচিত, পশ্চিমঘাট পর্বতমালার ২৩০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত  এই দুর্গ বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক দুর্গ বলে পরিচিত। এটি মহারাষ্ট্রের মাথেরান এবং পানভেল এর মধ্যে অবস্থিত। এই দুর্গ উৎসাহীদের ট্রেকিং এর জন্য ভাল একটি পয়েন্ট। মুম্বাই-পুনে এক্সপ্রেসওয়ে থেকে এই দুর্গ দেখতে পাওয়া যায়ে।

৩- রুপকুন্ড ঃ কংকাল হ্রদ

রুপকুন্ড উত্তরাখণ্ড এর ৫০২৯ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত একটি হিমবাহ হ্রদ, স্থানীয় রা একে চেনে কংকাল হ্রদ বলে। তার কারন প্রায় ২০০ টির ও বেশী মানব কংকাল ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এই লেক জুড়ে, জানা যায় নবম শতাব্দীর কোনও এক সময় বরফঝড়ের কবলে পড়ে এই লেকে মৃত্যু হয় এই সমস্ত তিব্বতি বাসিন্দা দের। শিলা-আকীর্ণ হিমবাহ এবং বরফ-পরিহিত পর্বত দ্বারা বেষ্টিত, এই হ্রদ একটি জনপ্রিয় ট্রেকিং গন্তব্য

এই অগভীর হ্রদের গভীরতা মাত্র দুই মিটার হওয়ার কারণে মানুষের দেহাবশেষের ও কংকাল গুলি আজও পরিস্কার চোখে পড়ে।

 ৪- লোঙ্গেওয়ালা 
১৯৭১ এর পাকিস্তান এর সাথে ভারতীয় সেনাবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর লড়াই এর ঐতিহাসিক স্মারক হিসেবে Longewala Battlefield  ওয়ার মেমোরিয়াল বিখ্যাত।   জাতিকে রক্ষা করার জন্য বীরত্বপূর্ণ যুদ্ধের ও ভারতীয় প্রতিরক্ষা ইতিহাসের একটি অবিচ্ছিন্ন অংশ এটি। বিখ্যাত হিন্দি সিনেমা Border এই লড়াই এর ই কাহিনী,  যুদ্ধে ব্যবহৃত সরঞ্জাম ও ব্যাটল-ট্যাঙ্ক প্রদর্শন হিসেবে রাখা আছে আজও  লোঙ্গেওয়ালায়। এই এলাকার খুব কাছেই অবস্থিত তন্নত-মাতা মন্দির যা এই সীমান্ত অঞ্চলের শেষ দর্শনীয় জায়গা।

৫- ধনুশকডি ঃ হারানো শহর

তামিলনাড়ুর  পাম্বান দ্বীপ এর দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তে  ধনুশকডি পরিচিত লস্ট-ল্যান্ড বা হারানো শহর নামে। ১৯৬৪ সালের বিধ্বংসী ঘুনিঝড়ে পুরো বসতি টিই জনমানুষহীন হয়ে যায় পড়ে থাকে শুধু হারানো শহরের ধ্বংসাবশেষ। হিন্দু মহাকাব্য মতে  রাম এখান থেকেই সেতুনির্মান করেন ১৮ মাইল দুরের  শ্রীলঙ্কার তালাইমান্নার অব্ধি। ধনুশকডির অর্থ “ধনুকের শেষ প্রান্ত”।

৬-  ব্যারেন আইল্যান্ড 

ব্যারেন আইল্যান্ড বা বন্ধ্যা দ্বীপ পোর্ট ব্লেয়ার থেকে ১৩৮ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত একটি দ্বীপ। এটি দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার এক মাত্র সক্রিয় আগ্নেয়গিরি (Active Volcano)। এই আগ্নেয়গিরিটি প্রথম নথিভুক্ত হয় ১৯৮৭ সালে, সেই থেকে ২০১৭ অবধি ১০ বার অগ্ন্যুৎপাত হয়েছে এতে।  ১৯৯১ সালে যে অগ্ন্যুৎপাত হয় সেটি ৬মাস স্থায়ী হয়েছিল এবং এর ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও হয়।

 

৭- কুল্ধারা ঃ ভূতুড়ে গ্রাম

স্বৈরাচারী এক শাসক এর অত্যাচার এর জন্য ৩০০বছর ধরে জনমানসহীন এই গ্রাম, জয়সলমীর থেকে মাত্র ১৭কিমি দূরে অবস্থিত এই গ্রাম আজও স্থানীয় লোকেদের মতে অভিশপ্ত। নানান অলৌকিক কাহিনী ও  ঘটনা র সাক্ষি হয়ে দাড়িয়ে আছে এই গ্রাম এর ঘরবাড়ি, মন্দির গুলি। আজ অব্ধি এই গ্রাম এ রাত কাটানোর সাহস খুব কম মানুষই পেয়েছেন

 

৮- চুম্বক পর্বত ঃ লেহ

লাদাখ থেকে লেহ- এর মাঝে এই জায়েগাটি কে বলা হয় Magnetic Hill যা চমক লাগিয়ে দিতে পারে যে কাউকে।

এখানে দৃষ্টি-বিভ্রম এ মনে হয় যেন যেকোনো গাড়ি মাধ্যাকর্ষণ এর বিপরিতে আপনা-আপনি উপর দিকে উঠছে, বাস্তবে তা  নিচে গড়িয়েই নামে। ভারতে এমন আরও দুটি পাহাড় আছে দুটিই গুজরাটে যেখানে ঠিক এমন বিভ্রমই ঘটে।

 

৯-চেরাপুঞ্জি

পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা বেশী বৃষ্টিপাত, জয়ন্তি আর খাসি পাহাড়ের সৌন্দর্য ছাড়াও বাড়তি পাওনা মেঘালয় এর এই জীবন্ত Root Bridge টি পূর্ব খাসি পাহারে অবস্থিত এই ব্রিজটি পুরোটাই তৈরি দুপারে অবস্থিত দুটি রবারগাছ দিয়ে, যা রোজ স্বাভাবিক বৃদ্ধি বজায়ে রাখে। দুইটি পৃথক তল বিশিষ্ট এই ব্রিজ রোজ হাজার-হাজার মানুষের ভার বহন করে চলেছে।

 

১০- সর্ববৃহৎ বট গাছ

হাওড়ার শিবপুর বোটানিক্যাল গার্ডেন এর এই বটগাছটি “পৃথিবীর সর্ব বৃহৎ গাছ” হিসাবে পরিচিত, যার মূলগাছ টি ১৯২৫ সালে বজ্রপাত এ নস্ট হয়ে যাওয়ায় কেটে ফেলতে হয়। তবুও ১৫,৬৬৫ স্কোয়ার মিটার ও ৩৫১১ টি শিকর নিয়ে বিস্তার করে আজও মাথা উঁচু করে দাড়িয়ে আছে ১২০০ বছর পুরনো এই বটগাছ। যা নিজেই তৈরি করেছে একটি জঙ্গল ও বহু পশু-পাখির এক বাস্তুতন্ত্র ।

Facebook Comments

শেয়ার করুন সকলের সাথে...